প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পাকিস্তানে ‘কাশ্মীরী জঙ্গি ঘাঁটিতে’ ভারতের বিমান হামলা

*ভারতের দাবি ৩০০ ‘জঙ্গী’ নিহত

*পাকিস্তান বলছে, কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি

আসিফুজ্জামান পৃথিল, সান্দ্রা নন্দিনী : পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরে বিমান হামলা চালিয়েছে ভারত। ভারত দাবি করেছে, তার যুদ্ধবিমানগুলো কাশ্মীরী জঙ্গি স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে। এ অভিযানে নিহত হয়েছে কমপক্ষে ৩০০ জঙ্গি। ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি জইশ-ই-মুহাম্মদের ঘাঁটিতে ১ হাজার কেজি বেশি ওজনের বোমা ফেলা হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার রাত সাড়ে ৩টার পর পরই এই অভিযান চালানো হয়। এরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার বাসভবনে শীর্ষ মন্ত্রীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন। সেখানে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল প্রধানমন্ত্রীকে এই সেনা অভিযান নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেন। অন্যদিকে পাকিস্তান বলছে, ভারতের মিরাজ ২০০০ বিমানগুলোকে পাকিস্তানের এফ-১৬ বহর ধাওয়া করলে তারা কোন বোমা না ফেলেই পালিয়ে যায়। ইয়ন, ইন্ডিয়া টুডে, এনডিটিভি, আনন্দবাজার, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, রয়টার্স।

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক কেবিনেট কমিটিকে জানিয়েছেন, এটি ছিলো জইশ-ই-মুহাম্মদের সবচেয়ে বড় প্রশিক্ষণ শিবির। ডোভাল জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ২৫ জন জইশ কমান্ডার নিহত হয়েছেন। ডোভাল সিসিএস বৈঠকে জানিয়েছেন, ধ্বংস হয়ে যাওয়া লক্ষবস্তু কোন সাধারণ জঙ্গিীআস্তানা ছিলো না। এটিকে তিনি ভার্চুয়াল সেনাশিবির বলে অভিহিত করেন। তার দাবি মতে এই আস্তানায় ফায়ারিং রেঞ্জ, বোমা পরীক্ষা কেšদ্র, শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত অফিস এবং প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যারাক ছিলো।

নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র সচিব বিজয় কেশব গোখলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ‘পাকিস্তান তাদের মাটিতে প্রায় দুই দশক ধরেই জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দিয়ে আসছে। ভারত একাধিকবার এসংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ সরবরাহ করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানালেও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপই নেওয়া হয়নি।’ তিনি আরও জানান, ‘ভারতের কাছে তথ্য রয়েছে জইশ-ই- মোহাম্মদ ভবিষ্যতে আরও সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করছিলো। অভিযানে ওই জঙ্গি সংগঠনটির বেশ কয়েকজন নেতাকে নির্মূল করা হয়েছে। এদেরমধ্যে সংগঠনটির প্রশিক্ষক, প্রথমসারির একাধিক কমান্ডার ও জইশ-ই- মোহাম্মদ প্রধান আজহারের ঘনিষ্ট এক আত্মীয়ও রয়েছে। তবে কোনও বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়নি।’
সংবাদসংস্থা এএনআই জানায়, ‘পাকিস্তানের এফ-১৬ বিমানগুলো ভারতের যুদ্ধবিমান মিরাজ-২০০০’র দিকে এগিয়ে এলেও ভারতীয় যুদ্ধবিমানের সংখ্যায় ভীত হয়ে সেগুলো ফিরে যায়।’ ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বিমানবাহিনীকে সফল অভিযানের জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ‘ভারতীয় বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে একটি সমুচিত জবাব দেওয়া হয়েছে।’

ভারতীয় সেনাবাহিনীর একাধিক সূত্র এনডিটিভি’কে জানায়, ‘১২টি মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমান অভিযানে অংশ নিয়ে লাইন অব কন্ট্রোল-এলওসি পার হয়ে পাকিস্তানের একটি সন্ত্রাসী ঘাঁটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত করতে ১ হাজার কেজি বোমা নিক্ষেপ করেছে।’ আনন্দবাজার জানায়, ‘সোমবার দিবাগত গভীররাতে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে চালানো অভিযানটি ১০০ ভাগ সফল হয়েছে। বালাকোট সেক্টর থেকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের প্র্রায় ৮০ কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করে ভারতীয় যুদ্ধবিমানগুলো। এরপর বালাকোট, চাকোটি ও মুজাফ্ফারাবাদে জইশ-ই-মোহাম্মদের তিনটি ঘাঁটি ধ্বংস করে । এই অভিযানে পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের কন্ট্রোলরুম আলফা-৩ বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রায় ২১ মিনিট ধরে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের আকাশে ছিল ভারতীয় যুদ্ধবিমানগুলো। চকোটিতে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে রাত ৩টা ৫৮ মিনিট থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত। আর, মুজাফ্ফারাবাদে আক্রমণ চলে রাত ৩টা ৪৮ মিনিট থেকে ৩টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত।’ এই অভিযানে ২০০ থেকে ৩০০ জন নিহত হয়েছে দাবি করেছে আনন্দবাজার।

অন্যদিকে, পাকিস্তানি দৈনিক ডন জানায়, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি সকালে এক বিবৃতিতে ভারতকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘পাকিস্তানকে চ্যালেঞ্জ করা ঠিক হবে না। আশাকরি, দিল্লির শুভবুদ্ধির উদয় হবে। পাকিস্তানের জনগণের চিন্তার কোনও কারণ নেই। কেননা, যেকোনও অভিযান প্রতিহত করার সবরকম প্রস্তুতিই পাকিস্তানের রয়েছে।’
এর আগে, পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিস পাবলিক রিলেশনস-আইএসপিআর ডিরেক্টর জেনারেল মেজর জেনারেল আসিফ গফুর মঙ্গলবার সকালে এক টুইট-বার্তায় জানান, ‘পাকিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে মুজাফ্ফরবাদে প্রবেশ করে ভারতীয় বিমানবাহিনী। পাকিস্তান বিমানবাহিনীও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের প্রতিরোধ করতে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভারতীয় যুদ্ধবিমানগুলো ফিরে যায়।’ পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র দাবি করছেন, ভারতের বিমান হামলায় কোনও হতাহত কিংবা ক্ষয়-ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি জানায়, ১৯৭১ সালের পর এই প্রথম পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে ভারত। এদিকে ভারতের পুলিশ জানিয়েছে, গুজরাটের কুচ জেলার কাছের সীমান্তে একটি পাকিস্তনি ড্রোনকে ভুপাতিত হয়েছে। তারা বিকট শব্দ পেয়ে খোঁজ নিতে গলে নানঘাতাক গ্রামের পাশে ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ দেখতে পান। চীন, ভারত এবং পাকিস্তান দুই রাষ্ট্রকেই ধৈর্য্য দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। চীন দিল্লিকে আন্তর্জঅতিক সহায়তার মাধ্যমেই সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ চালানোর আহ্বান জানায়।

অভিযানের পর ভারতীয় বিমান বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়ে টুইট করেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। তিনি লেখেন, ‘ভারতীয় বিমানবাহিনীর পাইলটদের স্যালুট করি।’ টুইট করেছে কংগ্রেসও। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর দৃঢ় মনেবলের কারণে ভারত নিরাপদ রয়েছে। দিল্লির মুখমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল টুইটারে লিখেছেন, ‘আমি ভারতীয় বিমান বাহিনীর পাইলটদের সাহসিকতাকে স্যালুট করি। তারা পাকিস্তানের সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা বানিয়ে আমাদের সম্মানিত করেছে। এটিকে টুইটারে এই হামলাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখমন্ত্রী মমতা ব্যবানার্জি। তিনি লেখেন, ‘আইএফ এর অপর নাম ইন্ডিয়াজ আমেজিং ফাইটারস, জয় হিন্দ।’
এদিকে পাকিস্তানে হামলার জন্য ভারতের বিমান বাহিনীকে অভিবাদন জানিয়েছেন বলিউড তারকারাও। অভিনন্দন জানিয়েছেন অক্ষয় কুমার, অভিযেক বচ্চন, সোনম কাপুর, অজয় দেবগান এবং কার্তিক আরিয়ানের মতো তারকারা। সম্পাদনা : ইকবাল খান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত