প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভোগান্তিতে এলাকাবাসি, যাত্রী ও পথচারীরা
শম্ভুগঞ্জের ময়লার স্তুপই যেন সবচেয়ে ক্ষমতাবান

মাহমুদুল হাসান রতন: এটা নয় ময়লা, এটা হল ময়না। তবে এই ময়না, কভু কথা কয়না। এটা নয় হেলাফেলার, এটা মোদের গয়না। সত্যিই এটা শক্তিশালী এতে আছে ভয় না। তাইতো দেখি একে নিয়ে কেউই কথা কয় না এমনি কবিতার ভাষায় তার ফেসবুকে লিখেছেন সনত ঘোষ নামে একজন। মূলত বিষয়টি হলো ময়মনসিংহ শহরের শম্ভুগঞ্জ ব্রিজ সংলগ্ন ময়লার স্তুপ নিয়ে। যেখানে রাখা হয় ময়মনসিংহ শহরের পুরো ময়লা।

ময়মনসিংহ সিটি এলাকার আবর্জনা ফেলার নিজস্ব কোন ডাম্পিং পয়েন্ট না থাকায় পুরো শহরের ময়লা আবর্জনা ও বিভিন্ন বর্জ্য ফেলা হচ্ছে ময়মনসিংহ ব্রিজের শেষ প্রান্তের শম্ভুগঞ্জের রাস্তার পাশে। আর এসব ময়লা-আবর্জনা ফুটপাত পেরিয়ে এখন ময়মনসিংহ, শেরপুর এবং নেত্রকোনা মহাসড়কের উপর। ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে পথচারীসহ এ মহাসড়ক দিয়ে চলাচলরত যানবাহনের যাত্রীরা।

এসব ময়লা আবর্জনা সড়ক-মহাসড়কের পাশে ফেলার কারণে একদিকে যেমন বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে অন্যদিকে সড়ক মহাসড়ক দিয়ে চলাচলরত পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

ফলে পথচারীরা বাধ্য হয়ে ময়লা আবর্জনা উপর দিয়ে হেঁটে রাস্তা পারাপার হচ্ছে। এই স্থান দিয়ে পথচারীরা নাকে রুমাল চেপে চলাফেরা করে।

শম্ভুগঞ্জ ময়লা স্তুপ এলাকার বাসিন্দারা অনেকে জানান, পঁচা-আঁশটে চেংটা গন্ধে শান্তিতে দুমুঠো ভাত খেতে পর্যন্ত পারি না। এই অবস্থায় দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করছি এখন আর পারছি না এই ছোট ছোট শিশুদের কে নিয়ে। সিটি কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করবে বলে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

এটি ময়মনসিংহ সিটির অন্যতম প্রবেশদ্বার। বিশেষ করে যারা নেত্রকোনা, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরব হয়ে সিলেট, চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে ময়মনসিংহে আসবেন বা বেরিয়ে যাবেন তাঁদের মূলতঃ স্বাগত জানাতেই বিশাল ময়লার স্তুপ সাজিয়ে রাখা হয়েছে দিনের পর দিন। কোন কারণে গাড়ির জ্যাম লেগে গেলে কী দুর্গন্ধ তা শুধু ভুক্তভোগিরাই বলতে পারবেন।

এ নিয়ে পরিবেশ নেতা কবি ও ছড়াকার আলী ইউসূফ বলেন, আমাদের নগরে একজন বিভাগীয় কমিশনার আছেন, আমাদের নগরে একজন ডিআইজি আছেন, আমাদের নগরে একজন ডিসি আছেন, আমাদের নগরে একজন এসপি আছেন, আমরা নগরে একজন নগর পিতা আছেন, আমরা এই নগরে বর্তমান সরকারের দুজন প্রতিমন্ত্রী পেয়েছি এই নগরে একজন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থাকেন, অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য আরও জনাকয়েক ক্ষমতাবান আমলা থাকেন। তবে যে যত বড় ক্ষমতাবানই হোননা কেন, সবচেয়ে বড় ক্ষমতাবান হচ্ছে শম্ভুগঞ্জ ব্রীজের কাছে থাকা ময়লার স্তুপ। ময়লার স্তুপই এই নগরে সবচেয়ে ক্ষমতাবান। তা না হলে কেউ এই ময়লাকে সরাতে পারছে না কেন?

মামুন মোয়াজ্জেম নামে এক যাত্রী বলেন, প্রতিবার বাড়ী যাওয়ার সময় তার আপ্যায়ন গ্রহন করে থাকি। আর মনে মনে পরিবেশনকারীদের গোষ্ঠী কিলাই….একটি শহরের প্রবেশদ্বারে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার পাশেই নগরের সব উচ্ছিষ্ট ফেলতে হয় এমন ইনোভেশন ময়মনসিংহেই সম্ভব কারণ সারাদেশ জানে ময়মনসিংহ একটি নোংরা শহর। এখানকার মূল রাস্তাগুলোর পাশে প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে ময়লা স্তুপ করে রাখা হতো…কি খাবার হোটেল কি কাপড়ের দোকান সবখানে ঢুকতে গেলে ময়লার স্তুপের উপরে লং জাম্প না দিলে হতো না। শহর থেকে ময়লা একটু দূরে গেলো আরকি। তাও বা কম কিসে? তাতেই নগর পিতা গো.. তৃপ্তির ঢেঁকুর ওঠে। যা বাবা কিছু ময়লাতো শহর ছাড়লো। আর আমা গো মতোন পূর্ব ময়মনসিংহ বাসীদের ময়লাময় স্বাগতও জানানো গেলো। কিন্তু তার আগে দরকার নাগরিকদের সিভিক জ্ঞান ও মগজ থেকে ময়লা পরিষ্কার। আর কর্তাব্যক্তিদেরও একটু অগ্রসরমান চিন্তাভাবনা। নইলে কঠোর সংগ্রাম করে এদের এখান থেকে সরালেও শেষে প্রথম সাফল্যের পর আবারও কোন জনাকীর্ণ স্থানেই তারা পুনর্বাসিত হবে।

এব্যাপারে সিটি প্রশাসক ইকরামুল হক টিটু বলেন, সময় এবং সুযোগ হলেই এর যথাযত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত