প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভেজাল মদে ভারতে বছরে মারা যায় হাজারো মানুষ

মারুফুল আলম : ভারতের আসামে বিষাক্ত মদ্যপানে নিহতের সংখ্যা ১৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে রোববার মারা গেছে ৪৫ শ্রমিক। বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছে প্রায় আড়াই’শ জন। তাদের মধ্যে ১৭ জনের অবস্থা আশংকাজনক। এর মধ্যে গোলাঘাট জেলায় মারা গেছেন ৮৫ জন, চিকিৎসা নিচ্ছেন আরো ১০০ জন। এছাড়া জলহাট জেলায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮ জনে। এখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১৬০ জন। এ ঘটনায় আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল দুটি জেলায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বিষাক্ত মদ ছড়িয়ে পড়ায় রাজ্যজুড়ে ১০০টির বেশি মামলা হয়েছে। আটক করা হয়েছে ২০ জনকে। এছাড়া বিষাক্ত মদ বিক্রি বন্ধে ব্যর্থ হওয়ায় বরখাস্ত করা হয়েছে দুই কর্মকর্তাকে। একাত্তর টিভি।

মদের বিষক্রিয়ায় ভারতে প্রতিবছর গড়ে মারা যায় অন্তত হাজার খানেক মানুষ। নিহতের বেশির ভাগই দরিদ্র আর নি¤œবর্নের। কমদামে অবৈধ কারখানায় বানানো ভেজাল মদের কারনে প্রায় ঘটছে এমন মৃত্যু আর শারীরিক ক্ষতি। সেই সঙ্গে মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ঘরোয়া পদ্ধতিতে বানানো মদেও ঝরছে অনেক প্রাণ।

ভেজাল মদ খেয়ে চিরতরে চোখের আলো হারিয়েছেন হাবিবুর রহমান। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার চোখের দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। হাবিবুরের এই গল্পটা পুরনো হলেও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ আসামসহ বিভিন্ন রাজ্যে মাঝেমাঝে প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে বিষাক্ত মদ। ভেজাল মদ স্নয়ু, লিভার, কিডনী ও চোখের ক্ষতিকর রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

ভারতের নি¤œবর্ণ মানুষের কাছে আর দশটা পানীয়ের মতোই স্বাভাবিক মদ। নিজেদের আনন্দ-বেদনা-উৎসব সবখানেই নিয়োজিত থাকে মদ্যপায়ীরা। নিম্ন আয়ের মানুষ চড়া দামে অ্যালকোহল কিনতে পারে না। বিপরীতে তাদের হাতের নাগালেই থাকে ভেজাল মদ। এছাড়াও অভিজাত এলাকায় নির্দিষ্ট জায়গায় মদ বিক্রি হয়। আর কিনতেও লাইসেন্স লাগে। কিন্তু প্রত্যন্ত এলাকায় মোড়ে মোড়ে মদ পাওয়া যায়।

মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ঘরোয়া পদ্ধতিতে বানানো দেশীয় এসব মদ। বেশির ভাগ সময়ই এর সাথে মেশানো হয় মিথাইল অ্যালকোহল। যা কেন্দ্রিয় স্নয়ু তন্ত্রে আঘাত হানে আর হয়ে ওঠে মৃত্যুর কারণ। কখনো মেশানো হয় শিল্পখাতে ব্যবহৃত অ্যালকোহলসহ বিষাক্ত উপাদান। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিশকে হাতে রেখেই অবৈধ এসব মদ তৈরির কারখানা চালু রেখেছে মালিকরা। প্রাণহানি হলেই কেবল নজরে আসে ভেজাল মদের বিষয়টি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ