প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডাকসু নির্বাচনে কোটা আন্দোলনকারীদের প্যানেল চূড়ান্ত-ঘোষণা রোববার

জিয়াউদ্দিন রাজু: দেশের দিত্বীয় সংসদ খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল ছাত্র সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবেই লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। তবে ডাকসু নির্বাচন সামনে রেখে শিক্ষার্থীবান্ধব ও নৈতিক কোনো কর্মসূচিতে অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যৌথ আন্দোলনে অংশ নেবে তারা। এর আগে তারা প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সঙ্গে জোট করবে বলে শোনা গেছে। ছাত্রলীগও তাদের প্যানেলে নির্বাচন করার জন্য আন্দোলনকারীদের প্রস্তাব দিয়েছিল।

সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ শুক্রবার তাদের সদস্যদের নিয়ে একটি সভা করে। সভায় নির্বাচন সংক্রান্ত একটি বিতর্ক হয় যে তারা কিভাবে নির্বাচন করবে। সেখানে অধিকাংশ নেতাকর্মী কোনো জোটে না গিয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে তারা নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো দাবি আদায় প্রয়োজন হলে যেকোনো জোটের সঙ্গে মিলে আন্দোলন সংগ্রাম করবে। সাধারণ ছাত্র পরিষদ যারা বিভিন্ন সময়ে ছাত্রদের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করেছে তাদেরকে প্রার্থী করতে পারে বলেও জানা গেছে।

তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্যাম্পাসে লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে কোটা আন্দোলনকারীরা। লিফলেটে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোটকেন্দ্রে যেতে ও ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করছেন তারা। কোটা আন্দোলনের মতো শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিতে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন নেতারা। প্রতিদিনই ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্পটে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনটি পুরো দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়লেও এটি শুরু হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে। এর নেতৃত্বেও ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন বিভাগের নিয়মিত শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে তাদের ৩৬ জন সক্রিয় রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৮ জনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব রয়েছে। সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আহ্বায়ক হাসান আল মামুন গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে মাস্টার্স শেষ করেছেন। তাঁর শিক্ষাবর্ষটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্বাচনের আওতায় না রাখলে যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক (ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র) রযেছে, রাশেদ খান (ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের এমবিএর ছাত্র) এবং ফারুক হাসান (ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের মাস্টার্সের ছাত্র) এই তিনজনের যেকোনো দুজনকে সামনে রেখে প্যানেল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।

নির্বাচনের শুরুতে জোটে যাওয়ার ইচ্ছের কথা জানালেও শেষ পর্যন্ত স্বতন্ত্র নির্বাচন করার কথা জানিয়েছেন ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা কোনো জোটে গিয়ে নির্বাচন করব না। আমরা স্বতন্ত্রভাবেই নির্বাচনে লড়ব। কারণ আমাদের প্রতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের যথেষ্ট সমর্থন রয়েছে। তবে জোটবদ্ধ নির্বাচন না করলেও ন্যায্য দাবির আন্দোলনে জোটবদ্ধ হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। প্যানেলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্যানেলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে আজ। তবে অব্যশই শিক্ষাগত যগ্যতা, গ্রহন যগ্যতা, জনপ্রিয়তার এবং নেত্বতর উপর বিত্তি করে প্যানেল তৈরী হবে।

ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কয়েকজন নেতা জানান, প্যানেল প্রায় চূড়ান্ত। প্যানেলে কোটা আন্দোলনের আহ্বায়ক কমিটি ছাড়াও প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার দাবির আন্দোলন ও সাত কলেজ বাতিল আন্দোলনে যুক্ত থাকা শিক্ষার্থীরাও প্যানেলে যুক্ত করা হবে। এ ছাড়াও ক্যাম্পাসে যারা সাধারণ শিক্ষার্থী বলে পরিচিত কিন্তু শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিতে বিভিন্ন সময় সমর্থন করেছেন এবং অংশ নিয়েছেন এমন ব্যক্তিকেও প্যানেলে যুক্ত করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত