প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢাকার চক বাজার ট্রাজেডি মালামাল ডেলিভারীর সময়
ভ্যানেই পুড়ে গেল কুড়িগ্রামের তিন যুবক

সৌরভ কুমার ঘোষ: ঢাকার চক বাজারে আগুন ট্রাজেডির শিকার হয়েছে কুড়িগ্রামের তিন হতভাগ্য তরুণ। হতদরিদ্র পরিবারকে সহায়তা করতে এই তিন যুবক কাজ নেয় ঢাকার একটি জুতোর দোকানে। ঘটনার দিন বুধবার রাত ১০টার দিকে দোকান থেকে অন্য দোকানে মালামাল ডেলিভারী করতে যায় তারা। এসময় ঘটনাস্থলেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে ভ্যানেই মৃত্যুবরণ করে তারা।

হতভাগ্যরা হলেন, সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মাঠেরপাড় শিবেরচর এলাকার আব্দুল কাদেরের পুত্র সজিব (২৩), নাগেশ^রীর উপজেলার হাজিপাড়া গোবর্ধনকুঠি গ্রামের মৃত: মোজাম্মেলের পুত্র রাজু মিয়া (১৮) ও একই উপজেলার আবু বক্করের পুত্র খোরশেদ আলম (২২)।

দুর্ঘটনায় হত এই তিন যুবককে শুক্রবার পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়। এই তিন যুবক কিশোর বয়স থেকেই কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকার চক বাজারে একটি জুতোর দোকানে কাজ নেয়। পরিবারে কর্মক্ষম এই তিন যুবকের লাশ বাড়িতে আনা হলে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে।

একমাত্র পুত্র সজিব’র মৃত্যুতে পাগল প্রায় বাবা আব্দুল কাদের। তিনি প্রলাপ বকছেন আর বলছেন; বাবারে মোর ছওয়াটাক তোমরা আনি দেও। মুই এ্যালা কার ভরসায় বাঁচিম। একমাত্র সন্তানের মৃত্যু তিনি কোনভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না।

মৃত: রাজু মিয়া’র ভাই মাসুদ জানায়, বাড়ীভিটা ছাড়া তাদের আর কিছু নেই। বাবা মারা যাওয়ার পর রাজু ঢাকায় জুতোর দোকানে কাজ যোগার করে। আর সে এলাকায় ভ্যান চালাতো। দীর্ঘ ৬/৭ বছর ধরে সে ঢাকায় কাজ করছে।

খোরশেদ আলম’র মামা নবিউল্লাহ জানান, খোরশেদ আলম বাবার একমাত্র পুত্র। ৬ শতক বাড়িভিটা ছাড়া তাদের কোন জমিজমা নেই। জুতার দোকানে কাজ করে সে দিনমজুরর বাবাকে সাহায্য করত। সেই একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে আবু বক্কর সারাক্ষণ ছটফট করছেন আর বলছেন, এ্যালা মুই কাক নিয়া থাকিম।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ দাফনের জন্য প্রত্যেক পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঢাকায় বিশ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোছা: সুলতানা পারভীন জানান, দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। তাদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত