প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আর হলমার্ক ‘চায় না’ কেন্দ্রীয় ব্যাংক

কালাম আঝাদ: ব্যাংক খাতে আর কোনো হলমার্ক চায় না আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বাংলাদেশ ব্যাংক। এক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ বিল ক্রয়ের (আইবিপি- ইনল্যান্ড বিল পারচেজ) মাধ্যমে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম ও জাল-জালিয়াতি সংগঠিত না হয়, সেজন্য ব্যাংকগুলোকে পরোক্ষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, আইবিপির স্বীকৃতি প্রদানের পর অবশ্যই ব্যাংককে সে মূল্য যথাযথ সময়ের মধ্যেই পরিশোধ করতে হবে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিশ্বাসের ঋণ (এলএটিআর- লোন এগেনেস্ট ট্রাস্ট রিসিপ্ট) এবং আইবিপির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সেজন্য পৃথক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, আইবিপির মাধ্যমেই মূলত সোনালী ব্যাংকে হলমার্কের কেলেঙ্কারি সংঘটিত হয়। এক্ষেত্রে বেশকিছু ব্যাংক সোনালী ব্যাংকের ইন্টারকন্টিনেন্টাল শাখার (সাবেক রূপসী বাংলা, এর আগে শেরাটন) স্বীকৃত বিল ক্রয় করে এক রকম বিপদে পড়ে। এ কারণেই হলমার্কের ৩ হাজার ৬০৬ কোটি টাকার জালিয়াতির মধ্যে ২০১২ সালের ডিসেম্বর নাগাদ দেড় হাজার কোটি টাকারও বেশি বিল ওভারডিউ হয়ে পড়ে। অর্থাৎ সোনালী ব্যাংক হলমার্কের বিলগুলোতে স্বীকৃতি প্রদান করলেও সেসব বিল ক্রয় করে অন্যান্য ব্যাংক। পরে অনিয়ম শনাক্তের পর সোনালী ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে স্বীকৃত বিল প্রদানে গড়িমসি শুরু করে। কারণ আইবিপিতে অনিয়ম হয়েছে বলে সোনালী ব্যাংক গ্রাহকের কাছ থেকে আর অর্থ ফেরত পাচ্ছিল না। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যস্থতায় সোনালী ব্যাংক কয়েকটি ব্যাংকের স্বীকৃত বিল প্রদান করে।

উল্লেখ করা যেতে পারে, কোনো গ্রাহকের আইবিপিতে যে ব্যাংক স্বীকৃতি দেয় তাকে মাদার ব্যাংক বলা হয়। গ্রাহক যেকোনো ব্যাংকে এ বিল ভাঙ্গাতে পারে। এক্ষেত্রে গ্রাহক যখন পণ্য আমদানি পর সেটি বিক্রির করে মাদার ব্যাংককে অর্থ প্রদান করে; তখন মাদার ব্যাংক স্বীকৃত বিল ক্রয়কারী ব্যাংককে অর্থ প্রদান করে থাকে। এক্ষেত্রে অর্থ প্রদানে একটি নির্দিষ্ট সময় পার হলেই বিলটি ওভারডিউ হয়ে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, স্বীকৃতি প্রদানের পরও কোনো ব্যাংক বিলের মূল্য এখন থেকে আর বকেয়া রাখতে পারবে না। এমন অবস্থায় অর্থ প্রদানে গড়িমসি করলে বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংককে জানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এক মিলিয়ন ডলার (১০ লাখ মার্কিন ডলার) সমমানের বায়ার্স ক্রেডিট (ক্রেতা ঋণ) পরিশোধে সময়ও বাড়ানো হয়েছে। আগে এর সময় ৬ মাস থাকলেও এখন থেকে সেটি দ্বিগুণ সময় পাবেন ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ ব্যাংক এ ব্যাপারে পৃথক নির্দেশনাও প্রদান করেছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত