প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জীবনে চাওয়া পাওয়ার নেই, নিঃস্ব-রিক্ত হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে এসেছি চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

শহিদুল ইসলাম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশিও বিদেশী সকল ষড়যন্ত্র এবং বাধা অতিক্রম করে বাংলাদেশ আজ ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশকে এমনভাবে গড়ে তুলবো যেন সারা বিশ্ব বিস্ময়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে থাকে। বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ নামে শতবর্ষের পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি। ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবো। মুজিব বর্ষ ঘোষণা করেছি। ২০৭১ সালে স্বাধীনতার শতবর্ষ। আমাদের প্রজন্ম উন্নত, সমৃদ্ধশালী দেশে তা উদযাপন করবে। রোববার দুপুরে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের বোরিং কার্যক্রম এবং লালখানবাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার পাইলিং প্রকল্পের ফলক উন্মোচন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জীবনে আমার কোনো কিছু চাওয়া পাওয়ার নেই। নিঃস্ব-রিক্ত হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে এসেছি। আমার বাবা সারাটা জীবন এ দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কষ্ট করেছেন। আমার মাও কষ্ট করেছেন। তারা এদেশের গরিব-দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছেন। তিনি বলেন, বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ সম্মানজনক অবস্থানে এসেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম টানেল হচ্ছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে। ২০১০ সালে চট্টগ্রামে এসে টানেল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলাম। আজ তা বাস্তবায়ন করেত পেরছি। কর্ণফুলীর তলদেশে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণে প্রয়াত মেয়র মহিউদ্দীন চৌধুরীর স্বপ্ন ছিল। তিনি বেঁচে থাকলে আজ সবচেয়ে বেশি খুশী হতেন। মহিউদ্দীন চৌধুরী বলতেন কর্ণফুলী নদীর উপর ঘন ঘন ব্রিজ নির্মাণ করলে নদীর ক্ষতির হতে পারে। পলি জমে নদী ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। টানেল নির্মানের জন্য তিনি আন্দোলনও করেছিলেন। আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই, তিনি বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। বিভিন্ন আন্দোলন, সংগ্রামে ও মুক্তিযোদ্ধে তাঁর অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে মনে রাখবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীন বাংলাদেশের জন্য এ প্রকল্পে শতভাগ ঋণ সহায়তা দিয়েছে। এ টানেল আনোয়ারা উপজেলাকে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে যুক্ত করবে। ১০ কিলোমিটার সড়ক করা গেলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার চার লেন সড়কের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে।

চট্টগ্রামে প্রথম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আওয়ামী লীগ সরকার করে অবদান উল্লেখ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্তা আরও উন্নত করতে আরেকটি কাজ করে দিচ্ছি লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে। এটি পোর্ট সিটি। ব্যবসা-বাণিজ্য সব কিছু এ জায়গা থেকে হয়। চট্টগ্রামে বিশাল আকারে অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে। শহরে যানজট কমানোর জন্য বাইপাস করে দিচ্ছি। টানেল নির্মাণ হলে চট্টগ্রামে যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়ন হবে। কক্সবাজার পর্যটন শহর। যাতে পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠে সে লক্ষ্যে আলাদা কর্তৃপক্ষ করে দিয়েছি। দেশি-বিদেশী ষড়যন্ত্রনারা কথা উল্লেখ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ শুরু আগে বিশ্বব্যাংক অবহেলা করেছে। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টকে বললাম। মামলায় বিশ্বব্যাংক কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। বিশ্বব্যাংক যা যা বলেছে সব ভুয়া, বানোয়াট। কত যে মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছে তা আপনারা বুঝবেন না। আজ পদ্মা সেতু দৃশ্যমান। আমি নাম চাই না। জীবনে কোনো কিছু চাওয়া পাওয়ার নেই। সুধী সমাবেশে বিভিন্ন দফতরের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও আওয়ামীলীগের শীর্ষ স্থানীয় নেতা, সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার উদ্ধাতণ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে ৯ হাজার ৮৮০ কোটি টাকায় ৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ৫ মিটার দীর্ঘ এই টানেল ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়। টানেলটি নেভাল একাডেমি পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে কাফকো ও সিইউএফএল পয়েন্টের মাঝখান দিয়ে অপর প্রান্তে যাবে। নদীর তলদেশে সর্বনিম্ন ৩৬ ফুট থেকে সর্বোচ্চ ১০৮ ফুট গভীরে স্থাপন করা হবে দুটি টিউব। ২০২২ সালের মধ্যে এ টানেলটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত