প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মনির খানকে একটু ছুঁয়ে দেখার বড্ড ইচ্ছে মাহিনের

আক্তারুজ্জামান : ‘এতটুকু বুকের ভিতর, এতো ব্যথা রাখিবো কি করে?’ দারুণ সুর করে গেয়ে শোনালো মাহিন। বছর পনেরোর মাহিনের বড্ড ইচ্ছে এই গানের মূল গায়ক মনির খানকে একটু ছুঁয়ে দেখা। দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মাহিন টেলিভিশন দেখেই অবসর পার করে। তবে অবাক করা বিষয় হলো কখনো নাটক কিংবা সিনেমা দেখা হয় না তার। কিন্তু হ্যাঁ, গানের কোনও অনুষ্ঠান তার তালিকা থেকে বাদ পড়ে না। হঠাৎ করে মাহিনের কথা কেন আসলো?

অফিসের লিফটে নামার সময় পঞ্চম তলা থেকে উঠলেন এক দম্পতি। সঙ্গে ১৫ বছরের কিশোরী শারমিন হক মাহিন। যার দু’চোখ ভরা স্বপ্ন আর আশা। যে পৃথিবীর আর বাকি দশটি কিশোরীর মতো না। জন্ম থেকেই পায়ে একটু সমস্যা থাকায় ‘প্রতিবন্ধী’ আখ্যা পেয়েছে। কিন্তু নিজেকে কখনোই অক্ষম ভাবেনি মাহিন। লিফটে ওঠার সময় একটু হাত ধরে সাহায্য করার কৃতজ্ঞতায় বারবার ধন্যবাদের কথা ফুটে উঠছিল তার কণ্ঠে।

আর সেই সঙ্গে জানালো নিজের ইচ্ছের কথা। মনির খানের সঙ্গে অন্তত একবার দেখা করতেই হবে মাহিনের। মাহিনের মায়ের বক্তব্য, ‘যেখানে যাকেই দেখে ও (মাহিন) তাকেই বলে মনির খানের সঙ্গে দেখা করিয়ে দিতে।’ যা থেকে বোঝা গেলো মনির খানের সঙ্গে দেখা করার নেশায় পড়েছে মাহিন। আমার এই লেখার মূল উদ্দেশ্য বার্তাটি যেন মনির খানের নিকট পৌঁছায়।

আলোচনার এক পর্যায়ে জানা গেলো মাহিনের শখ ও ইচ্ছের কথা। শিক্ষক হওয়ার ইচ্ছের পাশাপাশি গান করার শখ তার। প্রিয় সংগীত শিল্পী দেশের জনপ্রিয় গায়ক ‘মনির খান’। কথার সময়ই জানালো মনির খানকে একটু নিজ হাতে জড়িয়ে ধরবে মাহিন। আমি কথা দিয়েছি এটার চেষ্টা করবো আমি।

লিফটে পরিচয়ের পর এক কফিশপে বসে আলাপ হলো ‘স্বপ্নচারী’ এই কিশোরীর সঙ্গে। মাঈনুল হক ও নাসরীন হক নুপুর দম্পতির একমাত্র সন্তান শারমিন হক মাহিন। আকাশ সমান স্বপ্ন যার। একাধিক স্বপ্নের অন্যতম স্বপ্ন শিক্ষকতা করা। তাও গতানুগতিক শিক্ষকতা নয়, যারা শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বেড়ে ওঠে তাদের জন্য শিক্ষার আলো ছড়াবে মাহিন। বাবা-মায়ের সাহচর্য পেয়ে মাহিন বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে তার লক্ষ্যের দিকে।

মাহিনের মা যেন আরেক স্বপ্নচারী, তাকে নিয়ে লিখতে গেলে আরেকটি গল্প দাঁড় করাতে হবে। মেয়েকে আনন্দে রাখতে মাঝে মাঝে বিভিন্ন আয়েজন করেন মাহিনের মা। সেখানে আমন্ত্রিত হয় শুধুমাত্র মাহিনের মতোই কিশোরীরা। ২৫জন কিশোরীকে নিয়ে মাহিনের মা মাহিনের জন্য ঘুরতে যাওয়া, খেলাধুলার আয়োজন, কারও জন্মদিন পালন সব নিজেই করেন নিজের বাড়িতে। যা মাহিনের সময়গুলোর সঙ্গে আরও ২৫জন শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা কিশোরীর আনন্দের মুহূর্ত তৈরি করে। বিভিন্ন কর্মকান্ড দিয়ে নতুন কিছু শেখা আর আনন্দ নিয়ে দিন বেশ ভালোই কাটছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত