প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঐক্যবদ্ধ থাকাই এখন ছাত্রলীগের চ্যালেঞ্জ

দৈনিক আমাদের সময় : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের প্যানেল চূড়ান্তের কাজ চলছে। আজকালের মধ্যে ডাকসু ও বিভিন্ন হল সংসদের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করবে ছাত্রলীগ। প্যানেলে জায়গা পেতে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের প্রতিযোগিতা এখন কোন্দলে রূপ নিচ্ছে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন হতে যাচ্ছে; এ কারণে অনেকেরই আগ্রহ এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার।

ছাত্রলীগের প্যানেলে জায়গা না হলে স্বতন্ত্র নির্বাচনের কথাও ভাবছেন তারা। পরিস্থিতি দেখে ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা বলছেন, ডাকসু নির্বাচন সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধ ছাত্রলীগের বিকল্প নেই। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সহসভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস), ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনকে এজিএস পদে মনোনীত করে ছাত্রলীগের প্যানেল চূড়ান্ত হচ্ছে। গত শুক্রবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের এক বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়। বিষয়টি জানার পর পরই পাল্টে যায় ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি।

নির্বাচন ঘিরে উৎসবের আমেজে থাকা ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মীর মধ্যেই হতাশা দেখা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ছাত্রী হলে প্রায় ১৫ হাজার ভোট রয়েছে। তাই ছাত্রনেত্রীদের ধারণা ছিল, বিশাল ভোট বিবেচনায় একজন ছাত্রীকে ডাকসুর শীর্ষ তিন পদের একটিতে মনোনয়ন দেওয়া হবে। কিন্তু ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে কোনো ছাত্রীর নাম না থাকায় বিষয়টি ভালোভাবে নেননি ছাত্রলীগের নারী নেতাকর্মীরা। গতকাল শনিবার ছাত্রলীগের নারী হলগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা বিষয়টি নিয়ে কথা তোলেন মধুর ক্যান্টিনে।

ছাত্রলীগ সভাপতি শোভনের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ও হয় তাদের। এদিকে, হল সংসদ নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থিতার নিশ্চয়তা চান ছাত্রলীগের হল শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা। কিন্তু এখন হলগুলোতে যারা শীর্ষ পদে আছেন, তারা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কমিটির আগের কমিটির নেতাদের অনুসারী। এ কারণে বর্তমান কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির শীর্ষ চার নেতার সঙ্গে হল কমিটির শীর্ষ নেতাদের একটা দূরত্ব রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের সংকটও রয়েছে। বর্তমান হল কমিটির শীর্ষ নেতারা মনে করেন, ছাত্রলীগের চার শীর্ষ নেতা তাদের বাদ দিয়ে নিজেদের অনুসারী জুনিয়রদের দিয়ে হল সংসদ নির্বাচনে প্যানেল দিতে চান। মূলত এ বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই অসন্তোষ চলে আসছে ছাত্রলীগে।

হল পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা বলছেন, তাদের বাদ দিয়ে হলের প্যানেল দেওয়া হলে আবাসিক হলগুলোয় ছাত্রলীগের বিজয় অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। ডাকসু নির্বাচনে অঞ্চলভিত্তিক ভোটারদের প্রভাব রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের শিক্ষার্থীর সংখ্যা অন্য অঞ্চল থেকে বেশি। তবে ডাকসুতে ছাত্রলীগের প্যানেলে উত্তরবঙ্গ থেকেই ভিপি পদে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও এজিএস পদে সাদ্দাম হোসাইন মনোনীত হয়েছেন। জিএস পদে ফরিদপুর অঞ্চল থেকে গোলাম রাব্বানী মনোনীত হয়েছেন। এতে বাদ পড়েছে ঢাবির ছাত্র রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে পরিচিত বরিশাল অঞ্চল। বাদ পড়েছে ময়মনসিংহ ও খুলনা অঞ্চল। শুধু তাই নয়, প্যানেলের শীর্ষ তিনজনই আইন বিভাগের ছাত্র হওয়ায় কলা ভবন, কার্জন হল, বিজনেস ফ্যাকাল্টিকেন্দ্রিক বিভাগগুলোর শিক্ষার্থীদের মধ্যেও অসন্তোষ রয়েছে।

ছাত্রলীগের প্যানেলে শীর্ষ পদে জায়গা না পেয়ে সংগঠনের বেশ কয়েক নেতাকর্মী স্বতন্ত্র নির্বাচন করার চিন্তা করছেন। এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি সোহান খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে যদি ভুল বুঝিয়ে আমাদের প্যানেলে না রাখা হয়, তবে বিকল্প চিন্তা করব। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি, জনপ্রিয়, ক্লিন ইমেজের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে আলাদা প্যানেল ঘোষণা করব। সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, আমরা আলাদা প্যানেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

জনপ্রিয়তার মাধ্যমেই প্রমাণ করব, আমরাই বঙ্গবন্ধুর রক্তের গর্বিত উত্তরাধিকারী। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের ঢাবি শাখার যুগ্ম সম্পাদক সনেট মাহমুদ বলেন, দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছি। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় নেতৃত্ব দিয়েছি। কিন্তু এখন আমাদের সঙ্গে কেউই যোগাযোগ করেনি। আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা আলাদা প্যানেল দেব।

সর্বাধিক পঠিত