প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চকবাজার ট্র্যাজেডি : ‘জীবন যেন পদ্মপাতায় শিশিরবিন্দু’!

অসীম সাহা : জীবন অনিত্য। এ নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। পৃথিবীর প্রতিটি কেন্দ্রে মৃত্যু যেন অমোঘ ছুরি নিয়ে গুপ্তঘাতকের মতো দাঁড়িয়ে আছে জীবনকে হরণ করবে বলে। আর তা যেন এই বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি। কারণ এখানে গুপ্তঘাতককে প্রতিহত করার কেউই নেই। যারা এই দায়িত্বে আছেন, তারা ধরেই নিয়েছেন, সাধারণ মানুষের জীবন হরণ করার জন্যই মৃত্যু অসময়ে তার সব অধিকার ফলিয়ে শুধু কর্তৃপক্ষের হাতে শবদেহ বরণ করার জন্যই সাধারণ মানুষের যারা হর্তাকর্তা-বিধাতা, তাদের দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন।

তাই প্রতিটি দুর্ঘটনার পর তারা সতর্কতাবাণী জারি করেন, যথাযথ তদন্ত করে দায়ীদের উপযুক্ত শাস্তি দেয়ার হুমকি দেন। আর জনগণ ইয়র্কি ভেবে কৌতুকের সঙ্গে তা উড়িয়ে দিতে বাধ্য হন। রানা প্লাজার ট্র্র্যাজেডি থেকে নিমতলী বিপর্যয়, সবশেষে চকবাজারের এই ভয়ংকর অগ্নিকা-ে জীবনহানি সব কটিকে মিলিয়ে দেখুন, সেই একই বাণী, একই হুমকি! হুবহু মিলে যাবে। কিন্তু নাটক শেষ হবার আগেই ছন্দপতন! এদেশের মানুষ দেখতে দেখতে ও শুনতে শুনতে এখন শুধু ক্লান্ত নয়, রীতিমতো বিভ্রান্ত ও ক্রোধান্ধ! কিন্তু তাতে লাভ কী? কর্তৃপক্ষ কি জনগণকে ভয় করে? বরং উল্টেটাই। তারা জনগণকে ‘লোম’ দিয়েও বিচার করেন না! যদি করতেন, তা হলে বছরের পর বছর মানুষের জীবন নিয়ে এমন হেলাফেলা করতে পারতেন না। মুহূর্তের মধ্যে প্রায় শত জীবন ঝরে গেলো।

পুড়ে কয়লা হয়ে গেলো, যাদের মানবদেহ পর্যন্ত শনাক্ত করা গেলো না, তারপরও বাণীর পর বাণী আর হুমকির পর হুমকি শুনেই চলেছি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাাদের বলেছেন “এই দুর্ঘটনার দায় সরকার এড়াতে পারে না।” যদি তাই হয়, তা হলে আগের দুর্ঘটনাগুলোর দায় সরকার এড়ালেন কীভাবে? উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ থাকা সত্ত্বেও কেন আগে থেকে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি, যাতে অবৈধ ব্যবসায়ী ও মজুদকারীরা এসব দাহ্য পদার্থ তাদের গোডাউনে না রাখতে পারে? কেন এ-ব্যাপারে উপযুক্ত মনিটরিং হয়নি এবং নিয়মিতভাবে এসব স্থানে অভিযান চালিয়ে মালামাল সিজ করে অবৈধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি? কেন নিমতলীর ঘটনার পরও শিক্ষা নেয়া হয়নি? এখন আপনি বলছেন ভুল থেকে শিক্ষা নেবেন। যদি শিক্ষাই নেবেন, তা হলে আগে নেননি কেন? এতোদিন যে শিক্ষা নেননি এবং এর ফলে যে এতোগুলো জীবন ঝরে গেলো, তারা দায় কে নেবেন? আর মৃত্যুর পরে দায় নিলে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের জীবন কি ফিরে আসবে? এ-ধরনের বাল্যখিল্য কথা কি আপনার মুখে মানায়? বরং এ-ধরনের কথা না বলে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করুন, যাতে এ-ধরনের দুর্ঘটনা আর না ঘটে।

আরা এসব দেখভাল করার দায়িত্ব যাদের, তারা কেন তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়ে মানুষের জীবনকে খেলনা বানিয়ে ছেড়েছেন, তাদের শাস্তি দেয়ার ব্যবস্থা করুন। মানুষের জীবন পদ্মপাতায় শিশিরবিন্দুর মতো। যে কোনো সময় টলে পড়ে যেতে পারে জানি। কিন্তু প্রাকৃতিক সেই নিয়মের অপেক্ষা না করে যারা জোর করে ঝাকি দিয়ে সেই বিন্দুকে মুহূর্তেই নিঃশেষ করে দেয়, তারা ‘মানুষ’ পরিচয় দেয়ার যোগ্য নয়। তাই তাদের প্রতি মানবিকতা দেখানোরও সুযোগ নেই। আশা করি, এবারের চকবাজার ট্যাজেডির পর সরকার সে-ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তা না হলে এর পুরো দায় শুধু মুখে নয়, সত্যি সত্যি বর্তমান সরকারকেই বহন করতে হবে!

লেখক : সংযুক্ত সম্পাদক, দৈনিক আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত