প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢাকা উত্তর সিটিতে কোন দলকে নয়, যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নিবেন ভোটাররা প্রত্যাশা শাফিনের

শাকিল আহমেদ: আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) উপনির্বাচনে কোনও বিশেষ দল বা তার প্রতীক দেখে নয় বরং যোগ্যতা দেখেই ভোটাররা যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিবেন বলে প্রত্যাশা করছেন জাতীয় পার্টি থেকে মনোনীত মেয়র প্রার্থী শাফিন আহমেদ।

ডিএসসিসির উপনির্বাচনের আর মাত্র দুদিন বাকি আছে। মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) শেষ হচ্ছে এর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। শেষ সময়ে নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। আর ভোটাররা কষছেন শেষ মুহূর্তের হিসাব-নিকাশ।

কে হবেন উত্তর সিটির নগর পিতা? এ নির্বাচনে আলোচনায় রয়েছেন জনপ্রিয় ব্যান্ডদল মাইলসের কন্ঠশিল্পী ও জাতীয় পার্টির মনোনীত মেয়র প্রার্থী শাফিন আহমেদ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আতিকুল ইসলাম।

নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় শাফিন আহমেদের। শাফিন আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচনের প্রস্তুতি ভালোভাবে চলছে, প্রতিদিনই উত্তর সিটির বিভিন্ন এলাকায় আমাদের নির্বাচনী ক্যম্পেইন চলছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও  চলছে ব্যাপক প্রচারণা। তবে এখন আমরা ভোটের দিনের প্রস্তুুতির দিকে নজর দিচ্ছি। যেমন এজেন্ট, পোলিং এজেন্ট ইত্যাদি।’

ভোটারদের কাছ থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একই রকম রাজনীতি দেখে সবাই এখন একঘেয়েমি হয়ে গেছে। অনেকেই হতাশ কোনকিছু করেই কোনও পরিবর্তন আনা যাচ্ছে না। কিন্তু মানুষ তো পরিবর্তন চায়। ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোটাররা কোন রাজনৈতিক দলকে নির্বাচিত করবে না। তারা একজন যোগ্য প্রার্থীকে খুজে ভোট দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করবে। আমি মনে করি সেই দৌড়ে আমি এগিয়ে আছি। এর সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে আমার জনপ্রিয়তা, আমার পরিবারের সুনাম যা সাধারণ মানুষের মুখ থেকেই আমি শুনেছি। তারা আমাকে পেয়ে অনেক খুশি । তারা মনে করেন ‘আমি যদি ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র নির্বাচিত হই তা হলে এ সিটিকে একটি সুন্দর নগরীতে পরিণত করতে পারবো।

শুধু সংঙ্গীত জগতই নয় এর বাইরেও শাফিন আহমেদ কাজ করেছেন বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনে। এ বিষয়ে শাফিন আহমেদ বলেন, ‘আমি সাধারণ মানুষের কাতারের লোক। সারাজীবন সঙ্গীত জগতে মানুষের কাছাকাছি কাজ করেছি, চ্যারিটি করেছি। অনেক সময় নিজে এক পয়সাও না নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করেছি, ক্যান্সার হাসপাতালের জন্য ফান্ড তুলেছি। পুলিশের ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশন আছে সেখানে তহবিল গঠন করেছি। এমনকি দেশে ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালে অনেক বড় বড় বন্যা হয়েছে সে সময়ও আমরা নিজেদের উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে টাকা তুলে প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিলে দিয়ে দিয়েছি।’

সামাজিক কাজের এ রকম আরোও অনেক উদাহরণ রয়েছে। তবে অন্য মেয়র প্রর্থীদের কিন্তু এ রকম কোন কাজের সাথে খুজে পাবেন না। সামাজিক কাজের বিষয়ে তাদের কোন অভিজ্ঞতা নেই। তারা কখনোই মানুষের কাছাকাছি ছিলেন না। এখনো তারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছেন। তারা বলে ১৫ হাজার লোককে চাকরি দিয়েছে। এটা ঠিক নয়, কারণ ভিন্নভাবে যদি দেখি তাহলে তার ব্যবসা বাড়ানোর জন্য লোকের প্রয়োজন হয়েছে। সবাই এখানে কাজের বিনিময়ে টাকা নিচ্ছে। এমনকি পরিশ্রমের তুলনায় কমই বেতন পাচ্ছে।

আসন্ন নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে শাফিন বলেন, আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত কোথাও বাধাগ্রস্থ হইনি। তাই আশা করছি ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোটাররা নির্ভিঘ্নে ভোট দিতে পারবে। জয়-পরাজয় বড় বিষয় নয়, ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে গেলে এটাতো বলতে পারবো যে একটা প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আনিসুল হক মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়র আনিসুল হক মারা যান। এরপর ৪ ডিসেম্বর মেয়রের পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়। এর ফলে ৯০ দিনের মধ্যে আরেকটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছিল। আইন অনুযায়ী গত বছরের ৯ জানুয়ারি এ পদে উপনির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। এছাড়া উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে যুক্ত হওয়া ৩৬টি ওয়ার্ডে নির্বাচনের কথা ছিল একই বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি।  এর বিপক্ষে উচ্চ আদালতে রিট করা হলে ডিএনসিসি নির্বাচনের তফসিলের কার্যকারিতা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। পরবর্তীতে আরও ছয় মাসের জন্য নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত করেন আদালত। এরপর চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি এই নির্বাচনের স্থগিতাদেশ ও রুল খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। এরই প্রেক্ষিতে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উপ-নির্বাচন তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত