প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যোগাযোগ, ঐক্য, শিক্ষা- সর্বক্ষেত্রেই মাতৃভাষা সর্বোত্তম : সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

নাঈমা জাবীন : শিক্ষাবিদ ও সমাজ বিশ্লেষক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, মাতৃভাষার উপযোগিতার কথা কেউ অস্বীকার করে না। যোগাযোগ, ঐক্য, শিক্ষা- সর্বক্ষেত্রেই মাতৃভাষা সর্বোত্তম। মাতার স্নেহ এই ভাষাতেই পাওয়া সম্ভব। কোনো যোগাযোগই মাতৃভাষার মাধ্যমে যে যোগাযোগ, তার সঙ্গে তুলনীয় নয়। মাতৃভাষা চলে যায় অনেক গভীরে, কথা বলে বহু মাত্রায়। মাতৃভাষার সাহায্যে পারস্পরিক আদান-প্রদানের মধ্য দিয়ে যে ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব, সেটা কর্তৃত্বকামী বহিরাগত ভাষার ভেতর দিয়ে কখনও সম্ভব নয়। আর সে শিক্ষা তো অবশ্যই খ-িত শিক্ষা, যা মাতৃভাষাকে ব্যবহার করে না। সূত্র : সমকাল
তিনি বলেন, সেই ১৯৪৭ সালে সৈয়দ মুজতবা আলী তার ‘পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’ প্রবন্ধে জিজ্ঞাসা করেছিলেন- ‘পৃথিবীর কোন শিক্ষিত সভ্য দেশ মাতৃভাষা ছাড়া অন্য মাধ্যমে শিক্ষা নিচ্ছে? ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, চীন, জাপান, রুশ, মিসর, ইরাক, তুর্কি, ইরান এমন কোন দেশ আছে, যেখানকার লোক মাতৃভাষাকে অবমাননা করে আপন দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে?’ মাতৃভাষা হচ্ছে প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক। সব সন্তানকে সে সমান মনে করে, ধর্ম ও বর্ণ মানে না, ডিঙ্গিয়ে যেতে চায় শ্রেণিকে। বাংলা ভাষা ওই কাজগুলো করতে পারলো না। এ দেশে বারবার মন্বন্তর দেখা দিয়েছে, আর সেসব ভয়ঙ্কর ঘটনায় পুরুষের তুলনায় নারী কম করে হলেও দ্বিগুণ কষ্ট সহ্য করেছে। পুরুষ পালিয়ে গেছে অন্যত্র, মেয়েরা যেতে পারেনি, মারা পড়েছে ভিটাবাড়িতে, সাহস করে যারা পথে বের হয়েছে তারা বাঘ-ভাল্লুকের চেয়েও ভয়ঙ্কর সব পুরুষের হাতে পড়ে যারপরনাই নিগৃহীত হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে এখনও অক্ষরজ্ঞানহীন মানুষের সংখ্যা প্রচুর। যারা অক্ষর চেনে তারা বই পড়ে না। যারা উচ্চ শিক্ষিত তারা বাংলা ভাষার চর্চায় আগ্রহী নয়। ওদিকে পিতৃতান্ত্রিকতার দরুন বাংলা ভাষার নিজের মধ্যেও কতোগুলো বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়েছে, যেগুলো মোটেই গৌরবজনক নয়। যেমন সংস্কৃতবাহুল্য। সেটা এক সময়ে প্রবল ছিলো, এখন অতো প্রবল না হলেও রয়েছে বৈকি এবং ভাষাকে জনজীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করার ব্যাপারে ওই সংস্কৃতবাহুল্যের যে ভূমিকা ছিলো তা বাংলা ভাষার প্রবহমানতাকে খর্ব করার ক্ষেত্রেও কার্যকর ছিলো। অন্য পক্ষের পিতৃতান্ত্রিকরা আরবি-ফারসি শব্দ ঢুকিয়ে শোধ নিতে চেয়েছে, কেউ কেউ বলে বসেছে, বাংলা তাদের ভাষাই নয়। প্রকৃত সত্য হলো, বাংলা হচ্ছে জনগণের ভাষা, মায়ের ভাষা, দুই পক্ষের আক্রমণের মাঝখানে পড়ে সে বিব্রত হয়েছে। মুখের ভাষার কাছাকাছি যে থাকবে, সেটাও তার জন্য সহজ হয়নি। বিদ্যমান সংস্কৃতিতে যেহেতু সৃষ্টিশীলতার অভাব, তাই এ ভাষায় আড়ম্বর বেশি, অর্থের তুলনায়। পিতারা যে শ্রেণি বিভাজন সৃষ্টি করেছেন তার প্রতিক্রিয়াতে সর্বনামে আপনি, তুমি, তুই এসেছে। সর্বনামের সঙ্গে ক্রিয়াতেও পরিবর্তন ঘটানো বাধ্যতামূলক হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত