প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উপজেলা নির্বাচনে ৩য় ধাপে ২৪মার্চ চাদপুর সদর উপজেলায় ভোট গ্রহণ করা হবে

রুহুল আমিন : উপজেলা নির্বাচনে ৩য় ধাপে ২৪ মার্চ চাঁদপুর সদর উপজেলায় ভোট গ্রহণ করা হবে। এ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ার ঘোষনা দেওয়ায় উপজেলাটিতে এখন পর্যন্ত সরকার দলীয় ৪ প্রার্থীকে নিয়েই আলোচনা চলছে। এবারের উপজেলা নির্বাচনে চাঁদপুর সদর উপজেলা থেকে তৃনমূল আওয়ামীলীগের চার জন নেতা নির্বাচনের জন্য মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এরা হলেন, চাঁদপুর জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান কালু, জেলা আওয়ামীলীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক নুরুল ইসলাম মিয়াজী, চাঁদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম নাদিম দেওয়ান ও জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য এবং ৮ নং বাগাদী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বিল্লাল।

চাঁদপুর স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৪ প্রার্থীর মধ্যে দলীয় নেতাকর্মী ও সদর উপজেলাবাসীর কাছে সবচেয়ে ক্লিন ইমেজের প্রার্থী জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান কালু। স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, মিজানুর রহমান কালু পারিবারিকভাবে আওমীলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত চাঁদপুর শহর আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। ২০০৪ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত চাঁদপুর জেলা যুবলীগের সভাপতি এবং ২০১৩ সাল থেকে বর্তমানে তিনি চাঁদপুর জেলা যুবলীগের আহŸায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। আরেক প্রার্থী নুরুল ইসলাম নাদিম দেওয়ান চাঁদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনিও দীর্ঘদিন যাবৎ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ নাদিম দেওয়ানের আপন চাচা মাওলানা আব্দুল হক ১৯৭০ এর নির্বাচনে জামায়াত-মুসলীম লীগের প্রার্থী হয়ে বই মার্কায় নির্বাচন করেছেন। এছাড়াও তার পরিবার বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত বলেও তাদের অভিযোগ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চাঁদপুর পৌর আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, চাঁদপুর উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির যুগ্ন আহŸায়ক দেওয়ান শফিকুজ্জামানের আপন চাচাতো ভাই নাদিম দেওয়ান। ২০১৪ সালে দেওয়ান শফিকুজ্জামানের উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পেছনে তার অবদান আছে বলেও জানান স্থানীয়রা।
চাঁদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কর্মী উত্তম কর্মকার বলেন, এবারের উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চার জন প্রার্থী নির্বাচনের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন। এদের মধ্যে মিজানুর রহমান কালু, নুরুল ইসলাম মিয়াজী ও বেলায়েত হোসেন বিল্লাল পারিবারিক ভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত। তবে বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাদিম দেওয়ানের পরিবার বিএনপি ঘেষা। নাদিম দেওয়ানের নামে এসব অভিযোগের বিষয় জানতে চেয়ে একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

জেলা আওয়ামীলীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক নুরুল ইসলাম মিয়াজী বলেন, আমি ও আমার পরিবার দীর্ঘ দিন যাবত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমার বিশ্বাস দল আমাকে মুল্যাায়ন করে মনোনয়ন দেবে। দলীয় মনোনয়ন না পেলে নির্বাচন করবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দল করি কোন সিদ্ধান্তের বাহিরে যাবো না। জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য এবং ৮ নং বাগাদী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বিল্লাল বলেন, আমি ১৯৯২ সালে প্রথম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ২০০৩ সাল পর্যন্ত একটানা দুই বার চেয়ারম্যান ছিলাম। এরপর ৩য় বারের মত দলীয় মনোনয়ন পেয়ে বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছি। এলাকায় আমার জনপ্রিয়তা রয়েছে। দল আমাকে সঠিক মূল্যায়ন করে যদি মনোনয়ন দেয় তবে নির্বাচন করবো আর মনোনয়ন না দিলে নির্বাচন করবো না।
চাঁদপুর জেলা যুবলীগের আহŸায়ক মিজানুর রহমান কালু বলেন, ৩২ বছর আমার রাজনৈতিক নেতৃত্বের বয়স। চাঁদপুর উপজেলার প্রতিটা মানুষের সাথে আমার আত্মার সম্পর্ক। তারা চান আমি উপজেলা নির্বাচন করি। তাদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে আমি নির্বাচনে এসেছি। প্রধানমন্ত্র¿ী আমাকে মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো।

দলীয় মনোনয়ন না পেলে নির্বাচন করবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মিজানুর রহমান কালু বলেন, আমি চাই যারা মূল আওয়ামী লীগ এবং সৎ ও আদর্শবান তাদের মনোনয়ন দেওয়া হলে আমি দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিবো। তবে দলীয় হাইকমান্ড এর প্রতি অনুরোধ করবো স্বার্থের জন্য যেসব অসৎ ব্যক্তি দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অপকর্ম করে তাদের যেন মনোনয়ন না দেন। চাঁদপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক দেওয়ান শফিকুজ্জামানের সাথে কথা বলে জানা যায়, দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে তিনি ও তার দলের কেউ এবারের উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত