প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিমান ছিনতাই চেষ্টা নিয়ে মিডিয়ায় যেসব তথ্য উঠে এসেছে

মহসীন কবির : রোববার বাংলাদেশ বিমানের দুবাইগামী যাত্রীবাহী একটি ফ্লাইট ছিনতাইয়ের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। পরে কথিত বিমান ছিনতাই চেষ্টাকারী নিহত হয়েছে। তার নাম মাহাদী। এ ঘটনা নিয়ে দেশের দৈনিক পত্রিকাগুলো খবর প্রকাশে বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। আমরা পাঠকদের জন্য এগুলো তুলে ধরেছি।

প্রথম আলো লিখছে–
প্রায় তিন ঘণ্টার টান টান উত্তেজনার পর চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানের ময়ূরপঙ্খী উড়োজাহাজ ছিনতাই চেষ্টা ঘটনার অবসান হলো আজ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে। কমান্ডো অভিযানে উড়োজাহাজটিতে থাকা অস্ত্রধারী তরুণ নিহত হয়েছেন। ওই উড়োজাহাজ থেকে যাত্রী-ক্রুসহ সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাইম হাসান সাংবাদিকদের বলেছেন, বিমানের মধ্যে যাঁরা অস্ত্রধারীর (ছিনতাইয়ের চেষ্টাকারী) সঙ্গে কথা বলেছেন, তাঁরা বলেছেন ওই ব্যক্তিকে তাদের কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়েছে।
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রোববার বাংলাদেশ বিমানের ময়ূরপঙ্খী উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টার বিষয়ে রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এম নাইম এ কথা বলেন। ছিনতাইকারী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন এ ব্যাপারে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই বিষয়টি পাইলট জানিয়েছেন। যাঁরা তার (ছিনতাই চেষ্টাকারী) সঙ্গে কথা বলেছেন, তাঁরা বলেছেন তাকে সাইকোলজিক্যালি একটু ইমব্যালেন্স মনে হয়েছে। আমরা এটা শুনেছি।’

সমকাল লিখেছে,
ঢাকা থেকে দুবাইগামী বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১৪৭ ফ্লাইটটি জিম্মি করে এক ছিনতাইকারী। অস্ত্রের মুখে পাইলটকে বিমানটি অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে সে। বিমানে এ সময় ১২৪ যাত্রী, ১৪ পাইলট ও ক্রু ছিলেন। ছিনতাইকারী সব যাত্রীকে সিটে বসে থাকার হুমকি দিয়ে ককপিটে গিয়ে পাইলটকে জিম্মি করে। একপর্যায়ে ককপিটের দরজায় গুলিও করে সে। তার এক হাতে ছিল পিস্তল। আরেক হাতে ছিল ব্যাগভর্তি বিস্ফোরক।
যুগান্তর লিখেছে,
বাংলাদেশ বিমানের দুবাইগামী একটি উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টা পাইলট-ক্রুদের তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা ও যৌথবাহিনীর অভিযানে ব্যর্থ হয়েছে। রোববার বিকালে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার পর মধ্যাকাশে এ ঘটনা ঘটে।
এরপর অত্যন্ত সুকৌশলে ককপিটের দরজা বন্ধ করে বিমানটিকে শাহ আমানত বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেন পাইলট। সেখানে উদ্ধার অভিযানের সময় উড়োজাহাজে থাকা অস্ত্রধারী ছিনতাইকারীকে আহতাবস্থায় আটক করা হয়। পরে তার মৃত্যু ঘটে। নিহত ছিনতাইকারীর নাম মাহাদী। তার বুকে বোমা বাঁধা ছিল। এরআগে বিমানটির যাত্রী-ক্রুসহ সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

ওই অস্ত্রধারীকে বিশেষ অভিযানে বিমানের ভেতর থেকে আহতাবস্থায় বের করে আনা হয়। তার পরিচয় এখনও জানা যায়নি। অস্ত্রটি কী ধরনের সেটাও এখনও সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে রাত সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুবার রহমান টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, মাহাদীর কাছে যে অস্ত্রটি পাওয়া গেছে সেটি খেলনা পিস্তল।

ডেইলি স্টার লিখছে-
কমান্ডো অপারেশনের মাধ্যমে ২৪ ফেব্রæয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ‘ছিনতাইকারীকে’ আহত অবস্থায় আটক করার পর তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়েছে বলে জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাইম হাসান।
সংস্থাটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে মনে হয়েছে। তার কথাবার্তায় অসংলগ্নভাব ছিলো বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাওয়ার পথে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ বিকালে চট্টগ্রামে শাহ আমানত আন্দর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের পর উড়োজাহাজের ভেতরে থাকা ‘ছিনতাইকারীকে’ আহত অবস্থায় আটক করা হলে পরে তার মৃত্যু হয়।
সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুবাইগামী উড়োজাহাজের ছিনতাইকারী নিহত হয়েছেন। অভিযান পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়।

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রোববার রাত সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম জিওসি মেজর জেনারেল মতিউর রহমান বলেন, “ছিনতাইকারী আক্রমণাত্মক হওয়ায় তার এই অবস্থা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “আমরা খুব দ্রæত এই অভিযানটি পরিচালনা করেছিলাম। ছিনতাইকারী আক্রমণাত্মক হওয়ায় তার সঙ্গে বেশি কথা বলা যাচ্ছিলো না।” প্রথমে তাকে আহত করা হয় এবং পরে তিনি মারা যান বলেও জানান জিওসি।

মানবজমিন লিখছে–
ঢাকা থেকে দুবাইগামী বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছে অস্ত্রধারী ব্যক্তি। সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে ওই ছিনতাইকারীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বিকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া বিজি-১৪৭ ফ্লাইটে অস্ত্রসহ উঠে মাহাদি নামের ছিনতাইকারী। মাঝ আকাশে সে বিমান ক্রুদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বিমান ছিনতাইয়ের কথা জানায়। ক্রুরা বিষয়টি ককপিটে থাকা পাইলটকে সংকেতের মাধ্যমে জানালে পাইলট ফ্লাইটটি চট্টগ্রামে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। বিকাল পাঁচটা ৪১ মিনিটে ফ্লাইটটি চট্টগ্রাম শাহ আমনত বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। তারপর যাত্রীদের জরুরি বহির্গমন দরজা দিয়ে বের করে আনা হয়। তখনও দুই পাইলট ককপিটে বন্দি ছিলেন।
রাত পৌনে নয়টার দিকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের জিওসি মেজর জেনারেল এসএম মতিউর রহমান জানান, অভিযানে ছিনতাই চেষ্টাকারী ব্যক্তি মারা গেছেন। নিহত ওই ব্যক্তির নাম ‘মাহথি’- শুধু এটুকুই জানা গেছে। এছাড়া তার আর বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

অভিযান শেষে জিওসি বলেন, যৌথ কমান্ডো অভিযানে প্রথমে মাহাথি নামে ওই যুবক বিমানের ভেতরে আহত হয়, পরে তাকে উদ্ধার করে বিমানের বাইরে নেয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। যাত্রীদের কোনো ধরনের ক্ষতি ছাড়াই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা গেছে বলে জানিয়েছেন শাহ আমানত বিমানবন্দরের সিভিল এভিয়েশনের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার সারোয়ার- ই-জাহান। তিনি বলেন, খবর পেয়ে শাহ আমানত বিমানবন্দরে সেনা ও বিমান বাহিনী, র‌্যাব, সোয়াতসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার লোকজন জড়ো হন। যারা বিমানে কমান্ডো অভিযানের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তোড়জোড়ের মুখে অবশেষে অস্ত্রধারী ছিনতাইকারীকে পাকড়াও করা গেছে।
ফ্লাইটে থাকা এক যাত্রীর বর্ণনা অনুযায়ী ‘ফ্লাইটে হঠাৎ গুলির শব্দের মতো শব্দ শোনা গেছে। তখন সবাই ছোটাছুটি শুরু করে। প্লেটিও উঁচু-নিচু করছিল। যাত্রীরা সবাই কান্নাকাটি শুরু করে, দোয়া-দরুদ পড়ে। তিনি বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম, প্লেনে হয়তো আগুন লেগেছে। তখন দেখি, এয়ার হোস্টেজরাও যাত্রীদের সিটে সিটবেল্ট বেঁধে বসা। অনেকক্ষণ এমন পরিস্থিতি থাকার পর প্লেনেটি ল্যান্ড করে। তিনি বলেন, প্রথমে গেট দিয়ে নামতে পারিনি। পরে পাশের জরুরি গেট দিয়ে আমাদের নিচে নামানো হয়। ওই বিমানের যাত্রী ছিলেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালী-চান্দগাঁও আসনে জাসদের নির্বাচিত এমপি মইনুদ্দীন খান বাদল। তিনিও সব যাত্রীদের সঙ্গে নিরাপদে বেরিয়ে আসার পর গণমাধ্যমকে বলেন, ছিনতাইকারী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চায়।

ইত্তেফাক লিখেছে-
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট ছিনতাইয়ের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে। উড়োজাহাজটিতে থাকা একাধিক ক্রু ও যাত্রী ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানিয়েছেন, আকাশে ওড়ার পরপরই উড়োজাহাজটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়। একজন কেবিন ক্রু বলেন, ময়ূরপঙ্খী আকাশে প্রায় ১৫ হাজার ফুট ওপরে আসার পর উড়োজাহাজের ভেতরে যাত্রীদের আসনে থাকা এক ব্যক্তি উঠে ককপিটের দিকে আসেন। এ সময় ওই ব্যক্তি এক ক্রুর কাছে যান। তিনি ওই ক্রুকে ধাক্কা দেন এবং সঙ্গে সঙ্গে একটি পিস্তল ও বোমাসদৃশ একটি বস্তু বের করে বলেন, ‘আমি বিমানটি ছিনতাই করব। আমার কাছে পিস্তল ও বোমা আছে। ককপিটের দরজা না খুললে আমি বিমান উড়িয়ে দেব।’ এর মধ্যে অন্য কেবিন ক্রুরা ককপিটে থাকা ক্যাপ্টেন ও ফার্স্ট অফিসারের কাছে গোপনে সাংকেতিক বার্তা দেন যে উড়োজাহাজে অস্ত্রধারী আছে, উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টা হচ্ছে। ঠিক এ সময় উড়োজাহাজটি চট্টগ্রাম ও ঢাকার মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থান করছিল।
পরে সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এসএম মতিউর রহমান আরেক ব্রিফিংয়ে জানান, সন্ধ্যা ছয়টার দিকে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে এক অভিযান পরিচালিত হয়। প্রথমে ওই ছিনতাইকারীকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। সে আহবান প্রত্যাখ্যান করে আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করলে তার ওপর একশনে যাওয়া হয়। পরে গোলাগুলিতে ছিনতাইকারী নিহত হয়। প্রাথমিকভাবে তার নাম মাহাদী বলে জানা গেছে। বয়স ২৫/২৬ এর মতো হবে। তবে তার বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। বিমানের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সেনাবাহিনী। কেউ আহত হয়নি।
ছিনতাইকারীর সঙ্গে কথোপকথনের বরাত দিয়ে এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘ছিনতাইকারীর সঙ্গে আমাদের খুব অল্প সময় ধরে কথা হয়। সে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চাইছিল। তার স্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলতে চায়। তবে তার পরিবারের বিস্তারিত কিছু জানায়নি। ফোন নম্বরও দিতে পারেনি। সে যাত্রীদের কোনো ক্ষতি করার চেষ্টা করেনি। তবে কেবিন ক্রুদের জিম্মি করে। পরে তার সব কথা শোনা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হলে সে ক্রুদের মুক্ত করে দেয়।’

এ সময় বিমানের ওই ছিনতাইকারী গুলি ছোঁড়েনি জানিয়ে এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘তার কাছে একটি পিস্তল পাওয়া গেছে। তবে সেটা যাচাই বাছাই করে দেখতে হবে। তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে। তবে সে গুলি ছোঁড়েনি। এরকম একটা ঘটনা ঘটলে উপস্থিত লোকজনের কাছ থেকে নানা ধরনের বিভ্রান্তকর তথ্য ছড়ায়। এটাও সে রকম।’ আরো বিস্তারিত জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে বলে জানান এই সেনা কর্মকর্তা।

কালের কণ্ঠ লিখেছে—
বিমান ছিনতাইচেষ্টা রুদ্ধশ্বাস তিন ঘণ্টা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইগামী বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং ৭৩৭ ৮০০ মডেলের বিজি-১৪৭ ফ্লাইটটি ১৪৩ জন যাত্রী নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়াল দেয়। চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে নামবে ৫৮ যাত্রী। সেখান থেকে আরো ৭২ যাত্রী নিয়ে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল। উড়োজাহাজে পাঁচজন কেবিন ক্রু ও দুজন পাইলট ছিলেন।
মোহাম্মদ ওসমান নামের এক যাত্রী ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এক যাত্রী কাঁধে ব্যাগ নিয়ে দৌড়ে ককপিটের দিকে যায়। এ সময় তিনটি গুলি ছোড়ার শব্দ শোনা যায়। আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।’
মোহাম্মদ রাসেল নামের আরেক যাত্রী বলেন, ‘আমি ফ্লাইটের পেছনের দিকে সিটে ছিলাম। হঠাৎ এক যাত্রীর উচ্চ স্বর শুনে সামনের দিকে লক্ষ করি, সে চিৎকার করে ফ্লাইটের কেবিন ক্রুদের সামনের দিকে আসার নির্দেশ দিচ্ছিল। এ সময় তার হাতে অস্ত্র ছিল। পরিস্থিতি দেখে বিমানের যাত্রীরা উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়ে। তবে অস্ত্রধারী ওই যাত্রী বিমানের অন্য যাত্রীদের আক্রমণ করেনি।’
জানা যায়, পাইলট, ক্রু ও যাত্রীরা বেরিয়ে আসার পর জিম্মি অবস্থার অবসানে সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরুলের নেতৃত্বে প্যারা কমান্ডো দল অভিযানের প্রস্তুতি নেয়। এর আগে প্রথমে অস্ত্রধারীকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান দল নেতা। কিন্তু তাতে সাড়া না দেওয়ায় কমান্ডোরা অভিযান চালান। কমান্ডোরা উড়োজাহাজে ওঠার পর দুই-তিন মিনিটের মধ্যেই কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। এর মিনিট কয়েক পর আহত অবস্থায় একজনকে নামিয়ে আনতে দেখা যায়।
কমান্ডো অভিযান শুরুর আট মিনিটের মধ্যে সন্ধ্যা ৭টা ২৪ মিনিটে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থার উড়োজাহাজটি মুক্ত করা হয় বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এম নাঈম হাসান। রাতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার (সিএমপি) কমিশনার মো. মাহবুবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নিহতের লাশ আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আমরা পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করেছি।’

বাংলাদেশ প্রতিদিন লিখছে–
গতকাল দেশের আকাশে বাংলাদেশ বিমানের দুবাইগামী যাত্রীবাহী একটি ফ্লাইট ছিনতাইয়ের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ঘটনার পরে চট্টগ্রাম জিওসি মেজর জেনারেল এস এম মতিউর রহমান এক ব্রিফিংয়ে বলেন, বিমান ছিনতাইকারীকে পাকড়াও করা হয়েছে। তাকে প্রথমে আত্মসমপর্ণের জন্য অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তিনি তা না করায় অ্যাকশনে যায় অভিযানিক দল। এতে গুলিতে নিহত হন সেই ছিনতাইকারী।
এদিকে নিরাপত্তা বাড়াতে নানা পদক্ষেপের মধ্যে বিমানবন্দর পেরিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থার উড়োজাহাজে কীভাবে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে এই যুবক উঠে পড়লেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কিনাÑ সাংবাদিকদের প্রশ্নে বেবিচক চেয়ারম্যান নাঈম হাসান বলেন, ‘আমাদের যে সিস্টেম আছে এ ধরনের ব্যক্তি নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করা এপারেন্টলি সম্ভব নয়। তারপরও কী হয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখব।’
জানা গেছে, সন্দেহভাজন এই ছিনতাইকারীর নাম মাজেদুল হক ওরফে মাহাদী। তিনি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি ল²ীপুরে। কমান্ডোদের কাছে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চাচ্ছিলেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানে থাকা একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ঢাকা থেকে উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মধ্যেই ছিনতাইকারী বিমানের পাইলটকে নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা চালায়। তার হাতে ছিল আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমাসদৃশ বস্তু। ছিনতাই প্রচেষ্টার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে বিমানটি চট্টগ্রাম চলে আসে। কয়েক রাউন্ড চক্কর দিয়ে বিমানটি দ্রæততার সঙ্গে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
খেলনা পিস্তল : গত রাতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুবার রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বিমান ছিনতাই করতে গিয়ে যে যুবক কমান্ডো অভিযানে নিহত হয়েছে, তার হাতে থাকা অস্ত্রটি খেলনা পিস্তল। জিম্মি সংকটের অবসানের পর রাতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুবার রহমান এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘তার কাছে যে অস্ত্রটি পাওয়া গেছে এটা ফেইক, খেলনা পিস্তল। তাছাড়া শরীরে তেমন কিছু পেঁচানো ছিল না।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত