প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অদম্য স্বপ্নবাজ কিশোরী মাহিন ও তার মায়ের গল্প

স্মৃতি খানম : ‘ধন্যবাদ, আমাকে সাহায্য করার জন্য। তোমার সঙ্গে কথা বলে ভালো লাগলো। আর তোমাকে আমার খুব ভালো লেগেছে।’ খুব দৃঢ়কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলো শারমিন হক মাহিন নামের অদম্য স্বপ্নবাজ এক কিশোরী। একেবারেই অপরিচিত মানুষের সঙ্গে স্পেশাল শিশুরা এভাবে সচরাচর কথা বলে না। কিন্তু মাহিন বললো। যা দেখে মনে হলো, মাহিন যেন একটু অন্য রকম।
দশম শ্রেণিতে পড়–য়া মাহিনের অবসর কাটে বই পড়ে, আর টিভি দেখে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, সে কখনো নাটক কিংবা সিনেমা দেখে না! শুধু গান আর কার্টুন। ব্যাংকার বাবা মাঈনুল হক আর গৃহিনী মা নাসরিন হকের একমাত্র সন্তান মাহিন। শিক্ষকতার স্বপ্নে বিভোর মাহিন আর দশটি কিশোরীর মতো স্বাভাবিক নয়। সে স্পেশাল কিশোরী। শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বড় হচ্ছে। মা-বাবাও স্পেশাল মেয়েকে পেয়ে সন্তুষ্ট। মেয়ের গানের তালে বাদ্য বাজিয়ে সুর তুলতে সাহায্য করেন বাবা। আর মায়ের তো কাজের শেষ নেই।
মেয়েকে নিয়েই কাটে মা নাসরিন হক নুপুরের সারাক্ষণ। দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মাহিন লিখতে পারতো না। হাতে কিছু ধরা বা বল প্রয়োগ করার ক্ষমতা ছিলো না তার। মায়ের প্রচেষ্টায় হাতের শক্তি ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি জীবনের অনেক কিছুই মাহিন পেয়েছে মায়ের কাছ থেকে। মা নাসরিন হক তাকে জীবনের অমূল্য এক বাণী শিখিয়েছেন, ‘তুমি সব পারবে’। এই বিশ্বাসেই এগিয়ে যাচ্ছে মাহিন। একসময় যে মেয়ে পড়তে পারতো না, মায়ের মুখে শুনে শুনে মুখস্থ করতো মাহিন। এরপর যখন নিজে পড়তে শিখলো তখন সেটা নেশা বানিয়ে ফেললো। যেখানেই থাকুক না কেন মাহিনের সবসময়ের সঙ্গী বই।
হুমায়ুন আহমেদের রহস্য পুরুষ ‘মিসির আলী’ তার প্রিয় চরিত্র। হুমায়ুনের বই সবসময় তার পাশে থাকে। ময়মনসিংহ থেকে যখন ঢাকাতে এসেছে ডাক্তারের কাছে তখনও তার ব্যাগে বই। পড়াটা এমন নেশায় পৌঁছেছে যে খাবারের প্যাকেট, টুকরো কাগজ এমনকি ঝালমুড়ির যে ঠোঙা সেটাও পড়ে ফেলে মাহিন! এটা নিয়ে অবশ্য মা-বাবার কোনও আপত্তি নেই। কেননা মেয়ের স্বপ্ন যে শিক্ষক হওয়া। তাও যেনতেন শিক্ষক নয়। পৃথিবীতে যেসব শিশু শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বড় হচ্ছে, তাদের শেখানোর মিশন নিয়ে বেড়ে উঠছে পনেরো বছরের মাহিন।
সমাজে প্রতিবন্ধী বলতে আমরা যেটা বুঝি ঠিক সেরকম কিশোরী মাহিন। কিন্তু নিজেকে প্রতিবন্ধী বলে ছোট মনে করার পাত্র মাহিন নয়। নিজেকে সে খুব সুখী ভাবে তার জীবন নিয়ে। বাবা-মাও যারপরনাই সঙ্গ দিয়ে যান মাহিনকে। এমনকি মেয়ের খুশির জন্য মা নাসরিন হক মাহিনের মতো শারীরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বেড়ে উঠছে এ রকম পঁচিশজন কিশোরীকে নিয়ে ছোটখাটো টিম গড়ে তুলেছেন। যেখানে আনন্দ আর খুশি ছড়িয়ে দেয়ায় মূল কাজ। মেয়ের বন্ধু হিসেবে পঁচিশজনকে নিয়ে মা নুপুর মাঝে মাঝে ঘুরতে বের হন। কোনও রেস্টুরেন্টে বসে তাদের পছন্দের খাবার খাওয়ান। কিংবা কোনোদিন খেলাধুলার আয়োজন করেন। তাছাড়া কারও জন্মদিন থাকলে সেটাও ঘটা করে পালন করেন সবার সঙ্গে। মেয়েকে আনন্দে দেখতে তার যে বড্ড ভালো লাগে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত