প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক পদার্থের কারখানা সরানোর দাবি বিআইপি’র

শাকিল আহমেদ: পুরান ঢাকা থেকে সকল প্রকার বিপদজনক রাসায়নিক পদার্থের কারখানা, শিল্প-কারখানা,গুদাম ও দোকান দ্রুত অপসারণ করে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। রোববার রাজধানীর বাংলামোটরে বিআইপির কনফারেন্স হলে আয়োজিত ‘পুরান ঢাকায় অগ্নিকান্ড এবং সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা ও উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত করণীয়’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, পুরান ঢাকা থেকে বিপদজনক কেমিক্যাল কারখানা সরিয়ে নেবার জন্য ২০১৫ সালে বিসিক এর উদ্যোগে কেমিক্যাল পল্লী নির্মাণের প্রস্তাব এবং ২০১৭ সালে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরেকটি প্রকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়। এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নেয়া হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য সাড়া মেলেনি। কিন্তু সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ কখনো কারো ইচ্ছা-অনিচ্ছার উপর জিম্মি থাকতে পারে না।এ ক্ষেত্রে সরকারের তরফ থেকে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা এবং কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার ছিল বলে আমরা মনে করি।

তারা আরো বলেন,পুরান ঢাকার অগ্নিকাণ্ড কবলিত ওয়াহিদ ম্যানশন ভবনটি নির্মাণ ইমারত বিধিমালা, বিল্ডিং কোড, ফায়ার সেফটি স্ট্যর্ন্ডট সহ আইন কানুন কিছুই মানা হয়নি।পুরান ঢাকার অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাস্তবতা একই।

বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকার প্রায় ৯৫ শতাংশ ভবন আগুনের প্রস্থান নেই। এছাড়া উচ্চ ঘনত্ব,সংকীর্ণ রাস্তা, দাহ্য বিল্ডিং উপকরণ, পানি এবং বৈদ্যুতিক সরবরাহ ব্যবস্থা এবং রাসায়নিক কারখানা ও দামের কারণে রাজধানীর আবাসিক এলাকায় বসবাস চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চকবাজার অগ্নিকাণ্ডের মতো মর্মান্তিক এমন ঘটনা সঠিক পরিকল্পনা কার্যকরী উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা ও সুস্থ নজরদারিতে থাকলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়ানো অসম্ভব উল্লেখ করে আলোচকরা বলেন, ২০১০ সালের ৩ জুন নিমতলী অগ্নিকাণ্ড ১২৪ জনের মৃত্যু হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে নিমতলীর ঘটনা থেকে আমরা কেউ শিক্ষা নেইনি। নিমতলী ঘটনার তদন্ত কমিটির সুপারিশের বাস্তবায়ন হলে নিমতলীর ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে হতো না আমাদের।

এসময় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়।সুপারিশ গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে স্থাপিত কারখানার সমূহের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করে সেগুলো স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়া। ভবনের ধরন অনুযায়ী ভবন এর ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। পুরান ঢাকার বর্তমান মিশ্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞায়ন জরুরি। সেক্ষেত্রে আবাসিক এলাকার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বাণিজ্যিক ব্যবহারের তালিকা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সিটি কর্পোরেশন এর সমন্বয়ে তৈরি করতে হবে।পাশাপাশি সেই অনুযায়ী ভূমি ব্যবহার ও ভবনের ফ্লোর স্পেস ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সেই সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ব্যবহার সমূহকে অত্র এলাকা হতে সরিয়ে ফেলতে হবে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বি.আই.পি.) সভাপতি পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. এ কে এম আবুল কালামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খানের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট পরিকল্পনাবিদ ফজলে রেজা সুমন,যুগ্ম সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ মাজহারুল ইসলাম, বোর্ড মেম্বার পরিকল্পনাবিদ মামুন চৌধুরী প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত