প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অভিনয়ের জন্য ‘ডেডিকেশন’

ডেস্ক রিপোর্ট  : সৈয়দ হাসান ইমাম, বর্তমান বয়স ৮৩ বছর। এখনো নিয়মিত অভিনয়ে করেন। গত বছর ‘পাতা ঝরার দিন’ নামে একটি টেলিফিল্মে অভিনয় করেছিলেন। টেলিফিল্মটির পরিচালনা করেছেন রেদওয়ান রনি। টেলিফিল্মটি বেশ প্রশংসিত হয়। সব বয়সী দর্শকরা মুগ্ধ হয়ে দেখেন টেলিফিল্মটি। সৈয়দ হাসান ইমামের অভিনয় নিয়ে বলেছেন পরিচালক রেদওয়ান রনি। তিনি বলেন,‘ আমাদের শুটিং হয়েছে প্রায় সবটাই রিয়েল প্লেসে। মানে রাস্তায়, বাজার কিংবা রেলস্টেশনে। শুটিং করার আগেই বলেছিলাম, এভাবে কিন্তু শুটিং করতে হবে। সে বলে দেখি কার কত দম। শুটিং যখন শুরু করি, আরে কিসের সে ৮০ বছর বয়স্ক মানুষ। সে দৌড়াচ্ছে, এক্সপ্রেশন দিচ্ছেন কখনো মন খারাপ করছেন, হাসছেন। গভীর রাতে শুটিং হয়েছে, মানুষটার মধ্যে কোন ক্লান্তি আসেনি। বরং মাঝেমধ্যে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। এই বয়সে তার যে এনার্জি ও অভিনয়ে ডেডিকেশন দেখেছি। সেটা সত্যিই মুগ্ধ করার মত। আমরা এ প্রজন্ম অনেককিছু শিখি তাদের দিয়ে।’

এটিএম শামসুজ্জামান ওয়াহিদ আনামের একটি ধারাবাহিক নাটক করার জন্য গিয়েছিলেন বরিশাল। বছর চারেক আগের ঘটনা। শুটিং হবে বরিশালের এক অজপাড়াগায়ে। ভোররাতে লঞ্চ থেকে বরিশাল সদরে নামলেন। সেখান থেকে তিনি সোজা চলে গেলেন শুটিং স্পটে। সেখানে গিয়ে সকাল আটটায় তিনি শুটিংয়ের জন্য প্রস্তুত। পরিচালক বললেন, আপনি রেস্ট নেন। বিকালে আপনার শুট নিবো। সে নাছোড়বান্দা।বললেন, আমরা তো সারাজীবন এভাবেই শুটি করে এসেছি। আরাম পাবো কই। শীতের রাতে রাজ্জাক একবার আমাকে পানি সেই করে চুবাইলো। বলতে পারিনি পরিচালককে, এই শীতে এই শট দিতে পারবো না। তাঁর বর্তমান বয়স ৭৭ বছর। এখনো অভিনয় ভালবাসেন। নিয়মিত কাজ করতে চান।

রাইসুল ইসলাম আসাদের পুরো পরিবার আমেরিকা থাকে। পরিবার বলতে মেয়ে ও স্ত্রী। তাদের রেখে তিনি বাংলাদেশে থাকেন শুধুমাত্র অভিনয়ের খাতিরে।

আমিরুল হক চৌধুরী ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না বয়সের ভাড়ে। তবে তিনি অভিনয়টা চালিয়ে যেতে চান, এখনো কোন চরিত্রে অভিনয়ের জন্য না করেন না। তিনি বলেন, নাটক সামাজিক জীবনযাপনের অংশ। কিন্তু আমরা সিনিয়র অভিনয়শিল্পীরা সঠিকভাবে সমাদৃত হচ্ছি না। আমরা এখন অনেককিছুই আশা করি না, কিন্তু নূন্যতম সম্মানটাও অনেক সময় পাই না। দুই-তিনটা সিরিয়াল করে প্রতিবেশী দেশের শিল্পীরা ফ্ল্যাট কিনে। আর আমরা যে সম্মানি পাই তা নিয়ে ওখানকার সবাই হাসাহাসি করে। আমাদের মূল্যায়ন না নির্মাতা, না চ্যানেল মালিক, না প্রযোজক-কেউ সঠিকভাবে করতে পারছে। এটা আসলে বোধের বিষয়। সিনিয়র শিল্পীকে যোগ্য মূল্যায়ন করতে গেলে আরও সম্মানি বাড়ানো উচিত। আমরা সবসময়ই আমোদের ডেডিকেশন দিয়ে অভিনয়টা করেছি।

আবুল হায়াত খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন। ঘুম থেকে ওঠে শুটিংয়ে চলে যান। শুটিং না থাকলে বই পড়ে আর সিনেমা দেখে সময় কাটান। তিনি জানান, এখনো যে কতকিছু শেখার বাকি। সবকিছুই তো নতুন লাগে। মনে হয় এটাতো আমার শেখা হলো না।

২০ বছর পর ঢাকার মঞ্চে ফিরে এলেন গ্যালিলিও, বীরদর্পে। এসেই দরাজ কণ্ঠে বললেন- `অভাগা সে দেশ, যার বীরপুত্রের প্রয়োজন`। `গ্যালিলিও` হয়েই দীর্ঘদিন পর মঞ্চে ফিরলেন আলী যাকের। তার সঙ্গে ফিরলেন তখনকার সংস্কৃতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা আসাদুজ্জামান নূরও। তিনিও ফিরলেন প্রায় ২০ বছর পর। তাদের মঞ্চে দেখতে মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে নাটকটির প্রদর্শনীতে ছিল দর্শকের উপচেপড়া ভিড়।

আলী যাকের ক্যনসারে আক্রান্ত, তার চিকিৎসা চলছে দীর্ঘদিন ধরে, আসাদুজ্জামান নূরের রাজনৈতিক ব্যস্ততা, তারপরও এসব থেকে দূরে ঠেলে দিতে পারেন তাঁদের।

উল্লেখ্য, সিনিয়র অনেকেই নিয়মিত অভিনয় করছেন। অভিনয়ের প্রতি ভালবাসার জন্যই করছেন। এখন যে তাদের টাকা পয়সার দরকার, এমনটা নয়। আর আমাদের নাটক- চলচ্চিত্রাঙ্গনে এক শ্রেনীর অভিনয়শিল্পী আছেন, শিল্প সংস্কৃতি থেকে টাকা আয় করে গার্মেন্টস করেন। ইট, কাঠের ব্যাবসা করেন। সিনেমা নিয়ে তাদের ভ্রুক্ষেপ নেই। যখন সময় ভালো ছিল, তারা ছিলেন। যখন মধু নেই, তারা নেই। দূরে বসে শুধু আফসোস করা, সিনেমা এভাবে হতে পারে ওভাবে হতে পারে।

বাংলা ইনসাইডার

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত