প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

সমীরণ রায়: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টার আগুনে হতাহতদের জন্য রাষ্ট্রীয় শোক দিবস ঘোষণা করা হবে। এটা একটা বড় ধরনের দুর্ঘটনা, যা আমাদের সবাইকে ব্যথিত করেছে।

শনিবার সকাল ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইন্সটিটিউটে চুড়িহাট্টায় আগুণে দগ্ধদের দেখতে গিয়ে হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি শোক দিবস ঘোষণা করবো। আজ ছুটির দিন আগামীকাল রোববার অফিস খুললে কেবিনেট সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে শোকের ঘোষণা দেওয়া হবে। আগুনে দগ্ধদের চিকিৎসায় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সর্বাধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের আধুনিকায়ণে আগুন দ্রুত নেভানো সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি আগুণ নেভানোর জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছে।

আগুন ছড়িয়ে পড়ার পেছনে এখানকার কেমিক্যাল গুদামগুলো দায়ী উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা মোবাইল কোর্ট বসিয়েও কারখানগুলো অপসারণ করেছি। কিন্তু সেগুলো আবার বসেছে। এগুলো দ্রুত সরিয়ে নিতে হবে। আমাদের নিজেদের সচেতন হতে হবে।

আগুন নেভানোর কাজ বিঘ্নিত হওয়ার পেছনে সংবাদকর্মীদের প্রতি দোষারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবাদ কর্মীদের নানা প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে আগুন নেভানো ব্যাহত হয়েছে। আমাদের জানতে হবে কখন কি প্রশ্ন করা যায়। যখন অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা আগুণ নেভানোয় ব্যস্ত, তখন যদি তাদের প্রশ্ন করা হয়, তাহলে তারা কীভাবে কাজ করবেন? আগুন ও তাতে দগ্ধদের ছবি তোলার বিষয়ে সংবাদকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে। যাতে আতঙ্ক ছড়িয়ে না পড়ে। এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের সচেতন হওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।

আগুন নেভানোর জন্য পানির উৎসের অপ্রতুলতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় এক সময় অনেক পুকুর ছিলো সেগুলো ভরাট করে ফেলা হয়েছে।

খালগুলো উদ্ধারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এক সময় পুরনো ঢাকার ধোলাই খাল ও আশপাশে অনেক খাল ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেগুলো দখল হয়ে গেছে। স্থানীয়রা ভরাট করে ফেলার কারণে এ এলাকায় দুর্ঘটনার সময় পানি পাওয়া যায়না। আগুণ নেভানোর সময় যদি পানি না পাওয়া যায়, তাহলে ফায়ার সার্ভিসের কী করার আছে?

পুরান ঢাকার রাস্তাগুলো প্রশস্ত করার জন্য মেয়রকে নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পুরান ঢাকার রাস্তাঘাট একেবারে সরু। সেই রাস্তায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢোকার কোনো উপায় নেই। ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ওই রাস্তাগুলো প্রশস্ত করতে হবে।

এর আগে দগ্ধ ও আহতদের খোঁজ-খবর নেন প্রধানমন্ত্রী। রোগী ও তার আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ ছাড়া ডাক্তারদের সঙ্গেও রোগীদের অবস্থা নিয়ে কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ড. মুরাদ হাসান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিম, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. সামন্তলাল সেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ডা. আবুল কালাম প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে একটি সিলিন্ডার বিষ্ফোরণের মধ্য দিয়ে আগুণের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হচ্ছে। সেখানে বেশ কিছু অবৈধ কেমিক্যালজাত পণ্যের গুদাম থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তাতে গোটা এলাকা ভস্মীভূত হয়। প্রাণহানি ঘটে অন্তত ৬৭ জনের।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত