প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডাকাতিয়া নদী ছিল এক সময়ে কুমিল্লার আশির্বাদ, এখন তা অভিশাপ

মঞ্জুর মোর্শেদ : কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলা বেশ কয়েকটি উপজেলার মানুষের কাছে এক সময় ডাকাতিয়া নদী ছিল আশির্বাদ, প্রাণের স্পন্দন। ডাকাতিয়া নদীর ছিল তীব্র খরস্রোত। মেঘনার উপনদী মেঘনার মতোই উত্তাল  স্রোত ছিলো। ডাকাতের মতো সর্বগ্রাসী ছিল বলে এই নদীর নাম রাখা হয় ডাকাতিয়া নদী। সময় টিভি

এ নদী এখন দখল দূষণে নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। রীতিমতো অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। আগে পালতোলা নৌকা চলতো। নদীটি ছিলো বড় বড় লঞ্চ মালবাহী ট্টলারের রুট। শুকনো মৌসুমে কৃষক আবাদের সময় এ নদী থেকে পানি সেচের মাধ্যমে প্রচুর ফসল উৎপাদন করতেন। প্রচুর দেশিয় মাছ পাওয়া যেতো। মানুষের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন ছিলো।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ, লাকসাম, লালমাই, মনোহরগঞ্জ, চৌদ্দগ্রাম, নাঙ্গলকোট নদীর দুই পাড়ে অবৈধ দখল করে নির্মিত হয়েছে বিভিন্ন স্থাপনা। এসব দখলে রয়েছে প্রভাবশালী, রাজনৈতিক ও স্থানীয়রা। বিভিন্ন জায়গায় কলকারখানার বর্জ্য ও আবর্জনা ফেলে বিষাক্ত করে তোলা হয়েছে। এখন শুধু ধুধু বালুচর। শুকনো মৌসুমে এখন আর পানি থাকে না।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানান, নদীটির দৈর্ঘ ছিলো ২০৭ কিমি প্রস্ত ৬৭ মি.। এখন কোথাও দৈর্ঘ প্রস্ত খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও ৩০ কোথাও ৪০ ফুট মরা খালের মতো পাওয়া যাচ্ছে।

মুক্তিযোদ্ধা মনোহর আলী তোতা বলেন, ডাকাতিয়া নদীর কারণে এক সময় লাকসাম ব্যবসাবাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটে। আজ সব হারিয়ে যাচ্ছে। শুধু নদী নয়, সব নদী ও খাল রক্ষায় প্রশাসনকে এগিয়ে আসতে হবে।

মেয়র আবুল খায়ের বলেন, ডাকাতিয়া নদী এক সময়ে আমদের জন্য আশির্বাদ ছিল কিন্তু এখন অভিশাপে দাড়িয়েছে। যেখানে ছিল ব্যবসার জৌলুস তা হারিয়ে গিয়েছে।

এলজিআরএডি ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ডাকাতিয়া নদীর আশেপাশে দখলদার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, নদী খনন ওয়াকওয়ে নির্মাণ, ল্যাম্পপোস্ট লাগানোসহ দৃষ্টিনন্দন করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে এ বছরের মধ্যেই অবৈধ দখল ও স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত