প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বললেন, জামায়াতকে ত্যাগ করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে পারলে বিএনপির পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে

আমিরুল ইসলাম : বর্তমানে দেশে বিরোধী দলগুলোর তেমন কোনো ভূমিকা নেই। সংসদেও ১৪ দলের শরিকদের মধ্যে কোন দল বিরোধী ভূমিকা পালন করবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এ অবস্থায় দেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ কী? এব্যাপারে জানতে চাইলে শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, জামায়াত ইসলামীকে ত্যাগ করে অন্য বিরোধী দলগুলোকে নিয়ে একটি জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে পারলে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে বর্তমানের ওপর। আমরা আশা করতে পারি না হঠাৎ করে কোনো কিছু পরিবর্তন হয়ে যাবে। বর্তমানে আমরা দেখতে পাচ্ছি কোথায় যেন একটা বাধা আছে, বিরোধী দল বলতে কিছু নেই। তবে আমি মনে করি এই অবস্থার হয়তো অবসান হতে পারে যদি যে বিরোধীদলগুলো আছে তারা সবাই মিলে একটা ঐক্য গড়ে তোলে। বর্তমানে যে অবস্থা আছে তাতে রাজনীতির ভবিষ্যৎ বেশি সুবিধার না। আমি মনে করি বিএনপি জামায়াতকে ত্যাগ করলে এবং অতীতের সবকিছু বদলে তারা স্বচ্ছ রাজনীতি শুরু করলে তাদের পক্ষে জনসমর্থন থাকবে। গণতন্ত্রমনা উদার কিছু মানুষকে সঙ্গে পেলে বিএনপি একটি ভালো অবস্থান তৈরি করতে পারবে। বামপন্থি দলগুলো তেমন কিছু করতে পারবে না। তাদেরও একটু সমঝোতায় আসা উচিত। এবিষয়টি কার্যকর হলে তাদের পক্ষে কিছু একটা করা সম্ভব হবে। কিন্তু বর্তমান যে অবস্থা আছে এরকম থাকলে ২০২৩ সালের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় আসবে।

‌‌‘এখন থেকে যদি সকল বিরোধী দল একটা জোট গঠন করে, বিশেষ করে এটা বিএনপির ওপর অনেকটা নির্ভর করবে, তাহলে বিএনপির পক্ষে ঘুড়ে দাঁড়ানো সম্ভব হবে। এছাড়া সম্ভব নয়। কারণ জনসমর্থন তারা পাবে না এবং সরকারও তাদের চাপের মুখে রাখবে। বিএনপি একাত্তরকে স্বীকার করে জামায়াতকে ত্যাগ করলে তাদের জন্য ভালো একটা ভবিষ্যৎ আছে। কারণ দেশের ৩০ শতাংশ মানুষ এখনো তাদের সমর্থন করে। হয়তো আরও কিছু মানুষ বিএনপিকে সমর্থন দেবে। যে সরকার ক্ষমতায় থাকে তাদের বিরুদ্ধে মানুষের একটা মতামত তৈরি হয়ে যায়। বিএনপি যদি সব বিরোধী দলকে নিয়ে কয়েক মাসের মধ্যে একটা ঐক্য গড়ে তুলতে পারে তাহলে ২০২৩ সালের নির্বাচনে তাদের পক্ষে জিতে যাওয়া অসম্ভব কিছু হবে না। তখনি আমরা দেশে সুষ্ঠু একটা রাজনৈতিক চর্চা দেখতে পাবো। বর্তমানে যেভাবে আছে সেভাবেই যদি চলে, বিএনপি যদি তাদের অবস্থান পরিবর্তন না করে তাহলে দেশের রাজনীতি এমনই থাকবে। বামদলগুলো তেমন শক্তিশালী নয়, তারা তাদের মতো করে কিছু করতে পারছে না।’

‘বামদলগুলো একটা জোট করতে পারলে খুব ভালো হতো। কিন্তু তাদের মধ্যে এতো বিভাজন যে তাদের পক্ষে একটা জোট গঠন অসম্ভব ব্যাপার। সেখানে আমি সম্ভাবনা দেখছি না। জামায়াতে ইসলামী তাদেরকে পরিবর্তন করার কথা বলছে কিন্ত যা কিছুই তারা করুক, তারা তাদের আদর্শ ছাড়বে না। পুরনো চিন্তা ভাবনা ছাড়বে না। কাজেই জামায়াতেরও ভালো কোনো ভবিষ্যৎ আমি দেখতে পাচ্ছি না। যদি এভাবে থাকে, জামায়াত কোনোক্রমেই পরিবর্তত না হলে এই দলটিরও বিএনপির মতো অবস্থা হবে। জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। তাদের যে তিন শতাংশ জনসমর্থন সেটা নিয়েই থাকতে হবে। জাতীয় পার্টিও দ্বিধাবিভক্ত, তাদের পক্ষেও ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন। আমি একমাত্র সম্ভাবনা দেখছি বিএনপির কিন্ত বর্তমান অবস্থায় বিএনপি পারবে না। যদি বিএনপি তার অবস্থান পরিবর্তন করে তাহলে তার পক্ষে জনসমর্থন ফিরিয়ে আনা সম্ভব।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত