প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘ব্যাংক খাতে নৈতিকতার চর্চা বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে শক্তিশালী করা প্রয়োজন’

রমজান আলী : বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অর্থনীতিবিদ বিশ্বব্যাংকের ভারতের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. জুনায়েদ কামাল আহমাদ বলেন, ব্যাংক খাতে নৈতিকতার চর্চা বাড়ানোর জন্য প্রথমে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। খুব সহজে নৈতিকতার চর্চা চালু করা কঠিন। এজন্য আর্থিক ব্যবস্থায় সরকারি নীতি ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো শক্ত করতে হবে।

সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত ১৮তম নুরুল মতিন স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে নৈতিকতার চর্চা জোরদার করতে নিয়ন্ত্রণ কাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি সুশীল সমাজেরও অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের শক্তিশালী হওয়া জরুরি। কেননা নজরদারি না বাড়লে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় না। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারির পাশাপাশি ব্যাংক খাতকে সুশীল সমাজের বাড়তি নজরদারিতে (অ্যাডিশনাল ভয়েস) রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক আবদুর রহিম। ব্যাংক খাতে নৈতিকতার চর্চার জন্য এ ধরনের স্মারক বক্তৃতা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে জানান বিআইবিএমের মহাপরিচালক। উল্লেখ্য, ব্যাংক খাতে নৈতিকতা শীর্ষক এ বক্তৃতা অনুষ্ঠান ১৯৯৭ সাল থেকে চালু করেছে বিআইবিএম।

মূল প্রবন্ধে ড. জুনায়েদ বলেন, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং সব কর্মীকে সুশাসন বাস্তবাবায়নে একযোগে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর দুর্বলতার কারণে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় যাতে কোনো ধরনের গাফিলতি না থাকে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

ড. জুনায়েদ বলেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থা টেকসই করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে শক্তিশালী করতে হবে, যা ব্যাংকিং খাতের দক্ষতা বাড়াতেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে সুশীল সমাজের বিশেষ ভূমিকার ওপর জোরারোপ করে তিনি বলেন, আর্থিক ব্যবস্থায় ‘অ্যাডিশনাল ভয়েস’ হিসেবে সুশীল সমাজকে কাজ করতে হবে। সুশীল সমাজের এ নজরদারি ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য স্থাপনে সহায়ক হবে।

গভর্নর ফজলে কবির বলেন, কিছু অনিয়মের কারণে অর্জনগুলো মলিন হয়ে যায়। তবে ব্যাংক খাতের অনিয়মের কারণেই শুধু নয়, কিছু ঋণগ্রহণকারীর উচ্চাকাক্সক্ষাও ব্যাংক খাতের ঝুঁকি তৈরি করছে। কিছু ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে অনিয়মকারীদের যোগসাজশ ও প্রভাবশালী খেলাপির কারণে পুরো অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

ফজলে কবির বলেন, অনৈতিক চর্চাগুলো দীর্ঘদিন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আজকের স্মারক বক্তৃতার মাধ্যমে তরুণ ব্যাংকাররা সততা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবেন এবং ব্যাংক খাতে আরও পেশদারিত্বের দিকে অগ্রসর হবেন বলে আশা করেন তিনি।

উল্লেখ্য, এএফএম নুরুল মতিন ১৯২৮সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫১ সালে তদানীন্তন স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের গবেষণা বিভাগে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। পরে ১৯৬৩ সালে তার চাকরি ওই ব্যাংকের অপারেশন বিভাগে স্থানান্তরিত হয়। দীর্ঘ ব্যাংকিং জীবনে তিনি স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানে নির্বাহী পরিচালক, ইক্যুইটি পার্টিসিপেশন ফান্ডের নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ শিল্পব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান এবং পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্ণরসহ বহু ঊর্ধ্বতন পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করেন।

জানা গেছে, ড. জুনায়েদ কামাল আহমাদ জন্মগতভাবে বাংলাদেশি। এর আগে তিনি বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তা ছিলেন। ১৯৯১ সালে জুনায়েদ কামাল আহমাদ ইয়াং প্রফেশনাল হিসেবে বিশ্বব্যাংকে যোগদান করেন। তিনি আফ্রিকা ও পূর্ব ইউরোপে কাজ করেছেন। বিশ্বব্যাংকের হয়ে আফ্রিকার অবকাঠামো ইউনিটে তিনি প্রায় ১০ বছর কাজ করেন। ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট বিভাগের পরিচালক ছিলেন। স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে অ্যাপ্লাইড ইকোনমিকসে পিএইচডি লাভ করেন। এর আগে হার্ভাড ইউনিভার্সিটি থেকে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ব্রাউন ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএম গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর ফজলে কবির।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত