প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিআইবিএম এর মহাপরিচালক হচ্ছেন কে?

রমজান আলী : বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক পদ সম্প্রতি শূন্য হয়েছে। ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে নিয়োগ পেতে অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে। শেষ পর্যায়ে চূড়ান্ত নিয়োগ কে পাবেন এই অপেক্ষায় রয়েছেন পুরো ব্যাংকিং খাত। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য বোর্ড সভায় বিষয়টি নির্ধারিত হবে বলে জানা গেছে।

সূত্রে জানা গেছে, বিআইবিএমের মহাপরিচালক পদে সদ্য মেয়াদ শেষ হয়েছেন ড. তৌফিক আহমেদ চৌধূরীর। তিনি ২০১০ সালে বিআইবিএমের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান। এর আগে ২০০৯ সালে প্রথম বারের মত মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান বিআইবিএম এর আরেক অধ্যাপক ড. বন্দনা সাহা। এর ধারাবাহিকতায় তার মেয়াদ শেষে নিয়োগ পান ড. তৌফিক আহমেদ চৌধূরী।

ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, অভ্যন্তরীণ যোগ্য প্রার্থী নিয়োগ পাওয়ায় গত এক দশকে প্রতিষ্ঠানটি প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং কনসালটেন্সী কাজে অনন্য উচ্চতায় পৌছেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কনসালটেন্সী এবং যুক্তরাজ্য, জার্মানী, মালয়েশিয়ার একাধিক বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে কোর্স পরিচালনাসহ বিভিন্ন খ্যাতিনামা প্রতিষ্ঠানের সাথে পারষ্পারিক সম্পর্ক তৈরী করার কারণে আন্তর্জাতিকভাবেও বিআইবিএম সমাদৃত হয়েছে।

এসব কারণে গত ১৬ জানুয়ারী ড. তৌফিক আহমেদ চৌধূরীর বয়স ৬৫ বছর পার হওয়ার কারণে তার মেয়াদ শেষ হলেও বিআইবিএম এর এসব কর্মকান্ড চলমান রাখার জন্য গভর্নিং বোর্ড ড. তৌফিক আহমেদ চৌধূরীর মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আইনি মতামত প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিধি বিধানে ৬৫ বছরের পর নিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ নাই। তবুও তিনি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের চেষ্টা চালাচ্ছেন, কিন্তু সেখানেও তিনি আইনের বাধ্যবাধকতায় পিছিয়ে আছেন। এ কারণে তার মেয়াদ আর বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন গভর্নিং বোর্ডের একাধিক সদস্য।

গত ২৪ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক সার্কুলারে বলা হয়, কোনো ব্যক্তির বয়স ৬৫ বছর অতিক্রান্ত হলে তিনি ব্যাংকের কোনো পদে চুক্তিভিত্তিতেও নিয়োজিত হতে বা অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না। তবে পরামর্শক ও উপদেষ্টা পদে ব্যাংক বিশেষ প্রয়োজনে ৬৫ বছরের বেশি কোনো ব্যক্তিকে চুক্তিভিত্তিতে বহাল রাখতে অথবা নিয়োগ দিতে পারবে। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংক ওই নির্দেশনা দেয়।

এদিকে মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পেতে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন বর্তমানে বিআইবিএম এর মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আবদুর রহিম। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পদে পরীক্ষা দিয়ে মেধা তালিকায় শীর্ষে ছিলেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা থেকে নানাবিধ অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়। দুদক এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরুও করে। আর দুদক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি জানানোর পর ডেপুটি গভর্নর নিয়োগের প্যানেলটি বাতিল করা হয়। তবে নির্বাহী পরিচালক আবদুর রহিমের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজের অভিজ্ঞতা ছাড়া কোন প্রশিক্ষণ ও গবেষণা বিষয়ে কোন অভিজ্ঞতা নেই। এজন্য ব্যাংকিং খাতের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সংক্রান্ত সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া ঠিক হবে না বলে জানিয়েছেন বিআইবিএম প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িত একাধিক কর্মকর্তা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, দুদকের প্রতিবেদনের কারণে ডেপুটি গভর্নরের পদে আবদুর রহিম এর নিয়োগ পাবার সম্ভাবনা খুব কম। তাছাড়া একই কারণে অবসর গ্রহণের পর ব্যাংক ও আর্থিক খাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান তাকে নিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে আগ্রহী নাও হতে পারে। এসব কারণে তিনি বিআইবিএম এ নিয়োগ প্রাপ্তির জন্য জোর তদবির চালাচ্ছেন। নিজের অনিয়ম দূর্নীতির বিষয় গোপন করে তিনি এ কাজে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের সহায়তা পাওয়ারও চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। এ বছরের মাঝামাঝিতে অবসরের যাবেন আবদুর রহিম।

দুদক সূত্র জানায়, আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ, রপ্তানি আয়ের বিপরীতে সরকারের নগদ সহায়তার অর্থ ছাড় করার ক্ষেত্রে অনিয়ম, কমিশনের বিনিময়ে ভুয়া ঋণ অনুমোদন ও বিতরণে সহায়তাসহ অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে দুদকে জমা পড়া অভিযোগে বলা হয়, আবদুর রহিম রূপালী ব্যাংকের পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন নানা অনিয়ম করেন। তিনি বেআইনিভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ অনুমোদন ও ঋণ বিতরণে সহায়তা করেন।

অভিযোগটি অনুসন্ধান করেন দুদকের উপপরিচালক সামছুল আলম। ২০১৬ সালে ১৪ জুন অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আবদুর রহিমকে দুপুর আড়াইটা থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

বিআইবিএম এর মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পাবার জন্য জোর আলোচনায় রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মো. আক্তারুজ্জামান। তার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা, গবেষণা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ইসকান্দার মির্জাও এ পদে নিয়োগ পেতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিআইবিএমের জেষ্ঠতম অধ্যাপক ও পরিচালক ড. শাহ্ মো. আহসান হাবিব এর রয়েছে ব্যাংকিং খাত সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং শিক্ষায় দুই দশকের বেশী অভিজ্ঞতা। এছাড়া গত এক দশকে বিভিন্ন সময়ে ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।

তাছাড়া বিআইবিএম এর অধ্যাপক মহিউদ্দিন ছিদ্দীক ও ড, তাজুল ইসলামও আছেন এ তালিকায়। প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা না থাকলেও নিজ নিজ এলাকার একাধিক প্রভাবশালী মন্ত্রী ও আমলাদের মাধ্যমে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। এ কারণে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারী বোর্ড সভায় তাদেরকেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় আনতে বাধ্য হচ্ছে গভর্নিং বোর্ড।

কৃষি ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি লিয়াকত হোসেন মোড়লও আছেন প্রতিযোগিতায়। কৃষি ব্যাংকের প্রশিক্ষণ ইনন্টিটিউটে দায়িত্ব পালন ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোন প্রশিক্ষণ অভিজ্ঞতা তার নেই। নেই কোন গবেষণা কর্ম। তবে সম্প্রতি অনুমোদন পাওয়া তিনটি বেসরকারী ব্যাংকের কোন একটিতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেতেও তৎপর তিনি।

এছাড়া বিআইবিএম এর মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পেতে চেষ্টা করছেন একাধিক ঢাকা এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের একাধিক প্রভাবশালী শিক্ষক।

মহাপরিচালক নিয়োগের বিষয়ে একাধিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা বলেন, বিআইবিএম এর চলমান সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য যোগ্যতম প্রার্থীই এ পদে নিয়োগ পাবেন বলে তারা আশাবাদী।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত