প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পলাশের লাশ শনাক্ত করেছে পরিবার, আজ নারায়ণগঞ্জে দাফন (ভিডিও)

সালেহ্ বিপ্লব : চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টার সময় কমান্ডো অপারেশনে নিহত পলাশ ওরফে মাহী বি জাহানের লাশ শনাক্ত করেছে তার পরিবার। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে পলাশের লাশ নিয়ে আসা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের নিজবাড়িতে।  সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামে তাকে দাফন করা হবে বলে জানা গেছে।

এর আগে সোমবার রাত পৌনে ৯টায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানা পুলিশের একটি দল নিহতের বাবা পিয়ার জাহান সরদারকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, রোববার রাতে পলাশের ছবি দেখে প্রাথমিকভাবে পিয়ার জাহান সরদার এটি তার ছেলের লাশ বলে পুলিশ প্রশাসনকে নিশ্চিত করেছেন। নিহত যুবক পলাশ তার একমাত্র ছেলে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক (মিডিয়া) সাজ্জাদ রুমন জানান, পতেঙ্গা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) জসিম উদ্দিন লাশ শনাক্ত করার জন্য পলাশের বাবাকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে চট্টগ্রাম রওয়ানা করেন। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সোনারগাঁ থানা পুলিশ পতেঙ্গা থানা পুলিশকে এ ব্যাপারে সহায়তা করছে।

নাটকীয় ঘটনা, প্রশ্নবিদ্ধ মৃত্যু

দুবাইগামী বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছিলো পলাশ, হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে অস্ত্র নিয়ে বিমানে চড়ে বসেছিলো সে। এরপর মাটি থেকে ১৫ হাজার ফুট উচ্চতায় সে জানান দেয়, বিমানটি সে ছিনতাই করতে চাইছে। এমন একটি কাজ কেনো সে করতে গেলো, এ প্রশ্নের জবাবে নানা রকম কথা ছড়িয়েছে শুরু থেকেই। সর্বশেষ জানা গেছে, নায়িকা সিমলার প্রেমে ব্যর্থ হয়ে সে এমন একটি কাজ করে প্রশ্নবিদ্ধ মৃত্যুর শিকার করেছে নিজেকে। অন্যদিকে দেশের বাইরে অবস্থানরত সিমলা গতরাতে একাত্তর টিভিতে দেয়া লাইভ ভিডিও সাক্ষাতকারে বলেছেন, পলাশ মানসিক  রোগী ছিলো। পলাশের সঙ্গে বিয়ের কথা স্বীকার করে সিমলা বলেছেন, প্রায় চার মাস আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে গেছে।

হাজারো প্রশ্ন মানুষের মুখে মুখে

বিমান ছিনতাই চেষ্টার ঘটনায় এখন হাজারো প্রশ্ন মানুষের মুখে মুখে। নারায়ণগঞ্জের সাধারণ ঘরের ছেলে পলাশ আহমেদ কেনইবা বিমান ছিনতাই চেষ্টা করতে গেলেন। বলা হচ্ছে তার পরিবারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। প্রশ্ন উঠেছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে হলে বিমান ছিনতাই করতে হবে কেন? সব প্রশ্ন ছাপিয়ে মোটা দাগে সামনে এসেছে একজন অস্ত্রধারী কিভাবে বিমানবন্দরে প্রবেশ করে বিমানযাত্রী হতে পারলেন। কয়েক ধাপের নিরাপত্তা তল্লাশি সংস্থাগুলোকে ফাঁকি দিয়ে অস্ত্র নিয়ে বিমানবন্দরে প্রবেশে ঘটনাটিকে অনেকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন। গতকাল পর্যন্ত এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্ট কারও কাছ থেকে। বলা হচ্ছে, তদন্তের পরই এর উত্তর মিলবে।

ঘটনার পর চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কুসুম দেওয়ান রয়টার্সকে বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তির হাতে থাকা পিস্তলটি ছিল একটি খেলনা পিস্তল। তার শরীরে কোনো বোমাও ছিল না। তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়েছে। আমরা শুনেছি স্ত্রীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সমস্যা আছে। সে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিল। বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি।

কী ঘটেছিলো বিমানে সেদিন?

এদিকে বিমানের ভেতরকার ঘটনা নিয়ে আসছে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য। কেউ কেউ বলছেন, ছিনতাই চেষ্টাকারী বিমানে গুলি করেছিল। আবার কেউ বলছেন, তার সঙ্গে বিস্ফোরকও ছিল। প্রশ্ন উঠে উড়ন্ত বিমানে গুলির ঘটনা ঘটলে সেটি ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারতো। তাছাড়া সংবাদ সম্মেলনে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ঘটনার পর বিমানটি অক্ষত আছে।

বিমানের ভেতরে যেকোনো গুলির ঘটনা ঘটলে সেটি অক্ষত থাকার কথা না। ছিনতাই চেষ্টাকারীদের ধরতে অভিযান চলার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ কেউ বলছিলেন তাকে আহত অবস্থায় পাকড়াও করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পরে জানা গেলো অভিযানে আহত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর চারপাশ থেকে আসা নানা প্রশ্নের সব উত্তর হয়তো এখন আর কর্তৃপক্ষ দিতে পারবেন না। সব প্রশ্নের উত্তর হয়তো পাওয়া যেত ছিনতাই চেষ্টাকারী পলাশ আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ পাওয়া গেলে। এদিকে প্রথম দিন ঘটনা জানাজানির কিছু সময়ের মধ্যেই কয়েকটি গণমাধ্যম ওই ব্যক্তিকে নায়িকা সিমলার ব্যর্থ প্রেমিক বলে তথ্য প্রচার করে। ওই ব্যক্তির বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু জানার আগেই তার সম্পর্কে এমন তথ্য প্রকাশেও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। ঘটনার দিন ছিনতাই চেষ্টাকারী ব্যক্তির পরিচয়ের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া না গেলেও গতকাল র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব জানিয়েছে, তাদের অপরাধী তথ্য ভাণ্ডারে বিমান ছিনতাই চেষ্টাকারী পলাশ আহমেদের নাম আছে। সাত বছর আগে অপহরণ সংক্রান্ত মামলায় তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। এদিকে বিমান ছিনতাই চেষ্টার ঘটনায় গতকাল সংসদেও বিস্তর আলোচনা হয়েছে। প্রশ্ন তোলা হয়েছে কী করে একজন যাত্রী অস্ত্র নিয়ে বিমানের ভেতর পর্যন্ত যেতে পারলেন। এ ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্তে সর্বদলীয় কমিটি গঠনেরও দাবি তোলা হয়েছে সংসদে। এদিকে বিমান ছিনতাই চেষ্টার ঘটনায় নিহত পলাশসহ কয়েকজনকে আসামী করে পতেঙ্গা থানায় মামলা হয়েছে।

কে এই পলাশ?

চট্টগ্রামের বিমানবন্দরে কমান্ডো অভিযানে নিহত বিমান ‘ছিনতাইয়ের চেষ্টাকারী’ পলাশের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার ফিরোজপুর ইউপির দুধঘাটা গ্রামে। ঘটনার দিন রাতেই নিহতের বাড়িতে ছুটে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। খোঁজ খবর নেয়া শুরু করে তারা। বাদ যায়নি গণমাধ্যমকর্মীরা।

এলাকায় পলাশ নামে পরিচিত থাকলেও বাইরে সে নিজেকে মাহাদি নামে পরিচয় দিত। চার ভাই বোনের মধ্যে পলাশ সবার ছোট। তাই আদরে আদরে ছোটকাল থেকেই অনেকটা ডানপিটে ছিল। মাদরাসায় পড়াশোনা করলেও দাখিল পাসের পরই ইতি ঘটে শিক্ষা জীবনের। চলে যায় ঢাকায়। প্রবাসী বাবার টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিতে দুই দফা নিজেই অপহরণ নাটক সাজিয়ে ৮ লাখ টাকা বাগিয়ে নিয়েছিল। এখানেই শেষ নয়, এক সময় শোবিজের দিকে ঝুঁকে পড়ে সে। ‘কবর’ নামে একটি শর্ট ফিল্মও করেছে। শোবিজে রঙিন নেশায় পরিবারের কাছ থেকে নানাভাবে লুফে নেয়া টাকা-পয়সা খরচ করতো সেখানে। এর মধ্যেই জাতীয় চলচিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নায়িকা সিমলাকে বিয়ে করে সে। ‘ম্যাডাম ফুলি’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে ঢালিউডে যার অভিষেক ঘটে। কিন্তু এর আগে বগুড়ার এক মেয়েকে বিয়ে করেছিল মাহাদি। যদিও ২০১৭ সালে ওই মেয়ের সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।

নিহত পলাশের বাবা পিয়ার জাহান সরদার গত সাত বছর আগে বিদেশ থেকে স্থায়ীভাবে দেশে চলে আসেন। এলাকায় একটি মুদি দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। পিয়ার জাহান সরদার জানান, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার ফিরোজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামে জন্ম পলাশের। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে পলাশ সবার ছোট। একমাত্র ছেলে হওয়ায় পলাশের প্রতি সবারই একটু বেশি ভালোবাসা ছিল। সে ২০১২ সালে সোনারগাঁওয়ের মঙ্গলের গাঁও তাহেরপুর মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করে সোনারগাঁও ডিগ্রি কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হয়। এরপর সে আর পড়াশোনা করেনি। পিয়ার জাহানের দাবি, পলাশ তাদের অবাধ্য সন্তান। এর আগেও বিদেশে যাওয়ার কথা বলে সে অনেক টাকা নষ্ট করেছে। যে কারণে ছেলের সঙ্গে তিনি ঠিকমতো কথা বলতেন না।

সিমলার সাথে বিয়ে

পলাশের বাবা জানান, গত ১০ মাস আগে চিত্রনায়িকা সিমলাকে নিয়ে পলাশ বাসায় আসে। তখন সে জানায় সিমলাকে নিয়ে এলাকায় বেড়াতে এসেছে। কিন্তু দেড় থেকে দুই মাস পর লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারি তাদের বিয়ে হয়েছে। এর ঠিক দেড় থেকে দুই মাস পরে পলাশ আবারও সিমলাকে নিয়ে বাড়ি আসে। তখন জানায় সিমলাকে সে বিয়ে করেছে। প্রথমে না মানলেও পরবর্তীতে বিয়ে মেনে নিই এবং বউকে (সিমলা) বলি ছেলেকে ভালো করে তুলতে। এরপর পলাশের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ হতো না।’

পিয়ার জাহান জানান, সে এর আগে ২০১৪ সালে বগুড়ায় একটি বিয়ে করে। ওই স্ত্রীর নাম মেঘলা। সেখানে আয়ান নামে আড়াই বছরের একটি ছেলে আছে তার। তবে সিমলার সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পর ২০১৭ সালে প্রথম স্ত্রী তাকে তালাক দেয়। এছাড়া, এলাকায় নারী কেলেঙ্কারির একটি ঘটনায় মামলাও হয়েছিল পলাশের নামে। সেই মামলায় ২০ দিন জেল খেটে সে জামিন পেয়েছিল। তিনি আরো জানান, কিছুদিন আগে সে একটানা ২৫ দিন বাসায় ছিল। এসময় সে নিয়মিত নামাজ পড়তো ও মসজিদে আজান দিত। এটা দেখে তারা মনে করছেন ছেলে সুপথে ফিরে এসেছে। শুক্রবার দুবাই যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ব্যাগ নিয়ে বের হয়। পলাশ বলেছিল, সে দুবাই চলে যাবে। এ কারণে সে আমার কাছে ৫০০ দিরহাম দাবি করে এয়ারপোর্টে দেখানোর জন্য। আমি সেই টাকা জোগাড় করে দিই। যাওয়ার সময় ছেলেকে বলেছিলাম, এইবার গেলে পরে থাইকো। টাকা-পয়সা নষ্ট কইরো না। কিন্তু রোববার সন্ধ্যার পর ছেলের সর্বনাশের খবর শুনে নির্বাক হয়ে পড়ি। রোববার রাত একটার দিকে সোনারগাঁ থানা পুলিশের একটি দল আমাদের বাসায় আসে এবং বাড়ি তল্লাশি করে। পরে আমি ও আমার স্ত্রীকে স্থানীয় এক মুরব্বির জিম্মায় রেখে যায় পুলিশ।

তিনি আরো জানান, পলাশের খবর শোনার পর থেকে তার মা রেনু আক্তার শয্যাশায়ী। তিনি কারও সঙ্গে কোনো কথা বলতে পারছেন না। সোনারগাঁও থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানান, রোববার মধ্যরাতে পুলিশ হেড কোয়ার্টারের নির্দেশনা পেয়ে মাহাদির পরিচয় শনাক্ত করতে তার গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলেন। নিহতের ছবি দেখিয়ে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাহেরপুর মাদরাসার সহকারী শিক্ষক নুরনবী জানান, সে মাদরাসায় পড়ার সময় বেশ দুরন্ত প্রকৃতির ছিল। এজন্য তাকে মাদরাসা থেকে একবার বের করে দেয়া হয়েছিল।

ফেসবুকে শেষ স্ট্যাটাস

নিহত পলাশ মাহিদি জাহান নামে একটি ফেসবুক আইডি চালাতেন। সেখানে সে নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়েছে, যা সত্য নয়। ওই আইডিতে শেষ স্ট্যাটাস দেয়া হয়েছে, “ঘৃণা নিঃশ্বাসে প্রশ্বাসে”। গত রোববার দুপুর একটা তিন মিনিটে সে এ স্ট্যাটাসটি দেয় সে। ফেসবুক ওয়ালে নায়িকা সিমলার সঙ্গে তার অসংখ্য অন্তরঙ্গ ছবি রয়েছে। গত বছরের ২৪শে সেপ্টেম্বর প্রথম বিবাহ বার্ষিকীতে ফেসবুকে পলাশ সিমলার সঙ্গে একটি অন্তরঙ্গ ছবি দিয়ে লেখেন “এ হচ্ছে আমার বউ যে আমার হাজার ভুলের মাঝে, আমাকে সহ্য করে পার করে দিল একটি বছর। দোয়া করবেন যাতে সারাটা জীবন এ পাগলিটা আমি এক সঙ্গে থেকে যেন মরতে পারি। বউ অনেক ভালোবাসি তোমায় আর কষ্ট দেবো না। শুভ বিবাহ বার্ষিকী আদরের পুতুল বউ আমার। I love You lot more then my self…!!!।

২০১২ সালে গ্রেপ্তার হয়েছিলো পলাশ

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) জানিয়েছে, ঢাকা থেকে দুবাইগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১৪৭ ফ্লাইটটি ছিনতাইয়ের চেষ্টাকারী পলাশ আহমেদকে ২০১২ সালে তারা গ্রেপ্তার করেছিল। এক তরুণীকে অপহরণের অভিযোগে তাকে তখন গ্রেপ্তার করা হয়। অপহরণের একটি মামলায় আদালত তাকে কারাগারে পাঠালে সে ২০দিন কারাভোগ করে। পরে জামিনে মুক্ত হয়। র‌্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান জানান, ২০১২ সালের মার্চ মাসে দেলোয়ার নামের এক ব্যক্তি তার মেয়েকে অপহরণের জন্য পলাশের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। মামলার অভিযোগে তিনি বলেন, তার মেয়েকে অপহরণ করে পলাশ আট লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। পরে ওই মামলায় তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অপহৃত তরুণীকে উদ্ধার ও পলাশ এবং তার সহযোগী নেমরা মারমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। র‌্যাব দাবি করছে, ঘটনার পরপরই তাদের ক্রিমিনাল ডাটাবেজ অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করা হয়। এতে তার আঙ্গুলের ছাপ পাওয়া যায়। ২০১২ সালে গ্রেপ্তারের সময় তার বয়স ছিল ১৮ বছর।

অস্ত্র নিয়ে কীভাবে বিমানে উঠলো, প্রশ্ন জাতীয় সংসদে

বিমান হাইজ্যাক চেষ্টার ঘটনা তদন্তে সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে উচ্চ পর্যায়ের সর্বদলীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে জাতীয় সংসদে। একইসঙ্গে যাত্রীদের নিরাপদে অবতরণ এবং সাহসিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলার স্বীকৃতি হিসেবে ওই বিমানের পাইলট, কো-পাইলট ও ক্রুদের বিশেষভাবে পুরস্কৃত করার পাশাপাশি কীভাবে ছিনতাইকারী অস্ত্র নিয়ে বিমানে প্রবেশ করতে পারলো সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল সংসদে মাগরিবের বিরতির পর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর পর সংসদের বৈঠক আবার শুরু হলে প্রথমে কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ বিধিতে সংসদে এ বিষয়ে বিবৃতি দেন বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী মাহবুব আলী।

এরপরে পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী বিষয়টির অবতারণা করে বলেন, এইভাবে কোনো ব্যক্তি অস্ত্র নিয়ে বিমানে ঢুকতে পারে না। সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ সেখানে কী করে? বিষয়টিকে আমরা সহজভাবে নিতে পারি না। উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। যেন ভবিষ্যতে আর এই ধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি। সরকারিভাবে যদি তদন্ত হতে হয় তাহলে অন্তত সচিবের নিচে কাউকে তদন্ত কমিটির প্রধান করা উচিত হবে না। কেননা বিমানের সঙ্গে আমাদের অর্থনীতি ও জাতির সুনাম জড়িত। সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে সর্বদলীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে এই সংসদকে বিস্তারিত জানাতে হবে। নইলে মানুষ এই বিমানে আর উঠবে না, বিমান লোকসানে যাবে।

বিমানে ছিলেন না এমপি বাদল

সংসদে জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল বলেন, বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনে দেখলাম বলা হয়েছে আমি নাকি ওই বিমানের যাত্রী ছিলাম। আমি ওই বিমানের যাত্রী ছিলাম না। চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে আমি ওই বিমানবন্দরে এসেছিলাম ঢাকায় ফেরার জন্য। সেখানে তখন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুরও উপস্থিত ছিলেন।

আমরা দু’জন সিদ্ধান্ত নিলাম, সংসদ সদস্য হিসেবে বিষয়টি তদারকি করা আমাদেরও কর্তব্য। এজন্য আমরা একেবারে টারমাকে ঢুকে পড়ি এবং একেবারে শেষ পর্যন্ত সেখানে থাকি। নিজের দেখা ঘটনা ও পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য বাদল বলেন, আমার ফাইন্ডিং হলো- একজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি বিমানে পেছন দিক থেকে গালাগালি করতে করতে সামনে দিকে আসতে থাকে। সে পাইলটকে দরজা খুলতে বলে। পাইলট দরজা খুলেননি। পত্রপত্রিকায় লেখা হয়েছে পাইলটের সঙ্গে অনেককিছু হয়েছে। না, পাইলটের সঙ্গে মল্লযুদ্ধ হয়নি। পাইলট তার সঙ্গে কথা বলে তাকে ব্যস্ত রাখার কৌশল নেন।

পাইলট অত্যন্ত দূরদর্শিতা ও সাহসের সঙ্গে বিমান অবতরণ করেন। বিমানের ক্রুদেরও পরিস্থিতি মোকাবেলায় সাহসী ভূমিকা ছিল। ক্রুরা ইকোনমি ও বিজনেস সিটের মাঝখানে পর্দা লাগিয়ে দেন। বিমানটি অবতরণের পর বিমানের ডানার পাশে থাকা জরুরি নির্গমন পথ দিয়ে যাত্রীদের বের করে আনা হয়। পরে পাইলট যখন বেরিয়ে আসেন তার সঙ্গে আমার কথা হয়। পাইলট বললেন, ভেতরে ওই ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ নেই, এখন অপারেশন চালানো যায়। পরে সেনা কমান্ডো অফিসার আমাকে জানান, ভেতরে ওই ব্যক্তি অফেসনিভ নিয়েছে, যার কারণে তার সঙ্গে আমাদেরকে নেগোসিয়েশনে যেতে হয়েছে। এরপর অপারেশনে ওই ব্যক্তি আহত হওয়ার পর মারা যায়। মইন উদ্দীন খান বাদল আরো বলেন, এদেশে রিয়েল হিরোরা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পান না। পাইলট, কো-পাইলট ও ক্রুরা অসীম সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাবো, তাদেরকে পুরস্কৃত করা উচিত। অপারেশন শেষ করে মাত্র ২ ঘণ্টা ৩২ মিনিটের মাথায় বিমানবন্দর আবার চালু করে দেয়া হয়েছে। এখানে বোঝা যায়, এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করে দ্রুত বিমানবন্দর খুলে দেয়ার ক্ষেত্রে আমাদের পারদর্শিতা অর্জিত হয়েছে। একইসঙ্গে চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাহসী ভূমিকার জন্য ফায়ার ব্রিগেডের সংশ্লিষ্ট সদস্যদেরও পুরস্কৃত করতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। এদিকে, রুস্তম আলী ফরাজী ও বাদলে বক্তব্যের আগে কার্যপ্রণালী বিধি ৩০০ বিধিতে গতকাল সংসদে দেয়া এক বিবৃতিতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়ে বলেন, গত ২৪শে ফেব্রুয়ারি ৫টা ১৩ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম-দুবাইগামী বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১৪৭ ঢাকা বিমানবন্দর ত্যাগ করে। তবে চট্টগ্রামে অবতরণের আগে বিমানে যাত্রী বেশে একজন আকস্মিক ব্যক্তি যাত্রীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিমান উড়িয়ে দেয়ার হুমকি ও চিৎকার করতে থাকে।

বিমানের কর্তব্যরত ক্যাপ্টেন অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তা, পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার সঙ্গে দুষ্কৃতিকারীর কথপোকথনে ব্যস্ত করে কালক্ষেপণ করে ইতিমধ্যে বিমানের ক্রুদের সহায়তায় সকল যাত্রীদের নিরাপদে বের করে নিয়ে আসা হয়। তিনি বলেন, ঘটনা চলাকালে বিমান বাহিনীর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফায়ার সার্ভিসসহ সকল সংস্থার তড়িৎ ব্যবস্থার ফলে যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপদ স্থানে নিতে সক্ষম হয়। সেনাবাহিনী কমান্ডো ও র‌্যাবের একটি চৌকস দল বিমানবন্দরে অবস্থান গ্রহণ করে। কমান্ডো দল বিমানের ভেতরে প্রবেশ করে এবং ঝটিকা আক্রমণ করে দুষ্কৃতিকারীকে নিষ্ক্রিয় করে। একপর্যায়ে কমান্ডো বাহিনীর দুর্বার অভিযানে ছিনতাইকারী আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করে। বিমানটিতে ১৪৮ জন যাত্রী ও ৭ জন ক্রু সকলেই নিরাপদে আছেন। বিমানটিও অক্ষত রয়েছে। বেবিচক পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে।

‘পিস্তল’ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ হাইজ্যাক চেষ্টায় ‘পিস্তল’ এখন রহস্য হয়ে দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো বলছে, বিমান হাইজ্যাক চেষ্টায় কমান্ডো অভিযানে নিহত মো. পলাশ আহমেদ খেলনা পিস্তল নিয়ে ফ্লাইটে উঠেছিলেন। তার কাছে আসল ‘পিস্তল’ ছিল না। সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী পিস্তল রহস্যের কোনো সদুত্তর দিতে পারেন নি। সাংবাদিকদের জানান, পিস্তল বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে। আমরা এখনো পুরো বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করেছি।

বিমান সচিব মহিবুল হক বলেন, সেটা অস্ত্র কিনা আমরা ওয়াকিবহাল না। খেলনা পিস্তল বা যেকোনো কিছু হতে পারে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এটা নিয়ে বিস্তারিত বলতে পারব। গতকাল র‌্যাব জানিয়েছে, বিমান ছিনতাই করতে গিয়ে যে যুবক কমান্ডো অভিযানে নিহত হন, তার আঙুলের ছাপ ক্রিমিনাল ডেটাবেইজে থাকা এক অপরাধীর সঙ্গে মিলে গেছে। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, তাদের ডেটাবেইজের তথ্য অনুযায়ী ওই যুবকের নাম মো. পলাশ আহমেদ।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের দুধঘাটা এলাকার পিয়ার জাহান সরদারের ছেলে তিনি। তবে রোববার চট্টগ্রামে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কমান্ডো অভিযানের পর বলা হয় নিহত ব্যক্তির নাম মাহাদি, তার বয়স ২৬/২৭ বছর। ঘটনার কিছুক্ষণ পরই চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, অভিযানে নিহতের কাছে যে অস্ত্রটি পাওয়া গেছে সেটি একটি ‘খেলনা পিস্তল’। বিমানের পেসেঞ্জার লিস্টের বরাত দিয়ে র‌্যাব বলছে, নিহত ওই যুবক ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বিমানে চড়ে চট্টগ্রামে যাওয়ার জন্য।

চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং-৭৩৭ উড়োজাহাজটির। মুফতি মাহমুদ খান বলছেন, যাত্রীর তালিকায় ওই যাত্রীর নাম ছিল অঐগঊউ/গউ চঙখঅঝঐ, সিট নম্বর ১৭অ। এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজের হাইজ্যাক চেষ্টা নিয়ে গতকাল ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলন করেন বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী। এ সময় তার সঙ্গে বিমান সচিব মহীবুল হক এবং সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এম নাঈম হাসানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রোববারের ঘটনাপ্রবাহ জানাতে গিয়ে বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কলিগদের থেকে জানলাম বিমান হাইজ্যাক হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদারের কথা বললাম। প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হলে দেখলাম তিনি ঘটনাটি জানেন। কমান্ডো প্রসিড করতে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি (পিএম) সার্বক্ষণিক পুরো বিষয়টি মনিটর করেছেন। পরবর্তীতে আমরা জানলাম, সবাই নিরাপদে রয়েছে।

অপেক্ষা তদন্ত প্রতিবেদনের

বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোববারের ঘটনার পর শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তার আয়োজন পর্যালোচনা করে দেখেছি। আমরা কোনো ধরনের ত্রুটি পাইনি। এখানে এমন কোনো লিকেজ ছিল না বা এখনো নাই যে একজন যাত্রী এভাবে বিমানে যেতে পারে। বিমান সচিব মহীবুল হক বলেন, আমরা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখেছি, অন্য দশটা যাত্রীর মতো তাকেও (সন্দেহভাজন ছিনতাইকারী) তল্লাশি করা হয়েছিল, তার কাঁধে একটা ব্যাগ ছিল। সেটা স্ক্যানারের ভেতর দিয়ে গেছে, কিন্তু সেখানে কিছু দেখা যায়নি। বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেবে। সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এম নাঈম হাসান বলেন, বিমান থেকে সবাই বেরিয়ে যাওয়ার পর ‘সো কলড’ হাইজ্যাকার বিমানে একাই ছিল। আমরা সেদিন অনেক কিছুই শুনেছি। তদন্ত প্রতিবেদনে পুরো বিষয়টি বিস্তারিত জানা যাবে। আগ্নেয়াস্ত্রের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান বলেন, এয়ারক্রাফটে গুলি বিনিময় হলে তার চিহ্ন থাকতো। আমরা কোনো চিহ্ন কোথাও পাইনি। খেলনা পিস্তলের শব্দ হয়। যাত্রীরা শব্দ শোনার কথা বলেছে। ওই পিস্তল আসল নাকি নকল- তদন্ত না করে তা বলা যাবে না। এদিকে বিমান প্রতিমন্ত্রী জানান ওই বিমানটি চট্টগ্রামে নামার কথা ছিল, সে অনুযায়ীই নেমেছে; জরুরি অবতরণ করেনি।

উৎকণ্ঠায় ছিলেন যাত্রীরা
বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের দুবাইগামী একটি বিমান ছিনতাই চেষ্টার শিকার হয় রোববার বিকালে। কিন্তু পাইলট সুকৌশলে বিমানটি চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করান পাঁচটা ৪১ মিনিটে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে কমান্ডো অভিযানে পরাভূত হয় ছিনতাই চেষ্টাকারী পলাশ আহমেদ। গতকাল বেলা ১টার দিকে ওই বিমানের যাত্রীরা অন্য একটি ফ্লাইটে দুবাই যাত্রা করেন। বিমান ছিনতাই চেষ্টার পর থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে উড়ানোর আগ পর্যন্ত প্রায় ১৯ ঘণ্টা উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় কাটিয়েছেন ওই ফ্লাইটের যাত্রীরা।

ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা মো. রাসেল ছিলেন ওই বিমানের একজন যাত্রী। গতকাল ১২টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের আরেকটি ফ্লাইটে দুবাই যাত্রার প্রস্তুতি সারতে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লাউঞ্জে এদিকে-ওদিকে ছুটোছুটি করছিলেন। তিনি অনেকটা খুঁড়িয়ে হাঁটছিলেন।

তার প্রতি সহানুভূতিরও অভাব ছিল না বিমানবন্দরে কর্মরতদের। এ সময় জানতে চাইলে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের সুপারভাইজার শওকত হোসেন বলেন, ছিনতাইকারীর কবলে পড়া বিমান থেকে প্রাণভয়ে লাফ দিয়ে বেরিয়ে আসতে গিয়ে পায়ে আঘাত পান রাসেল।

তার সঙ্গে আঘাত পেয়েছেন আরো কয়েকজন যাত্রী। তবে তা গুরুতর নয়। আর তাদের সঙ্গে ওই বিমানের ১২৬ যাত্রীকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১২৭ বোয়িংয়ে দুবাই পাঠানোর বোডিং কাজ চলছিল তখন।

নিজের চোখে যা দেখেছেন তার বিবরণ দিতে গিয়ে রাসেল বলেন, বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১৪৭ এ চড়ে আমি দুবাই যাচ্ছিলাম। বসেছিলাম বিমানের পেছনের দিকের সিটে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানটি উড়ার দশ মিনিট পর হঠাৎ একটি আওয়াজ শুনি।

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত