প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধির পঞ্চাশ বছর পূর্তি

আহমেদ জাফর: বাঙালির জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার জীবন যৌবন সবকিছু বিলিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের জনগণের জন্য। আর এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসার জন্য তাকে ১৯৬৯ সালে ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জনগণ শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু উপাধির পঞ্চাশ বছর পূর্তি হয় তাই এইদিনটি আওয়ামী লীগ তথা বাঙালিদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ দিন।

১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিব কারাগার থেকে মুক্তি পান। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি হিসেবে কারাগারে বন্দী ছিলেন। তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়ন (ডিইউসিএসইউ)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক তোফায়েল আহমেদ কারামুক্ত শেখ মুজিবুর রহমানের সম্মানে আয়োজিত জনসমাবেশে বাংলার জনগণের পক্ষে বঙ্গবন্ধু উপাধি ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতাও ঘোষণা করা হয়।

১৯৬৮-৬৯ মেয়াদে ডিইউসিএসইউ’র ভিপি’র দায়িত্ব পালন করা তোফায়েল আহমেদ। ঐতিহাসিক ১১-দফা আন্দোলনের ভিত্তিতে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তান জেল থেকে মুক্ত করি। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ২৩ ফেব্রুয়ারি জাতির পক্ষে কৃতজ্ঞতা স্বরূপ শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি প্রদান করে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য তোফায়েল আহমেদ সেদিনের কথা স্মরণ করে বলেন, জনসমাবেশে আমি বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশ্যে ভাষণ দেই। তখন আমরা মহান এই নেতাকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দিচ্ছি যে নেতা তাঁর যৌবনের পুরোটা সময় পাকিস্তানি জেলে কাটিয়েছেন এবং হাসিমুখে মৃত্যুকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত ছিলেন।

এরপর থেকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এই বাঙালি ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে পরিচিত হয়ে আসছেন। ‘বঙ্গবন্ধু’ বাংলায় যার অর্থ জনগণের বন্ধু।

তুখোড় রাজনীতিবিদ ও সাংসদ তোফায়েল ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান কথা উল্লেখ করে বলেন, ১৯৬৯ সালের ১৭ জানুয়ারি আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন থেকে আন্দোলনের স‚ত্রপাত করি। এ গণঅভ্যুত্থানকালে আসাদ, মতিউর, মকবুল রুস্তম এবং ক্যান্টনমেন্টে সার্জেন্ট জহুরুল হক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক শামসুজ্জোহা মৃত্যুকে বরণ করে নেন। এসব আত্মত্যাগের মধ্যদিয়ে আমরা বঙ্গবন্ধুকে কারামুক্ত করতে সক্ষম হই। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আমরা বিজয় লাভ করি। একই সঙ্গে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশেরে জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন আর কোনো নেতা জনগণের জন্যে এতো ত্যাগ স্বীকার করেননি। আমি গর্বের সঙ্গে বলছি আমরা আমাদের দুটি শ্লোগানকেই বাস্তবায়িত করতে পেরেছি। একটি বঙ্গবন্ধুকে কারামুক্ত এবং অন্যটি মাতৃভ‚মি বাংলাদেশকে স্বাধীন করা। ২২ ফেব্রুয়ারি আমরা বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করে জাতির জনকে পরিণত হন। ১৬ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা দেশকে স্বাধীন করি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত