প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অধ্যাপক মেসবাহ কামাল মনে করেন, যে দেশ ভাষার দাবিতে রক্ত দিয়েছে, সেই দেশে অন্য ভাষাভাষিরা বঞ্চিত হবে এটা লজ্জার

সৌরভ নূর : বাংলাদেশে বসবাস করা আদিবাসীদেরও রাষ্ট্র ভাষা বাংলা। তাই রাষ্ট্রের উচিত তাদের বাংলা ভাষা শিখতে আগ্রহী করে তোলা। এক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় সুইস করাতে একটি ব্রিজ সিস্টেম তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি ইংরেজি ভাষাতেও তাদের পারদর্শী করে গড়ে তুলতে হবে। যদিও কিছু এনজিও এ নিয়ে কাজ করেছে, কিন্তু তাদের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। এসমস্ত এনজিও মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। সর্বোপরি আদিবাসীদের ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা যে দেশে ভাষার দাবিতে রক্ত দিয়েছে, সেই দেশে অন্য ভাষাভাষিরা বঞ্চিত হবে এটা লজ্জার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মেসবাহ কামাল আদিবাসি জাতিগোষ্ঠীদের ভাষা নিয়ে খামখেয়ালিপনা প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে এ কথা বলেন।
এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আমাদের দেশে বাংলা ছাড়াও কমপক্ষে আরো ৪৩টি ভাষা রয়েছে। এই সমস্ত ভাষাভাষি মানুষের ভাষা অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দাবি উত্থাপিত হয়ে আসছে, অবশেষে ২০১০ সালে সরকারের শিক্ষানীতিতে ভাষা অধিকার হিসেবে এই দাবি স্বীকৃতি পেয়েছে। অবশেষে ২০১৭ সালে এসে ২০১০ সালের সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নস্বরূপ ছয়টি ভাষায় পাঠ্যপুস্তক মুদ্রিত হয়েছে। শুধু বই মুদ্রণ করলেই হবে না। দেশের কোন অঞ্চলে আদিবাসিদের কোন জাতিগোষ্ঠী বসবাস সেটার একটি নির্দিষ্ট ম্যাপ তৈরি করে সেই জাতিগোষ্ঠীর বসবাসের কাছাকাছি স্কুলে সেই ভাষার বই পৌঁছে দিতে হবে সরকারকে। তাহলেই তাদের ভাষা ও শিক্ষার অধিকার পূরণ হবে। অন্যদিকে মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে এবং শিক্ষা উপকরণসমূহ তাদের নিকট পৌঁছে দিতে হবে। কিন্তু এবিষয়ে শিক্ষামন্ত্রণালয় কিংবা সরকারের সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ বা আগ্রহ খেয়াল করা যাচ্ছে না। যতোটুকু দেখা যায় আদিবাসীদের রাজনৈতিক চাপের কারণে লোক দেখানো পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার কিন্তু তা বাস্তবায়নের অন্তরাই। এখন প্রশ্ন আসতে পারে কোন কোন ভাষাকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে? এখন পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যে সকল ভাষায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি সেসব ভাষাগুলোকে একাডেমিকভাবে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত