প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কেমিক্যাল কারখানাগুলো কোথায় যাবে?

প্রভাষ আমিন : পুরান ঢাকার কিছু এলাকায় রাসায়নিক পদার্থের কারখানা ও গোডাউন রয়েছে। এটা প্রমাণিত, এই রাসায়নিকগুলো বিপদজনক। আগুন লাগলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করে এই কেমিক্যাল। বিপদজনক হলেও এই কেমিক্যাল নিশ্চয়ই অবৈধ নয়। পুরান ঢাকার এই কেমিক্যাল দিয়ে নিশ্চয়ই মাদক তৈরি হয় না? কারখানা ও গোডাউনগুলো বৈধ হোক আর অবৈধ, কেমিক্যালগুলো নিশ্চয়ই কারো না কারো কাজে লাগে। চাহিদা আছে বলেই সরবরাহ আছে। কিন্তু যতো চাহিদাই থাকুক, ঘনবসতি এলাকায় বিপদজনক কেমিক্যালের কারখানা ও গোডাউন থাকতে পারবে না, এটাই হলো প্রথম কথা। যতো চাহিদাই থাকুক, মানুষের জীবনের চেয়ে মূল্যবান কিছুই নেই। ২০১০ সালে নিমতলী ট্র্যাজেডির পর পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যালের কারখানা ও গোডাউন সরানোর দাবি ওঠে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টেও কেমিক্যাল সরানোর সুপারিশ ছিলো। কিন্তু ৯ বছরেও পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল সরানো যায়নি। এই সময়ে অনেক চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু কেমিক্যাল সরেনি। চকবাজারে আগুনের দুদিন আগেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কেমিক্যালের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু কাজ হয়নি। কাজ হবে কিভাবে? খালি সরে যাও বললেই তো হবে না, সরে কোথায় যাবে, সেটাও বলতে হবে। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, এই নয় বছরেও আমরা সেটা বলতে পারিনি। আপনি যতোই অভিযান চালান, যতোই শাস্তি দেন; বিকল্প না থাকলে কেমিক্যাল সরানো যাবে না। রাজধানীর ঝিগাতলা থেকে ট্যানারি শিল্প সাভারে সরাতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। ব্যবসায়ীরা যেতে চায়নি। তবু সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কারণে যেতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু তবুও ট্যানারি শিল্প সরানো গেছে। কারণ সাভারে নতুন ট্যানারি পল্লি গড়ে তোলা ছিলো।

কিন্তু পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল সরানোর জন্য কেরানীগঞ্জে কেমিক্যাল পল্লি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হলেও তা এখনও আলোর মুখ দেখেনি। নিমতলীতে আগুনের পর শিল্প মন্ত্রণালয় কেমিক্যাল পল্লি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। ২০১৫ সালে ১ হাজার ৪১৮ কোটি টাকার প্রকল্পও নেয়া হয়েছিলো। কিন্তু ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখে সে প্রকল্প এগোয়নি। সংশোধন করে ২০১৮ সালে ২০২ টাকার প্রকল্প নেয়া হয়েছে। সে প্রকল্প একনেকের অনুমোদনও পেয়েছে। এ বছরের ৩ জানুয়ারি এ প্রকল্পের একজন পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও কোনো অর্থ বরাদ্দ হয়নি। অর্থ পেলে জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হবে। তার মানে কেমিক্যাল পল্লি এখনও অনেক দূরের স্বপ্ন। তাহলে পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের জোর করে সরিয়ে দেয়া হলে, তারা কোথায় যাবে?

আবার অনেকে বলছেন, কেমিক্যাল যদি বিপদজনক হয়, তবে পুরান ঢাকা থেকে সরিয়ে যেখানে নেয়া হবে, বিপদটা তো সেখানেও থাকবে। এটা ঠিক। তবে ঘনবসতির পুরান ঢাকায় কেমিক্যাল রাখার কোনো সুযোগ নেই। পরিকল্পিতভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের পর্যাপ্ত সুযোগ রেখেই গড়ে তুলতে হবে নিরাপদ কেমিক্যাল পল্লি। তবে কেরানীগঞ্জে কেমিক্যাল পল্লি গড়ে তুলতে দেরি হলেও আপাতত কোনো খোলা জায়গা কেমিক্যালের কারখানা ও গোডাউন সাময়িকভাবে হলেও সরিয়ে নিতে হবে। পুরান ঢাকায় আর এক মুহূর্তও কেমিক্যাল রাখা যাবে না। ব্যবসায়ীরা মানতে না চাইলে জোর করতে হবে। কেমিক্যাল ব্যবসার একটু ক্ষতি হলেও কিছু করার নেই। জীবনের চেয়ে বড় কিছু নেই।

লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

সর্বাধিক পঠিত