প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিংগাইরে বাণিজ্যিক ভাবে ফুল চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে

সিরাজুল ইসলাম, সিংগাইর : রাজধানী ঢাকার পার্শ্ববর্তী মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা ইতিমধ্যেই ফুলের জন্য বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। অন্যান্য ফসলের চেয়ে লাভ বেশী হওয়ায় বাণিজ্যিক ভাবে এখানে ফুল চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পৌর এলাকাসহ এ উপজেলার বলধারার কালিয়াকৈর, শায়েস্তার কানাইনগর, ধল্লার ফোর্ডনগর , তালেবপুর, জামির্ত্তা ও জয়মন্টপ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে দু’শতাধিক বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ফুলের আবাদ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় চলতি মৌসুমে ফুলের উৎপাদনও হয়েছে ভালো। এ বছর সিংগাইরের চাষিরা প্রায় ৬ কোটি টাকার ফুল বিক্রি করবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান ।

সরেজমিন রোববার দেখা গেছে, কানাইনগর গ্রামে টিটু মিয়ার বিস্তীর্ণ জায়গাজুড়ে গ্রীণহাউজ শেডে জারবেরা ফুলের সমারোহ। ওই বাগানে শোভা পাচ্ছে একই প্রজাতির ৭ রঙের ফুল। বাগানের ম্যানেজার সাব্বির আহমেদ বলেন, আমরা পাঁচ বিঘা জমি লীজ নিয়ে বছরখানেক আগে ভারত থেকে প্রতিটি ৮০ টাকা দরে একই জাতের ২২ হাজার ফুলের চারা ক্রয় করে এনে লাগিয়েছি। আমাদের এ প্রজেক্টে ৪২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। চারা রোপনের ৩ মাস পর থেকেই ফুল আসা শুরু হযেছে। সাত মাস যাবত দু’দিন পর পর গড়ে ৫ হাজারের অধিক ফুল সংগ্রহ করছি।

তিনি আরো বলেন, ঢাকাস্থ আগারগাঁও ফুলের মার্কেটে প্রতিটি ৮-১০ টাকায় পাইকারি বিক্রি করে থাকি। বিশেষ দিবস ছাড়াও আগামী আরো ৫ মাস পর্যন্ত এভাবেই ফুল তোলা যাবে। সব মিলিয়ে এ বছর প্রায় অর্ধকোটি টাকার ফুল বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি। এ প্রজেক্ট আগামী দু’বছর পর্যন্ত থাকবে। আগামীতে খরচ অনেক কম হবে বিধায় লাভের পরিমান বৃদ্ধি পাবে । তাছাড়া ভারত থেকে আমাদের আর চারা আমদানি করতে হবে না।

পার্শ্ববর্তী আব্দুল করিমের ৬ বিঘা জমিতে রয়েছে চন্দ্রমল্লিকা, কেলেনডোলা ও গোলাপ ফুল। ফুলের সৌন্দর্য কেবল মানুষের মনের প্রশান্তিই আনে না, ফুল চাষ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এনেছে অনেকের জীবনে। এ এলাকার অনেক চাষি তাদের জমিতে ধান পাটের বদলে সারা বছরই ফুল চাষ করছেন। তাদের উৎপাদিত গোলাপ, রজনীগন্ধ্যা, গ্লাডিওলাস, গাঁদা, ডালিয়া ও জিপসীসহ ১০ ধরনের ফুল মানুষের মন কেড়েছে। সিংগাইর পৌর এলাকার আজিমপুর মহল্লার ফুল বাগানের মালিক মোনেম আহম্মেদ বিপ্লব বলেন, আমি সাত বিঘা জমিতে গোলাপ চাষ করেছি। ফলনও হয়েছে ভালো। এ বছর প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকার ফুল বিক্রির আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ টিপু সুলতান সপন বলেন, মাঝারি ও উচু জায়গা ফুল চাষের জন্য খুবই উপযোগী। ফুলের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়াতে চাষিরা ফুল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কৃষি সম্প্রসারন অফিসের পক্ষ থেকে ফুল চাষে উদ্বুদ্ধ করার জন্য ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রজেক্টের আওতায় কয়েকটি ফুলের প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে।
তাছাড়া অন্যান্য ফুল চাষিদের আমরা বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছি। চলতি অর্থবছরে প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ২ হেক্টর বেশি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত