প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম কর্ণফুলী নদীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল, আজ নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বজিৎ দত্ত ও আলীউর রহমান: নদীর মরফজিক্যাল বৈশিষ্ট অনুযায়ি নদীর তলদেশে পলি জমা একটি বড় সমস্যা। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে পলি জমলে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর হুমকিতে পড়বে। এই সমস্যা সমাধানে কর্ণপুলী নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নদীর তলদেশে মাটি খুঁড়ে টিউব ঢোকানোর জন্য চীন থেকে আনা হয়েছে বোরিং মেশিন। ৯৪ মিটার দৈর্ঘ্য ২২ হাজার টন ওজনের বোরিং মেশিনটি এখন খননের জন্য প্রস্তুত। আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের বোরিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় এটিই প্রথম টানেল সেতুর উদ্বোধন।

জানা গেছে, কর্ণফুলী নদীর নেভাল একাডেমি থেকে আনোয়ারা প্রান্ত পর্যন্ত দৈর্ঘ্য সোয়া তিন কিলোমিটার। নদীর তলদেশের ১৮ থেকে ৩১ মিটার গভীর দিয়ে চলবে সারি সারি গাড়ি। সে লক্ষ্যেই নির্মাণ করা হচ্ছে দেশর প্রথম টানেল সড়ক। এরই মধ্যে প্রকল্পের ২৪ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ২০২২ সাল নাগাদ টানেল নির্মাণ শেষে গাড়ি চলাচল শুরু হবে। কর্ণফুলী নদীর নিচে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই টানেল নির্মাণের জন্য চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কম্পানির (সিসিসিসি) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে অনেক আগেই। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে আট হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা। এরই মধ্যে চীন অর্থায়ন করবে প্রায় চার হাজার ৮০০ কোটি টাকা। বাকি টাকা সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেবে। টানেল নির্মাণকে কেন্দ্র করে কর্ণফুলী নদীর ওপারে বিনিয়োগ শুরু করেছে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো। বর্তমানে কর্ণফুলী নদীর ওপারে আংশিক চালু রয়েছে কোরিয়ান ইপিজেড। টানেল নির্মাণের সঙ্গেসমন্বয় রেখে সরকার আনোয়ারায় একটি ইকোনমিক জোন স্থাপন করছে। পাশাপাশি চীনের বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ ‘চায়না ইকোনমিক জোন’ বাস্তবায়িত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘টানেল নির্মাণের ফলে কর্ণফুলীর ওপার ঘিরে বিনিয়োগের নতুন দুয়ার উন্মুক্ত হবে। এটিকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল হবে সেখানে। আর এশিয়ান হাইওয়ে ও নতুন সিল্ক রুটে প্রবেশ করবে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম হয়ে উঠবে অর্থনৈতিক করিডর।

টানেল নির্মাণ সমীক্ষায় বলা হয়েছে, কর্ণফুলী টানেলের মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ চালু হবে। বর্তমানে এই রুটে চলাচলকারী গাড়িগুলো কর্ণফুলী সেতু ও কালুরঘাট সেতু দিয়ে চলাচল করছে। এতে প্রতি গাড়িকে গড়ে ২০ মিনিট বেশি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। টানেল দিয়ে পার হলে এ সময়টুকু বাঁচবে। ঢাকা থেকে পণ্যবাহী গাড়ি সরাসরি কক্সবাজার যেতে সময় ও দূরত্ব দুটিই কমবে। যানজট ছাড়াই নিরবচ্ছিন্নভাবে পার হতে পারবে গন্তব্যে। মহেশখালী থেকে একটি গাড়ি টানেল দিয়ে সরাসরি ঢাকায় পৌঁছতে পারবে চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ না করেই। কর্ণফুলীর ওপার থেকে একজন ব্যবসায়ী ১০ মিনিটেই চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ও চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছতে পারবেন। টানেলটির সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা আছে, কর্ণফুলী টানেল চালুর প্রথম বছর ৬৩ লাখ গাড়ি টানেলের নিচ দিয়ে চলাচল করবে। একসময় এই পরিমাণ এক কোটি ৪০ লাখে গিয়ে ঠেকবে। চালুর প্রথম বছরে চলাচলকারী গাড়ির প্রায় ৫১ শতাংশ হবে কনটেইনার পরিবহনকারী ট্রেইলর ও বিভিন্ন ধরনের ট্রাক ও ভ্যান। বাকি ৪৯ শতাংশের মধ্যে ১৩ লাখ বাস ও মিনিবাস, আর ১২ লাখ কার, জিপ ও বিভিন্ন ছোট গাড়ি।

সর্বাধিক পঠিত