প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সরকার নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে না ঠিকই কিন্তু কেউ না কেউ তো ঘুমাচ্ছে

বিভুরঞ্জন সরকার : নিমতলী-চকবাজার ট্রাজেডির দায় সরকার এড়াতে পারে না বলে স্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও প্রভাবশালী মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি এটাও স্বীকার করেছেন যে, নিমতলীর ঘটনার পর রাসায়নিকের গুদাম সরিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে নিবিড় নজরদারির অভাব ছিলো। তবে তিনি বলেছেন যে, চকবাজারের ঘটনার পর সরকার নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রতিদিন গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। কখনো প্রয়োজনীয়,আবার কখনো অপ্রয়োজনীয় কথাও বলেন। যেটা বলা উচিত সেটাও বলেন, যেটা না বললেই ভালো, সেটাও বলেন। তার সব কথা সবাই পছন্দ করেন না । কারোই সব কথা সবার পছন্দনীয় হয় না, হতে পারে না। এই যে ওবায়দুল কাদের বললেন, চকবাজারের ঘটনার পর সরকার নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে না, এটা তিনি কেনো বললেন? কেউ কি এমন কথা বলেছে যে সরকার চকবাজারের দুর্ঘটনার পর নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে? আগ বাড়িয়ে এমন কথা না বললে কোনো ক্ষতি হতো না। এটা বলায় বরং এখন এই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, নিমতলীর ঘটনার পর রাসায়নিক গুদাম না সরানোর কারণ কি তখন সরকার নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছিলো? তখনও কিন্তু আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় ছিলো। বর্তমান সরকারের প্রশংসা করতে গিয়ে তৎকালীন সরকারের কি নিন্দা করা হলো না?

সরকার এখন হয়তো নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে না। কারণ বিষয়টির ওপর এখন গণমাধ্যমসহ নাগরিকদের ‘ক্লোজড মনিটরিং’ চলছে। এখন কোনো অবহেলা-ঔদাসীন্য দেখালে তার প্রতিক্রিয়া হবে অনেক ব্যাপক। তাই সবাই একটু সতর্ক-সচেতন আছে। এজন্যই শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ হুমায়ুন প্রথমদিন অগ্নিকা-ের সঙ্গে রাসায়নিক পদার্থের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বললেও পরে তিনি তার অবস্থান বদল করে রাসায়নিকের উপস্থিতি মেনে নিয়েছেন। প্রশ্ন হলো, কতোদিন এভাবে জেগে থাকবে সরকার? সরকার জেগে থাকলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জেগে থাকবেন তো? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিকের গুদাম সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশ দিলেই তা বাস্তবায়ন হয় না। এর জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি, সময়সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কতোদিনের মধ্যে গুদামগুলো সরানো হবে এবং সরিয়ে কোথায় নেয়া হবে, ব্যবসায়ীরা সংঘবদ্ধভাবে প্রতিবাদ জানালে তা কীভাবে মোকাবেলা করা হবে এসব বিষয় পরিষ্কারভাবে দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরা দরকার। না হলে মানুষের মন থেকে সংশয় দূর হবে না। মানুষকে আস্থায় নিয়েই সরকারকে সামনে আগাতে হবে। আগে কারা গুদাম সরাতে অন্তরায় সৃষ্টি করেছে, অনীহা দেখিয়েছে তাদের শনাক্ত করা দরকার। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হলে আগের ফাঁকফোকরগুলো ভালোভাবে মেরামত করতে হবে। তাহলেই বোঝা যাবে যে, সরকার নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে না।

দুই. ২২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ঐক্যফন্ট ৩০ ডিসেম্বরের অনিয়ম নিয়ে একটি গণশুনানির আয়োজন করেছিলো। শুনানিতে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছেন এমন ৪১ জন প্রতিদ্বন্দ্বী তাদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। ভোটের আগের রাতেই পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় ব্যালট পেপার বাক্সে ভরা হয়েছিলো বলে প্রায় সবাই অভিযোগ করেছেন। এই অভিযোগ ঐক্যফ্রন্ট এবং বিএনপির নেতারা নির্বাচনের সময় থেকেই করে আসছেন। গণশুনানি করে বাড়তি কি লাভ বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্ট অর্জন করলো সেটা স্পষ্ট নয়। নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক না দেয়ায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সমালোচনা করেছেন অনেকেই। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে থাকলেও তার মুক্তির দাবিতে কিছু না করার সমালোচনা করে ‘আর দেরি না করে দ্রুত মাঠের আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার দাবি’ও উঠেছে গণশুনানি মঞ্চে।

কিন্তু ঐক্যফ্রন্ট বা বিএনপি আশু কোনো আন্দোলনে যেতে পারবে বলে অনেকেই মনে করেন না। গণশুনানির কিছু ছবি সামাজিক গণমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, ড. কামাল হোসেনসহ কয়েকজন ঘুমাচ্ছেন অথবা ঝিমাচ্ছেন। বিদ্রুপ করে কেউ কেউ লিখেছেন, ‘গণশুনানি না গণঘুমানি’? আবার বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট সমর্থকরা বলছেন, নেতাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অসৎ উদ্দেশ্য নিয়েই এধরনের ছবি সামাজিক গণমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে। নেতারা কেউ ঘুমাচ্ছিলেন না, বরং চোখ বন্ধ করে মনোযোগ দিয়ে সবার অভিযোগ শুনছিলেন এবং কি করা যায় সেসব নিয়ে ভাবছিলেন। জেগে, ঘুমিয়ে বা ঝিমিয়ে যেভাবেই হোক না কেনো নেতারা তাদের উপস্থিতি দেশবাসীকে জানাচ্ছেন এটাই বা কম কি! তাদের খোঁজ না পেলে সমর্থকদের উদ্বেগ বাড়বে। তারা আছেন-এটা কি কম বড় সান্ত¡না!

লেখক : গ্রুপ যুগ্ম সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত