প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ওদের কেউ খুঁজে পাচ্ছে না

দেশরুপান্তর :  ফাতেমা তুজ জোহরা বৃষ্টি(২১) এবং তার বান্ধবী রেহসুমা তাবাসসুম দোলাকে কেউ খুঁজে পাচ্ছে না।

বুধবার রাতে রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তারা নিখোঁজ।

নিখোঁজ শিক্ষার্থী বৃষ্টি’র দাদি আয়েশা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ওরা কেউ আগুনে যায়নি। ওরা ফিরে আসবে। মনের ভেতরে মানুষ থাকে, সেই মানুষ বলছে ওদের কেউ ধরে নিয়ে গেছে। কোথাও কেউ আটকে রেখেছে। ছাড়া পেলেই আমার নাতনি আমার কোলে ফিরে আসবে’।

শুক্রবার দুপুরে পুরান ঢাকার লালবাগের রহিম বক্স লেনের ৪১/১ নম্বর ভবনের চতুর্থ তলার বাসায় গিয়ে বৃষ্টির প্রসঙ্গ তুলতেই তিনি নাতনির জন্য আহাজারি করতে করতে এমন কথা বলেন।

বৃষ্টির দাদির কান্না শুনে মা শামসুন্নাহার আরেক ঘর থেকে বেরিয়ে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলতে থাকেন, আমার মেয়ে বুধবার বিকেলে তার বান্ধবী রেহসুমা তাবাসসুম দোলার সঙ্গে বাসা থেকে বেরিয়েছিল। বাংলা একাডেমিতে আবৃতির অনুষ্ঠান ছিল। আবৃতি শেষে বাসায় ফেরার কথা ছিল। এখনো এল না।

তিনি বলেন, প্রথমে আমি যেতে দিতে চাইনি। কারণ ওর বাবা এসব পছন্দ করতেন না। তারপরও বান্ধবীরা একসঙ্গে যেতে চাইলে আর না করতে পারি নাই। মেয়ে আমার শাড়ি পড়েছিল, নিজেকে সাজিয়ে বারবার তাগিদ দিচ্ছিল আমাকেও নিয়ে যেতে। কিন্তু ছেলের কোচিংয়ের জন্য আমি যেতে পারি নাই।

তিনি বলেন, যাওয়ার সময় দুটি মোবাইল ফোন নিয়েছিল। টাকা না থাকায় আমি মাত্র একশ টাকা দিয়েছিলাম মেয়ের হাতে। বলেছিলাম, সন্ধ্যার পরপরই ফিরে আসতে। মেয়ে আমার ফিরে আসেনি। তার বান্ধবী দোলাও ফিরে আসেনি। বৃষ্টির সন্ধান পাওয়ার জন্য বাবা জসিম উদ্দিন, ভাই সাইদুল ইসলাম সানি হাসপাতালের মর্গ থেকে চুড়ি হাট্টার অগ্নিকাণ্ডস্থলে একাধিকবার ছুটে গেছেন। থানায় গেছেন। কিন্তু কেউই সন্ধান দিতে পারেনি।

সানি দেশ জানান, দুই ভাইয়ের মধ্যে বৃষ্টি ছিল একমাত্র আদরের বোন। গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের শিশু বিকাশ বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল।

বুধবার বিকেল ৫ টার দিকে চার বান্ধবী একত্রে বাংলা একাডেমিতে যান। সেখান থেকে দুই বান্ধবী ফিরে তাদের বাসায় গেলেও বৃষ্টি ও দোলার খোঁজ পাওয়া যায়নি।

বৃষ্টির মা শামসুন্নাহার বলেন, বৃষ্টি ও দোলা সমবয়সী। চতুর্থ শ্রেণি থেকে তারা একসঙ্গে অগ্রণী স্কুলে স্কুলে পড়েছে। এরপর সিটি কলেজে পড়েছে। তারপর বৃষ্টি গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে ভর্তি হওয়ার পর দোলা মিরপুর বিওপি কলেজে ভর্তি হয়। তা সত্ত্বেও তাদের বন্ধুত্বে কমতি হয়নি। এমনকি তাদের পরিবারের সঙ্গেও আমাদের বন্ধুত্ব হয়ে গেছে।

ওরা যে এভাবে একসঙ্গে হারিয়ে যাবে কল্পনাও করি নাই।

দোলার বান্ধবী সোহানা জানান, কোরাসের আবৃতি শেষ হওয়ার পর রাত পৌনে ১০ টার দিকে বৃষ্টি ও দোলা বাসায় যাওয়ার জন্য ছটফট শুরু করে। আমি ও মুন এক রিকশায় উঠি। দোলা ও বৃষ্টি এক রিকশায় ওঠে। চুড়ি হাট্টায় আগুনের কারণে যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় আমাদের বাসায় ফিরতে রাত ১১ টা বেজে যায়। কিন্তু দোলা ও বৃষ্টি এখনো ফেরেনি।

বৃষ্টির মামা আইনুল হোসেন বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মিটফোর্ড হাসপাতাল, বাংলা একাডেমি ও বিভিন্ন বান্ধবীদের মাধ্যমে তথ্য নিয়েছি। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে থানায় মিসিং ডায়েরি করতে বলা হয়েছে। সিআইডি বলেছে ডিএনএ প্রোফাইলের জন্য রক্ত দিতে।

বৃষ্টির মামা আইনুল বলেন, ভাগনির ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বর সিআইডির কাছে দেওয়া হয়েছে। সিআইডি ওই ফোন নম্বরের সর্বশেষ কল দেখিয়েছে, বুধবার রাত ১০টা ৩১ মিনিটে লালবাগের পোস্তা এলাকায়। তাই আমরা সবাই মনে করছি, বৃষ্টি আগুনের পথে যায়নি। কোথাও কোন চক্রের হাতে আটকে পড়ে আছে।

একইভাবে দোলার চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে সর্বশেষ রাত ৯ টায় কথা হয়েছিল। ওই ভাইকে শাহী মসজিদের সামনে থেকে দোলাকে নিয়ে যেতে বলেছিল। কিন্তু সেখানে দোলাকে পায়নি তার বাবা-মা ও স্বজনেরা। দোলার পিতার নাম খলিলুর রহমান ও মায়ের নাম সুফিয়া বেগম।

সুফিয়া বেগম বলেন, আপনারা আমার মেয়েকে খুঁজে দেন। পুলিশরে বলেন, ও বেঁচে আছে। ওরা কেউই আগুনের কাছে যায়নি।

উৎসঃ দেশ রূপান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত