প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জম্মু-কাশ্মীরে সারাশি অভিযানে দেড় শতাধিক নেতা আটক, গণগ্রেফতার বন্ধে ধর্মঘটের ডাক

আব্দুর রাজ্জাক : কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভয়াবহ বোমা হামলার জেরে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে সারাশি অভিযান শুরু করেছে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকজন নেতাসহ দেড় শতাধিক কর্মীকে আটক করেছে জম্মু-কাশ্মীরের পুলিশ। প্রতিবাদে পুরো এলাকায় ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমস, ডন, রয়টার্স

পুলওয়ামা হামলার পর এই এলাকায় অতিরিক্ত ১শ কোম্পানি সৈন্য মোতায়েন করায় জম্মু-কাশ্মীরে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। হামলার জন্য জইশ-ই-মোহাম্মদ দায় স্বীকার করলেও কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে। যা আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে কাশ্মীরিদের অংশ গ্রহণে বাধা দেয়ার সামিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে যারা আটক হয়েছেন তাদের অন্যতম একজন হলেন আব্দুল হামিদ ফায়েজ। তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠন জামায়াত-ই-ইসলামির (জেআই) আঞ্চলিক প্রধান। তার সঙ্গে আরো অন্তত ১৫০ জন কর্মীকে আটক করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের শিকার হয়েছেন আরো একটি রাজনৈতিক দল জম্মু কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট (জেকেএলএফ) এর চেয়ারম্যান ইয়াসিন মালিক। তার আটকের খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে জানিয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের জোট হুররিয়াত।

শনিবার এক বিবৃতিতে জোটের নেতা মিরওয়াইজ উমার ফারুক বলেন, ‘পুলিশ রাতের আধারে অভিযান চালিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের অন্যায়ভাবে আটক করেছে। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং দমনমূলক, এতে এখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয় বরং আরো অবনতির দিকে ধাবিত করবে। তাই কেন্দ্রীয় সরকারে এ পদক্ষেপে আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি ও নেতাদের মুক্তি কামনা করছি।’

আজ (রোববার) জম্মু-কাশ্মীরের জয়েন্ট রিজিসটেন্স (জেআরএল) এক বিবৃতিতে জানায়, কেন্দ্রীয় সরকারের গণগ্রেফতারের বিরুদ্ধে কাশ্মীরিদের প্রতিবাদ করতে হবে, তাই সকলকে ধর্মঘট মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

সরকার জ্বালানি তেল ক্রয়ের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে এবং এই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়িয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেছে জেআরএল। তবে তেল সরবরাহে সমস্যা হওয়ায় প্রতিদিন ৩ লিটারের বেশি প্যাট্রল বিক্রি না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে কাশ্মীর প্রশাসন জানিয়েছে।

ভারতের সংবিধানের ৩৫এ ধারা অনুযায়ী, ‘কাশ্মীরের বাসিন্দা ছাড়া কেউ সেখানে জমি ক্রয় করতে পারে না এবং অন্য রাজ্যের কেউ সেখানে সরকারি চাকুরিতে আবেদনও করতে পারে না।’ কিন্তু সরকার এই ধারাটিতে অবৈধভাবে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এ বিষয়ে একটি আবেদনের শুনানি রয়েছে যা সম্পূর্ণ বেআইনি বলে অভিযোগ করেছে জেআরএল।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত