প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অণুকাব্য পাঠককে আকৃষ্ট করে, কারণ পড়তে খুব বেশি সময় ব্যয় করতে হয় না : লুৎফর রহমান রিটন

সানিম আহমেদ : ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন বলেছেন, অণুকাব্য আর ছড়ার মধ্যে মূল পার্থক্য হলো ছড়ায় পঙক্তি বেশি থাকে। অণুকাব্য ছোট্ট একটা বিষয়কে চার লাইনের ভেতর নিয়ে আসে। চার লাইনকে সম্প্রসারিত করে আট লাইন, বারো লাইন করাই যায়। অণুকাব্য যারা লেখেন তারা অল্পের মধ্যেই তার কথা সেরে ফেলেন। অণুকাব্য পাঠককে আকৃষ্ট করে। কারণ অণুকাব্য পড়তে খুব বেশি সময় ব্যয় করতে হয় না। সাহিত্য সাধনার বিষয়। এখানে কোনো ফাঁকি দেয়া চলবে না। সাহিত্যের সব শাখায়, কবিতায়, ছড়ায়, একটা জীবন উৎসর্গ করতে হয়। আমি অন্যান্য কাজে মনোনিবেশ করেছি, ফাঁকে ফাঁকে ছড়া লিখলাম। তাহলে ছড়াটা প্রথম সারির নাও হতে পারে। আমি যদি নিষ্ঠা দিয়ে, একাগ্রতা দিয়ে সাধনার পর্যায়ে ছড়াটাকে নিয়ে যাই, তাহলে ছড়ার উত্তরণ ঘটবেই, উন্নয়ন ঘটবেই। যিনি সাধনা করেন না, তার ছড়া একটা জায়গায় স্থির থাকবে। যিনি সাধনা করেন তার ছড়ার শাখা পল্লব বিস্তৃত হবে। তার ছড়ার জগত আরো রঙিন হবে। আরো ছন্দময় হবে। আরো বর্নাঢ্য হবে। কিন্তু তাকে প্রচুর পড়তে হবে। শুধু লিখলে হবে না। সমস্যাটা হচ্ছে আমাদের নবীনরা, আমাদের তরুণরা পড়ে কম, লেখে বেশি। অথচ ভালো ছড়া লিখতে হলে পড়তে হবে বেশি। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরও বলেন, আমি সিরিয়াস ছড়া অনেক লিখেছি। রাজনৈতিক ছড়া অনেক লিখেছি। ছোটদের ছড়া অজ¯্র লিখেছি। একটা সময় মনে হলো যারা ছড়া পড়েন না, কিন্তু কবিতা পড়েন, তাদের ছড়ার প্রতি আকৃষ্ট করতে চাইলাম। আমার সাথে হুমায়ুন আজাদের অনেক তর্ক হয়েছে। অনেক লেখকদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। তারা শিশু সাহিত্য বলে ছড়াকে অবজ্ঞা করতেন। আমার প্রতিবাদ ছিলো এটা। আমি হুমায়ুন আজাদকে বলেছিলাম, উপন্যাস লিখতে গিয়ে উপন্যাসের চরিত্রগুলোকে আপনি যেভাবে রূপ দেন, যৌনতা নিয়ে আসেন, ওই বিষয়গুলো তো আমি ছড়াতেও নিয়ে আসতে পারি। আমার মাধ্যমটা হচ্ছে ছড়া, আপনারটা গদ্য। ছড়াকে অবজ্ঞা করার কিছু নেই। তারপর আমি কিছু অ্যাডাল্ট ছড়া লিখেছিলাম। মেয়েদের লেখালেখি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটা মেয়ে ছড়ায় বা কবিতায় যতোটা স্বাধীনতা ভোগ করতে চাইবে, ততোটাই ভোগ করতে পারবে। একজন লেখক সম্পূর্ণ স্বাধীন। নারীরাও চাইলে যা খুশি লিখতে পারে। মেয়েদের কবিতা বা ছড়া লেখায় কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। বইমেলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলা একাডেমির বিন্যাস চমৎকার। আগেরবার স্বাধীনতার স্তম্ভ দূরে ছিলো। এ বছর কাছে। আমি মুগ্ধ। একুশে পদক যারা পেয়েছেন তারা নিশ্চয়ই অবদান রেখেছেন। বাংলাদেশে কিছু লোক আছেন যারা পদক দেয়া হলেই অহেতুক কলরব করেন। এখানে আওয়াজ করার কিছু নেই। যারা পাননি তারা পরে পাবেন। সদ্য প্রয়াত কবি আল মাহমুদ সম্পর্কে তিনি বলেন, কবি আল মাহমুদের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর ছিলো। তার সাথে আমার রাজনৈতিক মতাদর্শ মেলে না। রাজনৈতিক দিক দিয়ে আমরা দুজন বিপরীত দিকে, ভিন্ন মেরুর বাসিন্দা। সেকারণে তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্কটা ভাটা পড়েছিলো। সেটা শুধুই রাজনৈতিক কারণ। আমি তার একজন মুগ্ধ পাঠক। তিনি একজন শক্তিমান কবি বাংলা ভাষার। শিশু সাহিত্যে তিনি যেটুকু রচনা করেছেন, ছড়া লিখেছেন, সেগুলো অসাধারণ একেকটি ছড়া। কিন্তু যখন তিনি স্বাধীনতাবিরোধীদের অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে যান, তখনই তার সাথে আমার বিরোধ বাড়ে। কিন্তু আমি তাকে তার মতো থাকতে দিয়েছি, আমি আমার মতো থেকেছি। বিরোধে যাইনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত