প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পাঁচ বছরে অগ্নিকান্ডের আর্থিক ক্ষতি ২৫ হাজার কোটি টাকা

হাসান মোরশেদ

দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে পাল্লা দিয়ে এখানে বাড়ছে অপরিকল্পিত নগরায়ন ও শিল্পায়ন,  যার কারণে প্রায়ই ঘটছে বিভিন্ন দুর্ঘটনা। সর্বশেষ ২০ ফেব্রুয়ারি বুধবার ঢাকার চকবাজারের ঘটে গেলো ভয়াবহ অগ্নিকা-ের ঘটনা। যাতে প্রাণ গেছে অন্তত ৮০ জনের। গর্ভবতী স্ত্রী নামতে পারেনি বলে স্বামীসহ আগুনে পুড়ে অঙ্গার হতে হলো তিনজনকেই। শুনেছি দুই ভাইয়ের জড়াজড়ি করা লাশ আলাদা করা যাচ্ছিলো না। যখন আলাদা করা হলো দেখা গেলো তাদের বুকে জড়ানো এক শিশুর লাশ। একটি শিশুকে বাঁচানোর কতো চেষ্টাই না করেছিলেন তারা। ২০১০ সালের নিমতলীর সর্বগ্রাসী অগ্নিকা-ের স্মৃতি মুছতে না মুছতেই আরেকটি হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হলাম আমরা। কিছুদিন পর পর এমন ঘটনা ঘটলেও থামানো যাচ্ছে না অগ্নিকা-ে মৃত্যুর মিছিল। বসবাসের অযোগ্য শহরে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ঢাকা একদিকে ঘনবসতি তার ওপর বিল্ডিং কোড, অগ্নি নিরাপত্তা নিয়ম না মেনে স্থাপনা তৈরি দিন দিন বাড়িয়ে তুলছে অগ্নিকা-সহ নানাবিধ দুর্ঘটনা। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৮ সালে সারা দেশে ছোট-বড় মিলে প্রায় সাড়ে উনিশ হাজার অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে। যাতে মারা গেছেন অন্তত ১৩০ জন এবং আহত হয়েছেন ৬৬৪ জন। আমাদের একটা কমন সংস্কৃতি দাঁড়িয়েছে- যখনই কোনো দুর্ঘটনা ঘটে সেটা নিয়ে কয়েকদিন বেশ আলোচনা চলে, তারপর অন্য কোনো ইস্যুর তলে সেটা চাপা পড়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তদন্ত, কিছু আর্থিক ক্ষতিপূরণেই এর সমাধান হয়। পরিকল্পনামাফিক স্থায়ী সমাধানের পথে আর হাঁটা হয় না। তাই তো প্রায়ই এ জাতীয় দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য মতে, সারাদেশে ২০১৫ সালে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে ১৭ হাজার চারশো ৮৮টি, আর ২০১৬ সালে ঘটেছে ১৭ হাজার একশো ৭৩টি,  ২০১৭ সালে ঘটেছে ১৮ হাজার একশো ৫টি  এবং ২০১৮ সালে ঘটেছে সবচেয়ে বেশি ১৯ হাজার ছয়শো ৪২টি। আর এসব অগ্নিকা-ে প্রাণহানি ঘটেছে ২০১৫ সালে ২৪২ জনের, ২০১৬ সালে ৮৮ জনের,  ২০১৭ সালে ৪৫ জনের এবং গত বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে ১৩০ জনের। এক হিসেবে দেখা গেছে, গত ৫ বছরে অগ্নিকা-ের ঘটনায় আর্থিক ক্ষতি গুনতে হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। আর্থিক ক্ষতি যতোটা সম্ভব মিনিমাইজ করা গেলেও প্রাণহানির ক্ষতি মেটানোর উপায় কী আছে?  আর কতো প্রাণ গেলে আমাদের বোধোদয় হবে!

২০১০ সালে নিমতলীর দুর্ঘটনার পর পুরান ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় আটশো রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম কেরানীগঞ্জে সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি সরকার। কেন পারেনি তার সদুত্তর কী সরকার দিতে পারবে? অনেক সময় এ ব্যাপারে সরকারের সদিচ্ছা থাকলে স্বার্থান্বেষী ব্যবসায়িক মহলের দরুন তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। একে তো এই দেশে, এই শহরে মানুষের সস্তা শ্রম তার ওপর এমন ভয়ংকর মরণ। কোনোভাবেই এমন মৃত্যু কাম্য নয়। স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই। আমরা মনে করি ঠিক এই মুহুর্ত থেকেই পুরান ঢাকা নিয়ে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করা উচিত। যাতে আর কোনো মাকে বলতে না হয় ‘যা পান, একটু মাংস হলেও একটু…একটু হলেও দেন! আমার বাবারে আমি কোলে নিমু’।

লেখক : শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত