প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঐক্যফ্রন্ট ভেঙ্গে দেয়ার দাবি জানালেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর

সালেহ্ বিপ্লব : ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গত নির্বাচনের আগে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্বাদ ক্রমেই পানসে হয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে বিএনপির কাছে। কামাল-রব-মান্না-মনসুরদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে মতভেদ থাকলেও বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা নির্বাচনে জয়ের আশায় ঐক্যফ্রন্টকে বেশ উচ্ছ্বাসের সাথেই গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর পরই সব আশা পর্যবসিত হয় হতাশার নিদারুণ যন্ত্রণায়। তবুও ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।

দেশে-বিদেশে ড. কামালের যে শক্তিশালী ইমেজ, সেই সুনামের সুবাদে নতুন একটি নির্বাচন আদায়ের ব্যাপারে আশাবাদ কাজ করতে থাকে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে। কিন্তু যতোই দিন গড়াচ্ছে, ততোই যেনো আস্থাহীনতা বাড়ছে ড. কামালকে ঘিরে। আন্তর্জাতিক মহল থেকে নতুন নির্বাচনের ব্যাপারে যে সহযোগিতা আশা করা হচ্ছিলো, তা এখন নিতান্তই দুরাশা। আন্তর্জাতিক মহল এরই মধ্যে নতুন সরকারকে মেনে নিয়েছে, অভিনন্দন জানিয়েছে। এই অবস্থায় মেয়াদ শেষের আগে নতুন নির্বাচন হবে, এটি বিএনপি নেতাকর্মীরা আর বিশ্বাস করতে চান না। এখন তাদের একটাই লক্ষ্য, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। আর এই লক্ষ্যেই আন্দোলন গড়ে তোলার তাগিদ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে, বিশেষ করে দলের তৃণমূল থেকে।

আন্দোলন গড়ে তোলার প্রশ্ন সামনে আসতেই আর একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। ড. কামাল বা ঐক্যফ্রন্টের আর সব নেতা এখন আসলেই কি বেগম জিয়ার মুক্তি চান, প্রকাশ্যেই এই প্রশ্ন তুলছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। সেক্ষেত্রে ঐক্যফ্রন্টকে ধরে রাখার আদৌ কোন প্রয়োজন আছে কি? কয়েকদিন ধরেই এই ইস্যুতে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মতামত জানার চেষ্টা করছেন বেশ ক’জন রাজনৈতিক রিপোর্টার। কিন্তু মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছেন নেতারা, আগ বাড়িয়ে এই প্রসঙ্গে কথা না বলাই ভালো বলে মনে করছেন।

ঠিক এমন এক পরিস্থিতিতে নিজ থেকেই মুখ খুললেন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর। সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী তার মনোভাব প্রকাশ করেছেন সামাজিক গণমাধ্যম ফেসবুকে। তিনি লিখেছেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের কারণে বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন করতে পারছে না। অবিলম্বে এই ফ্রন্ট ভেঙ্গে দিয়ে ২০ দলের সমন্বয়ে কঠোর আন্দোলন শুরু করা উচিৎ।’

শাহজাহান ওমরের এই বক্তব্য বিএনপির মাঠ পর্যায়ে বেশ ধাক্কা দিয়েছে। অনেকেই তার বক্তব্যের সাথে একমত হয়েছেন, সমর্থন দিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, দলের হাইকমান্ডকে শাহজাহান ওমর কতোটা প্রভাবিত করতে পারবেন বা আদৌ পারবেন কি না?

সর্বাধিক পঠিত