প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নয়াদিল্লি-ইসলামাবাদ উত্তেজনায় তিক্ষ্ণ নজর রাখছে ঢাকা

তরিকুল ইসলাম : ভারত শাসিত কাশ্মিরের পুলওয়ামাতে আত্মঘাতী হামলায় প্রথম দফায় ৪০ জনেরও বেশি জওয়ান নিহত হয়েছে। এর চার দিন পর দ্বিতীয় দফার হামলায় চার ভারতীয় সৈন্য নিহত হয়েছে। এই ঘটনার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছে ভারত। সেই সঙ্গে দেশটিকে এক ঘরে করে দেওয়া, শিল্পীদের নিষিদ্ধ ঘোষণা, সব ধরনের পণ্যের আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ২০০ শতাংশ করাসহ কোনো ধরণের আলোচনার টেবিলে না বসার হুমকিও দিয়েছে ভারত। তবে, এ ঘটনায় নিজেদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করছে পাকিস্তান। উভয় দেশের মধ্যেই কূটনৈতিক সম্পর্কে বেশ টানেপরেন চলছে।

এ দিকে ইসলামাবাদ-নয়াদিল্লির উত্তেজনাকর এ পরিস্থিতিতে তিক্ষ্ণ নজর রাখছে ঢাকা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, উত্তেজনা পরবর্তী পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে সেটাও খেয়াল রাখা হচ্ছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধবন্ধু ও প্রতিবেশী দেশ ভারতে পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠির একের পর এক হামলা উস্কানিমূলক। যদিও ভারত-পাকিস্তানের দুই হাইকমিশনারের মাধ্যমে নয়াদিল্লি ইসলামাবাদকে বলেছে, পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতেই হবে। সেইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব:) আব্দুর রশিদ মনে করেন, উভয় দেশেরই পারমানবিক সক্ষমতা রয়েছে। উত্তজেনা যতটাই তুমুলে গড়াক না কেন, সেটা যুদ্ধের ক্ষেত্রে ভারত-পাকিস্তানকে খুব সহজেই টেনে নিয়ে যাবেনা। এবারের এই জঙ্গি হামলার প্রেক্ষিতে ভারত হয়তো সার্জিক্যাল স্টাইক করতে পারে, এটা লিমিটেড। আগেও এরকম ঘটনা ঘটার পর বেশ কয়েক বার দুই দেশে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিলো। কোনো ঘটনার সূত্রপাত হলে শুরুর দিকেই পাকিস্তান পারমানবিক হামলার ভয় দেখায়। এতে করে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি বিনষ্ট হতে পারে।

তিনি বলেন, চীন যতই পাকিস্তানের জন্য এগিয়ে আসুক সন্ত্রাসী ও জঙ্গীবাদের পক্ষে বৈশ্বিক সম্প্রদায় অবস্থান নিবে এটা ভাববার কোনো কারণ নেই। পাকিস্তান বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসী কর্মকা- পরিচালনা করার পাশাপাশি তারাই আবার সামরিক সরঞ্জাম বেচা-কেনা করছে। আফগানিস্তান ও ইরানেও পাকিস্তান সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করেছে। যা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য মারাত্মক হুমকি। দেশটির জন্যই আঞ্চলিক জোট সার্ক আজ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এমনকি বাংলাদেশের সৌদি জোটে অংশ গ্রহণ ও সম্প্রতি প্রতিরক্ষা চুক্তি হওয়াটা পাকিস্তানের জন্য বিব্রতকর। তারা চাচ্ছেনা ঢাকা-রিয়াদ সম্পর্কটা ঘনিষ্ঠ রুপ লাভ করুক।

ঐ ঘটনার পর কাশ্মীরে স্বাভাবিক ভাবেই ভাতীয়রা প্রতিশোধমূল আচারণ করবে। তবে, এরই মধ্যে ভারত এই ধরণের ঘটনা এড়াতে হেল্প লাইন চালু করায় দেশটির সরকারের অবস্থান পরিস্কার হয়েছে। পশ্চিমারা পাকিস্তানের এই ঘটনায় পরিস্কার করে বলেছে, আত্মরক্ষার অধিকার ভারতের রয়েছে বলেও যোগ করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক আব্দুর রশিদ।

দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেক স্টিফেন কোয়েন মনে করেন, ভারত-পাকিস্তান বৈরিতা এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে পাকিস্তান কখনোই জিতবে না এবং ভারত কখনোই হারবে না। সেজন্য ভারতকে মাথা ঠাণ্ডা রেখে সুচিন্তিত এবং সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে। ভারতের সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের প্রতাপ ভানু মেহতা বলেন, একমাত্র চীন ছাড়া অন্য সবার কাছ থেকে পাকিস্তান বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আমরা অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের আহ্বান জানাতে পারি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত