প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চকবাজার ট্র্যাজেডি আসলে হত্যাকাণ্ড, এর দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে, বলেছেন ইকবাল হাবিব

 

কে এম নাহিদ : বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেছেন, চকবাজার ট্যাজেডি একটি নিস্ক্রিয়তার হত্যাকাণ্ড। শুক্রবার চ্যানেল আইর সংবাদপত্রে বাংলাদেশ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এটি অবহেলার হত্যাকাণ্ড এবং অতিলোভের হত্যাকাণ্ড । হত্যাকাণ্ড এজন্য বলছি, এর দায়তো রাষ্ট্রকে নিতে হবে। কারণ এখানে রাষ্ট্রের অবহেলা ছিলো। নিমতলীর ট্রাজেডির সময়। তখন এই সরকার ছিলো, এখনো এই সরকার আছে। কোন পরিবর্তন হয়নি। তখনো মৃত্যুর মিছিল ছিলো, এখনও মৃত্যুর মিছিল। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করা জাতি। আমরা পরিবেশবাদীরা আর কতো চিৎকার করবো? আমার শার্টটি রক্তে ভেজা আসাদের শার্ট হতো, তাহলে আর একটি রক্তাক্ত ২১শে ফেব্রæয়ারি হতো না। ২১শে ফেব্রæয়ারিতে আমরা আসাদের রক্তের শার্টটার কথা মনে করে, খালি পায়ে হাঁটি, এই মৃত্যুর লাশের মধ্যে একজনও কি আসাদ নেই? যেই শিশুটি জন্মালোই না ।

সে কি আসাদ হতে পারতো না? তিনি বলেন, ২০১০ সালের জুনে স¦রাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের ইকবাল খান চৌধুরীর যে সুপারিশ ছিলো তার ১৭টির মধ্যে ৬টিতে এ ব্যাপারে ব্যাপক আলোচনা করা হয়েছে। এই মজুদ, এই ব্যবসা, এখানে করা যাবে না।

আবাসিক এলাকায় করা যাবে না। ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময় বেঁেধ দেয়া হয়েছিলো, কেরানিগঞ্জে একটি শিল্প নগরী করা হয়েছিলো কিন্তু এরা যায়নি। এদের ক্ষমতার দাপট এতো বেশি তারা সরে যায়নি। এদের সাথে যুক্ত হয় বড় ব্যবসায়ীরা, এফবিসিসিআই‘র মতো বড় ব্যবসায়ীরা। তারা একবারও ভাবলো না, এই মৃত্যুর মিছিল যদি একবার বের হয় এর দায় কে নেবে? আমাদের দেখভাল করার কেউ নেই।

তিনি বলেন, বড় দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কাজ করবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এখানে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে। রাষ্ট্রের এই অসহায়ত্ব আমি মেনে নিতে পারি না। আবার সেই রাষ্ট্রকে আমি শক্তিশালি রাষ্ট্র বলবো। আইনের শাসনের সরকার বলবো। এই মৃত্যুগুলো যদি আমাদের রুখে দাঁড়ানোর চেতনাকে জাগ্রত না করে, তবে আর কিছু বলার নেই।

তিনি আরো বলেন,একটি ঘটনা ঘটবে, আমরা ক্ষতি পূরণ দিবো, সেটাই কি সমাধান? আমরা কতো ক্ষতিপূরণ দেবো? একটি প্রাণের কতো দাম? কী ক্ষতিপূরণ দেবেন, যে শিশুটি জন্মই নিলো না! দমকল বাহিনীর কর্মিরা বলেছে আগুনের লেলিহান শিখা সংকুচিত হয়ে প্রসারিত হয়েছে। কেমিক্যালের কারণে বারবার বিভিন্ন দিকে ছুটছে। সিলিন্ডারগুলো ছুটছিলো।

তিনি বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আবাসিক এলাকার সবরকম দাহ্য পদার্থের কারখানায় মজুদ নিষিদ্ধ করতে হবে। এটা সরকারের ২০১১ সালের সিন্ধান্ত, এটা কার্যকর করতে হবে। তড়িৎ পদক্ষেপ হিসেবে এই ঘটনাস্থলটির পোড়াভবনগুলো ভেঙ্গে একটি সবুজ চত্ত¡র বানিয়ে দিন, বাচ্চারা খেলাধুলা করুক,এখানে এসে সবাই এই ঘটনাকে স্মরণ করবে। এই এলাকার ঘনত্ব একটু কমানোর দরকার। যাতে কোন ঘটনা ঘটলে যানবাহন আসতে পারে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত