প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

১৪০০’র ঢাকা মেডিকেলে ২৫০০ সিট : রোগী থাকে ৪৫০০ : অসম্ভবকে সম্ভব করেন ডাক্তাররাই

অধ্যাপক ডা. মুজিবুল হক

২৫০০(এটা সরকার নির্ধারিত সিট সংখ্যা) রোগীর খাবার খাবেন ৪৫০০ রোগী (এতোজন এ মুহূর্তে ভর্তি আছে) ঢাকা মেডিকেলে । খাবার অকল্পনীয়ভাবেভাবে কম পড়বে, কিন্তু কী হবে সমাধান? আপনি বলুন দেখি। এক রাতে সিজার অপারেশন (১/২ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় প্রতি রোগীর জন্য ) হয় প্রায় ৩০টি। ৪/৫ জন ডাক্তার । ইমার্জেন্সি থেকে আসা ট্রলিতেই ডেলিভারি করাতে হয়। জায়গা নাই। ১৪০০ রোগীর হাসপাতালকে কাগুজে ২৬০০ বানাবার আদেশ দিয়েই খালাস।

গভীর রাতে ভর্তি হয়া অতি খারাপ স্বজনহীন রোগীকে রক্ত দেয় মেডিকেল হোস্টেল থেকে আসা ছাত্রদের কেউ না কেউ, নিয়মিত। আর কতো হলে সহানুভূতি পাওয়া যেতে পারে? ইমার্জেন্সিতে প্রতি শিফটে ৭০/৮০ রোগী আসেন, ডাক্তার মাত্র দু’জন! কোনো সমস্যা সমাধানই ডাক্তারের হাতে নেই। সেক্রেটারিয়েটের বারান্দায় রয়েছে। সাধারণের জানাও নেই। সিএমএইচের মতো হাসপাতালে, যেখানে সবকিছু ডাক্তাররাই দেখেন, সেখানে সবই ছিমছাম।

যন্ত্র পাতি কেনা হয়েছে প্রয়োজন মতো। এসব নষ্টও হয় না সহজে (মানুষ জানেও না এগুলো কেনায় ডাক্তারদের হাত নেই, মেইনটেন্যান্সেও নেই (বিখ্যাত ‘তালাশ’ টিমের পাবনার পরম সৎ সিভিল সার্জনের মতো পরিণতি দেখে থাকবেন)।

ক্লান্ত ডাক্তার বা নার্স হয়তো বিরক্ত হতেও পারেন, দিনের পর দিন চলা এই শ্রমে। সারাটা দুনিয়াময় ডাক্তারদের আর সকলের মতো দু’দিন ছুটি। সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজ। এর বেশি হলে আনুপাতিক হারে সম্মানী। এই বাংলাদেশেই এটাই নিয়ম অন্যসব চাকরিতে। এতে দোষ নেই।

ক্লান্তিকর ৫ দিন পর আবার আনন্দ, উৎসাহে কাজের মান ভালো হয়। শুধু ডাক্তাররা বাদ। এ অবস্থার বিষযে নিজে খোঁজ নিন, বিবেচনায় নিন। পরে না হয় হৃদয়হীন মন্তব্য করুন। সূত্র : ডাক্তার প্রতিদিন

লেখক : চিকিৎসক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত