প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রেফতার দুই জঙ্গি জানালো,আরও একটা বড়সড় হামলার পরিকল্পনা করছিলো জইশ!

খালিদ আহমেদ : ভারতে আরো একটা বড় হামলার পরিকল্পনা করেছিলো জঙ্গি গোষ্ঠী জইশ ইমোহাম্মদ! উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দ থেকে ধৃত দুই জইশ জঙ্গিকে জেরার পর এ সব তথ্য জানতে পেরেছে তদন্তকারীরা। আনন্দবাজার গত শুক্রবার দেওবন্দের একটি হস্টেল থেকে কাশ্মীরের কুলগামের বাসিন্দা শাহনওয়াজ তেলি এবং পুলওয়ামার বাসিন্দা আকিব আহমেদকে গ্রেফতার করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সন্ত্রাসদমন শাখা এসটিএফ। তাদের কাছ থেকে দু’টি পিস্তল এবং ৩০ রাউন্ড বুলেট পাওয়া গিয়েছে। ছাত্রদের মগজধোলাই করে দেশে আরও একটা বড়সড় জঙ্গি হামলার ছক কষছিল তারা, এমনটাই অনুমান করছেন সন্ত্রাসদমন শাখার তদন্তকারীরা। তাদের একজনের মোবাইল ফোনের ভয়েস মেসেজ থেকে এই তথ্য জানা গিয়েছে।

প্রথম থেকেই পুলিশের অনুমান ছিল, পুলওয়ামা হামলার সঙ্গেও তাদের যোগ থাকতে পারে। তবে সরাসরি যোগের প্রমাণ এখনও পাওয়া না গেলেও জেরায় তদন্তকারীরা জেনেছেন, পুলওয়ামা হামলার মূল চক্রী রশিদ গাজির ঘনিষ্ঠ এই দু’জন। উত্তরপ্রদেশে কয়েক মাস ধরেই তারা বড় ধরনের হামলার উদ্দেশে ঘাঁটি গেড়ে রয়েছে। নিজেদের ছাত্র হিসাবে পরিচয় দিয়ে দেওবন্দের একটি হস্টেলে তারা উঠেছিল। ওই হস্টেলের এবং আশেপাশের এলাকার ছাত্রদের মগজধোলাই করে জইশের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করছিল তারা। সম্ভবত তাদের দিয়েই আরও একটা আঘাত হানার পরিকল্পনা ছিল। তবে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের কাছে এখনও এদের কোনও তথ্য জানতে পারেননি তদন্তকারীরা।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি মোবাইলের ভয়েস মেসেজ থেকেও হামলার তথ্য জানা গিয়েছে। ভয়েস মেসেজে তাদের কোনও ‘বড় কাজ’, ‘খুব দ্রুত কিছু করতে হবে’ এবং সেই সংক্রান্ত ‘জিনিসপত্র’ নিয়ে কথা বলতে শুনেছেন তদন্তকারীরা। অনুমান, এই ‘বড় কাজ’ আসলে কোনও হামলার পরিকল্পনা আর ‘জিনিসপত্র’ বলতে হামলার জন্য প্রয়োজনীয় বিস্ফোরক এবং আগ্নেয়াস্ত্র হতে পারে। ওই ভয়েস মেসেজ থেকে বেশ কিছু জায়গার নাম জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, ওই সমস্ত জায়গা থেকেই হামলার জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র তারা সংগ্রহ করার পরিকল্পনা করেছিল।

এদের মধ্যে শাহনওয়াজ গত ১৮ মাস ধরে এবং আকিব গত ছ’মাস ধরে জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত। শাহনওয়াজ এক জন প্রশিক্ষিত আইইডি বিশেষজ্ঞও। তাদের কাছ থেকে অস্ত্রের পাশাপাশি জিহাদি নথিপত্র থেকে শুরু করে ভিডিয়ো এবং ছবি উদ্ধার হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ডিজি ওমপ্রকাশ সিংহ জানান, পরবর্তী তদন্তের জন্য ওই দু’জনের গ্রেফতারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে আর কোথায় জইশ জঙ্গি সংগঠন গড়ে তুলছে, সে সমস্ত তথ্য তাদের কাছ থেকে পাওয়া যেতে পারে। এত দিন এই দুই জঙ্গির সংস্পর্শে যে সমস্ত ছাত্র ছিলেন, তাদেরও জিজ্ঞসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত