প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্যাংকের উদ্বৃত্ত তারল্য কমে এখন ৭৬ হাজার কোটি টাকা

আবু বকর : ব্যাংকের উদ্বৃত্ত তারল্য কমে ৭৬ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আমানতের সুদ হার কমায় ব্যাংকগুলোতে নতুন আমানত আসছে কম। অনেকে মেয়াদ পূর্তির পর আমানত ভাঙিয়ে ফেলছে। অথচ ঋণ দেওয়ার চাপ রয়েছে। ফলে ব্যাংক খাতে আমানতের তুলনায় ঋণ বাড়ছে। এতে করে তারল্যের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। চাপ সামলাতে অন্য ব্যাংক বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কোনো কোনো ব্যাংককে ধার করতে হচ্ছে। ফলে সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতের উদ্বৃত্ত তারল্য কমছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে মোট উদ্বৃত্ত তারল্য কমে ৭৬ হাজার কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উদ্বৃত্ত তারল্য এত কমতে দেখা যায়নি। তারল্যের ওপর চাপের কারণে সুদহার বাড়তির দিকে রয়েছে।

জানা গেছে, নগদ টাকার সংকটের কারণে রোববার বেসরকারি খাতের তিনটি ব্যাংক শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৫১৭ কোটি টাকার ধার নেয়। এর বাইরে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার বা কলমানি থেকে কয়েকটি ব্যাংক নিয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকার মতো। এর আগের কার্যদিবস বৃহস্পতিবার কলমানিতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা। গত বুধবার লেনদেন হয় ৬ হাজার ৪১০ কোটি টাকা। কয়েকদিন ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে দু’একটি করে ব্যাংক একশ’ কোটি টাকার মতো ধার নিচ্ছিল। হঠাৎ করে রোববার ৫০০ কোটি টাকার বেশি ধারের চাহিদা আসে। সাধারণভাবে কোনো ব্যাংক কলমানিতে টাকা না পেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে রেপো, স্পেশাল রেপো বা তারল্য সহায়তা হিসেবে ধার করে। সাম্প্রতিক সময়ে কলমানিতে গড়ে সাড়ে ৪ শতাংশের কম এবং সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদে লেনদেন হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার নিতে যেখানে ব্যাংকগুলোর ব্যয় হয় ৬ শতাংশ।

বিদ্যমান নিয়মে, ব্যাংকগুলোর সব ধরনের তলবি ও মেয়াদি আমানতের একটি অংশ নগদে ও ট্রেজারি বিল ও বন্ড কিনে সরকারকে ঋণ দেওয়ার মাধ্যমে বিধিবদ্ধ জমা হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখতে হয়। প্রচলিত ধারার একটি ব্যাংকের বিধিবদ্ধ জমা (এসএলআর) রাখতে হয় আমানতের সাড়ে ১৮ শতাংশ। ইসলামী ব্যাংকগুলোকে রাখতে হয় ১১ শতাংশ। উভয় ধারার ব্যাংকগুলোকে নগদে রাখতে হয় সাড়ে ৫ শতাংশ। বিধিবদ্ধ তারল্য সংরক্ষণে অতিরিক্ত অংশ উদ্বৃত্ত তারল্য। এর একটি অংশও বিভিন্ন বন্ডে বিনিয়োগ থাকে। বাকি অংশ ব্যাংকের ঋণযোগ্য তহবিল।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে এসএলআর সংরক্ষণের পর ব্যাংকগুলোতে উদ্বৃত্ত তারল্য দাঁড়ায় ৭৬ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে যা ৮৬ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা ছিল। এর আগের তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বছর শেষে উদ্বৃত্ত তারল্য এক লাখ কোটি টাকার ওপরে ছিলো। ২০১৬ সাল শেষে ব্যাংকগুলোর কাছে উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল এক লাখ ২২ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ছিলো এক লাখ ২০ হাজার ৬৭৯ লাখ কোটি টাকা। ২০১৪ সাল শেষে এক লাখ ৭ হাজার ৫৩০ কোটি এবং ২০১৩ সাল শেষে ছিল ৯৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। ২০১৩ সালে ব্যাংকগুলোর মোট আমানতের পরিমাণ ছিলো ৬ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। ২০১৮ সাল শেষে তা প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকা হয়েছে। অথচ উদ্বৃত্ত তারল্য অনেক কমে গেছে।

ব্যাংকাররা মনে করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে আগামী মার্চের মধ্যে ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) নতুন সীমায় নামিয়ে আনার বাধ্যবাধকতাও সুদহার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত