প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এদেশে মানুষের জীবন হলো সবচেয়ে মূল্যহীন

মার্জিয়া রহমান শাওলীন

এ দেশে সবচেয়ে মূল্যহীন হলো জীবন। সবচেয়ে সস্তায় মেলে মৃত্যু। আর এতো কোটি জনসংখ্যা যার তার শত বা হাজারের ঘরে মৃতদেহের স্তূপ হলেও কারো কিছু যায় আসে না। কেননা শতাংশের বিচারে এ তো তেমন কিছু নয়, কিছুই নয়! খোলামকুচির দামও এদেশের লোকের চেয়ে বেশি, কেননা জঞ্জালের সংখ্যা হিসেবে বোধকরি আমাদের প্রজাতিই গরিষ্ঠ। টুইন টাওয়ার হামলা পৃথিবীর ইতিহাসটাকে দুমড়ে-মুচড়ে বদলে দিয়েছিলো। মৃতের সংখ্যা তাতে কতো ছিলো? হাজার তিনেকের কাছাকাছি সম্ভবত। এদিকে কারো হামলা ছাড়াই রানা প্লাজা ধসে পড়ে আমাদের। মৃতের সংখ্যা এক হাজার একশো ছাড়ায় এবং সেই সংখ্যা নিয়েও বিতর্কের শেষ থাকে না। অথচ এতো মৃত্যুর পর আমাদের দেশে কী পরিবর্তন এলো? কিচ্ছু নয়। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই, না নির্মাণে না তার অপসারণে।নিমতলীর পর চকবাজার ঘটলো  কী করে? ¯্রফে দৈব? ¯্রফে দুর্ঘটনা? আগুন তো লাগে অন্য এলাকাতেও, তাতে মৃতের সংখ্যা এতো বেশি হয় না কেননা আগুন পুরান ঢাকার ঘনসন্নিবদ্ধ বুনটে যতোটা মানুষখেকো, যতোটা সে ডানার বিস্তার করতে পারে দাহ্যবস্তুর অঢেল প্রশ্রয়ে, অতোটা সুবিধা সে অন্য কোথাও করে ওঠে না আপাতত।

আমাদের সড়কে মৃত্যুকে যেমন দুর্ঘটনা বলে মানি না আমি, মানি না এই আগুন অথবা ভবন ধসকেও। এ ¯্রফে হত্যাকা-। যা নিয়ে আমরা ইতিহাস বদল করে ফেলার মতো, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের মতো কিছু করি না, কেননা এই হত্যার কারণ আমরা নিজেরা তৈরি করি। এখানে বহিরাগত শত্রু নেই, আমাদেরই খুন করার পথ আমরা নিজের হাতে তৈরি করি, মৃত্যুর নকশা ও সরঞ্জাম জমাই। আজকের সামান্য আর্থিক লাভের জন্য প্রতিটা খাতে অনিয়ম-অন্যায় হতে দিই, নিজেরাও করি। কোনো ছাড়পত্র, কোনো মান নিয়ন্ত্রণের তোয়াক্কা না করে বাহন চলে রাস্তায়, নির্মিত হয় বাড়ি, গুদামে রাখা হয় বিপদের মজুদ আর খাবার তৈরির প্রতিটি পর্যায়ে মেশানো হয় বিষ। চিহ্নিত শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা যায়, যুদ্ধের নামে করা যায় আরো বহুকিছু। কিন্তু আমরা নিজেরাই যখন নিজেদের গোরখোদক এবং নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের মানুষদের এমন কিছু দায় পড়েনি দেশের সবচেয়ে সস্তা জিনিস নিয়ে মাথা ঘামানোর, সেহেতু হত্যার এ প্রক্রিয়া চলবেই। সড়ক দুর্ঘটনার রূপে প্রাত্যহিক কিস্তিতে, আগুনের জিভে শত শবের আয়োজনে, ভবন ধসের হাজার ছাড়ানো মৃত্যু সংখ্যায়। সাথে নিজেরাই খেয়ে নিবো বিচিত্র বহু বিষ এবং হাসপাতালের সাথে মৃত্যুচুক্তির দফারফা না হওয়া পর্যন্ত আসা-যাওয়া জারি রাখবো। আরো আরো দূষিত করবো সমস্ত প্রতিবেশ, পানি-বাতাস-শব্দ-মাটি কিছুই ছাড়বো না। বনাঞ্চল উজাড় করবো বিদ্যুৎ ও উন্নয়নের নামে। তারপর দোষ দিবো দুর্যোগের, দৈবকে দুষবো দুর্ঘটনার দায়ে। পৃথিবীতে এতো একতার সাথে আর কোনো জাতি নিজেদের অব্যর্থ মৃত্যুফাঁদ তৈরিতে এতোটা দক্ষতা দেখায়নি, এটুকু নিশ্চিত জানি। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত