প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পুঁজিবাজারে আসতেই হবে নতুন ৯ ব্যাংককে

রমজান আলী : রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকারের পরামর্শে নতুন ৯টি ব্যাংকের অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে ২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে এসব ব্যাংক কার্যক্রম শুরু করে। লাইসেন্স নেওয়ার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া লেটার অব ইনটেন্টের (এলওআই) শর্তানুযায়ী কার্যক্রম শুরু তিন বছরের মাথায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও নানা অপারগতা প্রকাশ করে আরও তিন বছর সময় বাড়িয়ে নেয় ওই ৯ ব্যাংক। সে সময়ও শেষ হয়ে আসছে। এরই মধ্যে কোনো কোনো ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আরও সময় চেয়ে আবেদন করেছে। কিন্তু এবার আর সময় বাড়াতে রাজি নয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বরং যেসব ব্যাংক সময় চেয়ে আবেদন করছে, তাদের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে যাত্রা করে বেসরকারি খাতের সাউথবাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংক। আগামী ৩ এপ্রিল ওই ব্যাংকটি সেবা প্রদানের ছয় বছরপূর্তি উদ্যাপন করতে যাচ্ছে। তবে ওই ছয় বছরপূতির সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকটির পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য দেওয়া বর্ধিত সময়ও শেষ হচ্ছে। সে কারণে ব্যাংকটি আগেভাগেই আরও কিছুটা সময় চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করে। কিন্তু এবার সময় বাড়ানোর আবেদন নাকচ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে ব্যাংকটিকে আইপিও ইস্যু করে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে হচ্ছে।

জানতে চাইলে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান এসএম আমজাদ হোসেন বলেন, আমরা পুজিবাজারে যেতে প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিন দিন আগেও এ নিয়ে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আলাপ-আলোচনা করে আমরা প্রাথমিক কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। এরই মধ্যে ইস্যু ম্যানেজার নির্বাচনের কাজ শুরু হয়েছে। আশা করা যায়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমরা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির কার্যক্রম শুরু করতে পারব।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা থাকলেও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মৌলিক শর্তগুলো পূরণ করতে না পারলে কোনো ব্যাংকই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে না। সেক্ষেত্রে ওই ব্যাংকগুলোকে ধারাবাহিক মুনাফা অর্জনের মতো মৌলিক শর্ত পূরণ করে পুঁজিবাজারে আসতে হবে।

জানা গেছে, চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যে পদ্মা ব্যাংক লিমিটেডের (সাবেক দি ফারমার্স ব্যাংক) রিটেইন আর্নিং এখনও ঋণাত্মক তথা পুঞ্জিভূত লোকসানে রয়েছে। এ থেকে উত্তরণ ও মুনাফার ধারায় ফেরার পর ব্যাংকটি পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া সময় হিসেবে আগামী জুন পর্যন্ত সময় পাবে। ওই ব্যাংকটি কার্যক্রম শুরু করেছিল ২০১৩ সালের ৬ জুন।

এছাড়া মেঘনা ব্যাংক বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে ২০১৩ সালের ৯ মে। একই বছরের ২০ জুন মিডল্যান্ড ব্যাংক এবং ১৯ সেপ্টেম্বর মধুমতি ব্যাংক বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে।

প্রবাসী উদ্যোক্তাদের দেওয়া এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক কার্যক্রম শুরু করে ২০১৩ সালের ২ এপ্রিল। একই বছরের ২৮ মে এনআরবি ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এছাড়া এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক তার প্রথম শাখা চালু করে ২০১৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর।
চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যে একমাত্র শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংক ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড ২০১৩ সালের ২১ ডিসেম্বর বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে এসে ব্যাংকগুলোর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার সময় ঘনিয়ে এলে ব্যাংকগুলো তাদের অপারগতা প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন করে। ব্যাংকগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটি কোনো কোনো ব্যাংককে একবারে তিন বছর সময় বাড়িয়ে দেয়। আবার কোনো কোনো ব্যাংককে প্রথমে দুবছর এবং পরে আরও এক বছর সময় দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে গড়ে প্রতিটি ব্যাংকই বাড়তি তিন বছরসহ মোট ছয় বছর সময় পায় পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার। তবে বেশিরভাগ নতুন ব্যাংক মুনাফায় থাকায় এবার তা পেছানোর কোনো সুযোগ নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এখনও ব্যাংকগুলোর জন্য বেঁধে দেওয়া সময় শেষ হয়ে যায়নি। এ সময়ের মধ্যে তাদের পুঁজিবাজারে আসতে হবে। যারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাজারে আসতে পারবে না তাদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত