প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পুরান ঢাকার আবাসিক ভবনগুলোতে এখনও ঝুলছে গুদাম ভাড়ার বিজ্ঞাপন

হ্যাপি আক্তার: চকবাজার ট্রাজেডির রেশ না কাটলেও এখনও সচল হাজার হাজার কারখানা ও রাসায়নিক গুদাম। শুধু শ্রমিকরা না, ঝুঁকিতে রয়েছেন আশপাশের বাসিন্দারাও। পুরো এলাকায় এখনো ঝুলছে আবাসিক ভবনের নিচে গুদাম ভাড়ার বিজ্ঞাপন। এমন বাস্তবতায় রাসায়নিকের গুদাম সরানোর দাবি যখন সর্বমহলে তখন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে জরুরি রাজনৈতিক সদিচ্ছা। সময় টেলিভিশন।

রাজধানীর চকবাজার, লালবাগ, ইসলামবাগ, মৌলভীবাজার, পোস্তাসহ প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই যন্ত্রের টুকটাক শব্দ। কোথাও প্লাস্টিকের সামগ্রী, কোথাও জুতা-স্যান্ডেল, আবার কোথাও তৈরি হয় নানা রকম প্রসাধনী। উচ্চ দাহ্যক্ষমতা সম্পন্ন কাঁচামালই এসব পণ্য তৈরির মূল উপাদান।
নিমতলী থেকে চুড়িহাট্টা নয় বছরের ব্যবধানে ভয়াবহ দুটি দুর্ঘটনার পরও টনক নড়েনি পুরান ঢাকাবাসির। বহুতল ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ড ভাড়া নিয়ে চলছে প্লাস্টিকের পণ্য তৈরির কারখানা। পুরো কারখানা জুড়েই ছড়িয়ে আছে প্লাস্টিকের পণ্য ও কাঁচামাল।

নিরাপদ কর্মপরিবেশ বলতে যা বুঝায় তার ছিটেফোঁটাও নাই কারখানাগুলোতে। এতে শ্রমিকরাই শুধু বিপদে পড়ছেন তা কিন্তু নয়, এই ভবনসহ আশপাশের বাসিন্দারাও রয়েছেন মহাঝুঁকিতে। শুধু সচেতনতাই এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে পারে। কারখানা নাকি গুদামঘর, প্রথম দেখায় বুঝে ওঠা দায়। পুরো কক্ষে জানালা মাত্র দুটি, যার একটি বন্ধ মালামালের স্ত‚পে। দুটি দরজার একটি তালাবন্ধ থাকে সব সময়ই। দিনরাত ২৪ ঘণ্টা যান্ত্রিক উত্তাপে, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই নিরলস কাজ করেন শ্রমিকরা।

ব্যবসায়ীরা বলেন, ট্রেড ও ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স আছে, তাই ব্যবসা চালাচ্ছি। তবে যে দুর্ঘটনা ঘটেছে তার জন্য কারখানা সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সরু রাস্তা, ঘনবসতি আর সর্বত্র দোকানপাটে ঠাসা পুরান ঢাকায় এখনো চোখে পড়ে গুদাম ভাড়া দেয়ার চটকদার বিজ্ঞাপন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাড়িওয়ালাদের বেশি ভাড়া পাওয়ার লোভই আবাসিক ভবনে মৃত্যুফাঁদের মতো কারাখানা বা গুদাম গড়ে উঠার জন্য দায়ী।

বাড়িওয়ালারা বলেন, আমরা লোভে পড়েই আসলে ভাড়াটা দিয়ে থাকি। একটা পরিবারকে ভাড়া দিলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা দেবে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে দিলে ২ থেকে ৫ লাখ টাকা পাওয়া যায়। এলাকাবাসীরা বলছেন, অনেক ভাড়াটিয়ারা জানেনই না কী রাখা হচ্ছে। কতো বিপদজনক জিনিসের ওপরে তারা বসবাস করছেন। তারা এক ধরনের বোমার ওপরেই বসবাস করছেন। যখন কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তখন প্রশাসন ঝাঁপিয়ে পড়ে, খুব তৎপরতা দেখায়। কিন্তু কয়েক দিন পরে তারা সব ভুলে যায়।

বারবার দুর্ঘটনা আর প্রাণহানির জন্য কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করে, সঠিক পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষক ড. ইশরাত ইসলাম বলেন, ৯ মাসে দেশকে স্বাধীন করতে পারি, আমরা আর ৯ বছরেও রাসায়নিক কারখানা সরাতে পারবো না? এই ব্যর্থতা আসলে আমাদের সকলের।

বুয়েটের গড় ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন হাসান বলেন, যে রাজনৈতিক দলিলের মাধ্যমে ট্যানারি সরেছে, সেটা বাস্তবায়ন না করলে চকবাজারকে রাসায়নিক মুক্ত করা সম্ভব হবে না। সম্পাদনা : রাজু

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ