প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আমাদের শিক্ষায় মাতৃভাষা অবহেলিত, অনাবশ্যক কতোগুলো পাবলিক পরীক্ষার চাপে শিক্ষার্থীরা কাতর : সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

নাঈমা জাবীন : বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেছেন, ভাষা নিয়ে আমাদের আবেগ অনেক, কিন্তু সুনির্দিষ্ট কোনো চিন্তা নেই, যে চিন্তা ভাষা-শিক্ষা, ভাষা ব্যবহার এবং ভাষার ক্রমাগত বিকাশে ভূমিকা রাখে। পৃথিবীর নানা দেশে ভাষানীতি আছে- তাতে মাতৃভাষা শিক্ষা ও ব্যবহার নিয়ে অনেক দিকনির্দেশনা থাকে, দ্বিতীয় ও বিদেশি ভাষা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা থাকে। ২০১০ সালে আমরা একটা শিক্ষানীতি গ্রহণ করেছি, তাতে ভাষানীতির প্রয়োজনীয়তার কথা বলা আছে, কিন্তু শিক্ষানীতিরই যেখানে বাস্তবায়ন নেই, ভাষানীতি নিয়ে নড়াচড়ার সম্ভাবনাটা তাহলে কতোটা থাকে। সূত্র : সমকাল

তিনি বলেন, আমাদের জীবনের সৃজন ও মননশীল এলাকায় সরকারের নিয়মবিধির- বিশেষ করে যেগুলো মানুষের ইচ্ছা বা প্রত্যাশার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়- পক্ষে আমি নই। আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষা ও ভাষা নিয়ে আমাদের সমষ্টির চিন্তাটি দাপ্তরিক দিক নির্দেশনায় প্রতিফলিত হওয়া উচিত। ভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে আমাদের তরুণরা রক্ত দিয়েছেন, ১৯৯৯ সাল থেকে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা পেয়েছে। কাজেই মাতৃভাষা চর্চায় আমাদের সর্বোচ্চ বিনিয়োগ প্রয়োজন। এই বিনিয়োগের রূপ হচ্ছে রাষ্ট্রের সদিচ্ছা থেকে নিয়ে সাংস্কৃতিক এবং আর্থিক। শিক্ষা নিয়ে আমাদের সামষ্টিক স্বপ্ন আছে, প্রত্যাশা আছে।

আমরা চাই, আমাদের সন্তানরা সুশিক্ষিত হবে, আলোকিত মানুষ হবে। স্বাধীনতার পর ৪৮ বছর পার হয়ে গেছে, শিক্ষার প্রসার ঘটেছে। এখন দেশে শিক্ষিতের হার ৭০ শতাংশের ঘরে। কিন্তু আমাদের সন্তানরা কী সুশিক্ষিত হচ্ছে, নিজ নিজ ক্ষেত্রে সকলেই আলো ছড়াচ্ছে? আমাদের শিক্ষায় মাতৃভাষা অবহেলিত, অনাবশ্যক কতোগুলো পাবলিক পরীক্ষার চাপে শিক্ষার্থীরা কাতর ও ক্রমাগত মুখস্থ বিদ্যাচর্চা এবং জিপিএ ৫ পাওয়ার অর্থহীন প্রতিযোগিতা তাদের মেধার ঘরে ঘাটতি জোগাচ্ছে। এই পাবলিক পরীক্ষাগুলোর অসিলায় গ্রাম-গঞ্জে পৌঁছে গেছে কোচিং বাণিজ্য। যে শিক্ষার্থী এখন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় শেষ করে বেরোচ্ছে, তার প্রধান চিন্তা সরকারি কর্মকর্তা হওয়া। তার ভাষাজ্ঞান দুর্বল। ইংরেজির কথা বাদ দিলাম, বাংলাতেই তার সক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ। এটি কেন হবে?

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত