প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রধানমন্ত্রীকে পাশে পেয়ে সাহস পাচ্ছেন রোগি ও স্বজনরা

সমীরণ রায় : চকবাজারের চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডে আহতদের দেখতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার সকালে ছুটে যান ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে। এসময় চুড়িহাট্টায় অগ্নিদ্বগ্ধ রোগি ও স্বজনরা প্রধানমন্ত্রীকে দেখে আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়েন। দেশের প্রধানমন্ত্রী পাশে এসে দাঁড়ানোয় তারা ফিরে পেয়েছেন বেঁচে থাকার আশা ও সাহস। প্রধানমন্ত্রী আহতদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেওয়ার পাশাপাশি তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে তিনি সান্তনা দেন, সেই সঙ্গে দেন পাশে থাকার আশ্বাস।

রোগির স্বজনরা বলেন, কল্পনাও করিনি আমাদের মত গরীব মানুষ আগুনে পুড়লে প্রধানমন্ত্রী দেখতে আসবেন। উনি (প্রধানমন্ত্রী) আমাদের কাছে আসছেন; শরীরে, মাথায় হাত বুলিয়ে সান্তনা দিছেন, সাহস দিছেন। আমাদের জন্য দোয়া করবেন বলছেন। আমরা সাহস পাইছি। আমার স্বামীর ভালো চিকিৎসা হইবো। আমরা চাই সে সুস্থ হয়ে যাক।

বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, আগুনে আহতদের চিকিৎসার সব দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন। দগ্ধ প্রত্যেক পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে সহায়তা দিয়েছেন প্রাথমিকভাবে। যারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তাদের সুস্থ করতে আমরা সব ধরনের চেষ্টা করব। এটা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাইদ খোকন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বার্ন ইউনিটে আহতদের দেখার পর তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের পাশে থাকবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন, সান্তনা দিয়েছেন।

আগুনে দগ্ধ রিকশা চালক আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী হাজেরা বেগম বুঝতে পারছিলেন না, চার সন্তানকে নিয়ে কীভাবে তার সংসার চলবে। প্রধানমন্ত্রী হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর বার্ন ইউনিটের দোতলার বারান্দায় কথা হয় হাজেরা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, তার স্বামী আনোয়ার হোসেন রিকশা চালাতেন। তার রোজগারেই চার সন্তানকে নিয়ে কোনোক্রমে টিকে ছিলেন। চুড়িহাট্টার আগুনে আনোয়ার মারাত্মকভাবে দগ্ধ হলে সব কিছু অনিশ্চিত হয়ে যায়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ৫৫ বছর বয়সী আনোয়ারের শরীরের ২৮ শতাংশ পুড়ে গেছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাখা হয়েছে আইসিইউতে। হাজেরা বলেন, এই তিন দিন আমরা হাসপাতালে আছি। খুব টেনশনের মধ্য দিয়া দিন পার করতেছিলাম। কীভাবে আমার সংসার চলবে। এখন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সহায়তার আশ্বাস পেয়ে ভরসা পাচ্ছেন বলে জানালেন তিনি। ওই ঘটনায় আয়নার দোকানের কর্মচারী সেলিম মিয়ার (৪০) শরীরের ১৪ শতাংশ পুড়ে গেছে। তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আঁখি বেগম বলেন, আমাদের চার বছরের একটা মেয়ে আছে। পরের মাসেই পরের সন্তান হবে। এর মধ্যে এমন দুর্ঘটনা। খুব ভয় পেয়ে গেছিলাম। অসহায় লাগছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কাছে আইসা বললেন, তোমরা কোন চিন্তা কইরো না। আমরা তোমাদের পাশে আছি। চিকিৎসার জন্য কোনো চিন্তা কইরো না। সব ব্যবস্থা আমরা করব। অসহায় অবস্থার মধ্যেও মনে এখন সাহস পাচ্ছি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত