প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ড. সা’দত হুসাইন বললেন, আমার চিন্তা দূর হয়েছিলো, তবে ভাবনা দূর হয়নি

স্মৃতি খানম : সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. সা’দত হুসাইন বলেছেন, সেদিন বিকালে বা সন্ধ্যায় খাবারের চাল কিনতে হাতিরপুল বাজারে গিয়েছি। বাজারে গিয়ে দেখলাম, চালের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে আট টাকা সের। এতো বেশি দাম শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেলো। যেহেতু পরের দিন ভাই বাড়ি থেকে চাল নিয়ে আসবেন, তাই পকেটের সামান্য টাকা থেকে একটা বড় অংশ খরচ করে চাল কিনতে আমার মন সায় দিলো না। ঠিক করলাম, আজ রাতটা রুটি বা পরোটা খেয়ে কাটিয়ে দিবো, সেরখানেক বা আধাসের ময়দা কিনলাম। তার সঙ্গে বারো টাকা দিয়ে একটি মাঝারি সাইজের মোরগ কিনলাম। বাসায় এসে দেখলাম, আমার স্ত্রীর এক বান্ধবী এসেছে, সে রাতে আমাদের বাসায় খাবে। সূত্র: কালের কণ্ঠ

তিনি আর বলেন, পরোটা এবং মোরগ ভুনা দিয়ে আমরা তিনজন তৃপ্তিসহকারে রাতের খাওয়া শেষ করলাম। হাসি-আনন্দে আমাদের সময় কাটলো। গভীর রাতে এবং পরের দিন সকালে একটা প্রচ- স্নায়বিক চাপ আমার ওপর ভর করলো। এক ধরনের আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তা আমাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। আমি শুধু ভাবছি, সরকারের কনিষ্ঠতম উপসচিব হিসেবে আমার বয়সী কর্মকর্তাদের মধ্যে আমি সবচেয়ে বেশি বেতন পাই। সেই আমি আজ চাল কিনে ভাত খেতে পারলাম না, তার বদলে ময়দা কিনে পরোটা খেয়ে রাত কাটাতে হলো। সামনে চালের দর আরো বেড়ে যাবে, তখন আমরা বাঁচবো কীভাবে? আমার সন্তানের কী হবে? আর আমার সহকর্মী, সতীর্থরাই বাঁচবে কীভাবে? তবে কী আমাদেরও অভুক্ত-অর্ধভুক্ত অবস্থায় দিন কাটাতে হবে? যাক, পরদিন চাল নিয়ে আমার ভাই এসেছিলেন। আমার চিন্তা দূর হয়েছিলো, তবে ভাবনা দূর হয়নি।

চাল-ডাল, তেল-লবণ ছাড়াও অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর সরবরাহে দারুণ ঘাটতি ছিলো। আমাদের সত্যিকার অবস্থা ছিলো ‘নুন আনতে পান্তা ফুরোয়’। আমি তো অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকতাম। আমার স্ত্রী এবং নিকট আত্মীয়রা, বিশেষ করে মুরব্বিরা সারাদিন এখানে-ওখানে ন্যায্যমূল্যে জিনিস কেনার জন্য লাইন দিয়ে দিন কাটাতেন। কোনো লাইনে সাবান, কোনো লাইন থেকে বাচ্চার দুধ, কোনো লাইন থেকে দিয়াশলাই, আবার কোথাও থেকে পরিধেয় কাপড় কিনে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত অবস্থায় তারা বাসায় ফিরতেন। ঈদে-চাঁদেও আমরা নতুন কাপড়চোপড় কিনতে পারিনি, লম্বা লাইন দিয়ে মুরব্বিরা কাপড়ের যে টুকরা কিনতে পেরেছিলেন, তা-ই ছিলো আমাদের সম্বল। আমার এক ‘সিনিয়র কলিগ’ বললেন, ‘এখন পারমিটই জীবন। যেভাবে হোক তোমাকে পারমিট সংগ্রহ করতে হবে। নইলে তুমি বাঁচতে পারবে না।’ তার উপদেশটা ভীতিসঞ্চারক। নিজের অফিস ছেড়ে আমি কী তবে অন্যের অফিসে গিয়ে পারমিটের জন্য বসে থাকবো?

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত