প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তৃণমূলে সহিংসতার আশঙ্কা

সমীরণ রায়: আসন্ন উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের তৃণমূলে সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীক নৌকায় মনোনয়ন দেওয়া হলেও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কোনো সতর্ক বাণী নেই। ফলে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে সহিংসতার আশঙ্কা তীব্র হয়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়, এ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদ দুটিও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এতে করে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে সংঘাত বাড়তে পারে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, উপজেলা নির্বাচনে যেহেতু বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, সে কারণে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে নির্বাচনী প্রতিদ্বনিন্দ্বিতার চেয়ে সহিংসতার আশঙ্কা বেশি রয়েছে। তবে নির্বাচনী মাঠে বিএনপি থাকলে ক্ষমাতাসীন দলটির অবস্থান পরিস্কার ও বিজয় সুনিশ্চিত করতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুশায়ারি থাকত। এতে নিজেদের মধ্যে সহিংসতার আশঙ্কা থাকার সুযোগ ছিলো না। দলের পক্ষ থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হতো, তার পক্ষেই কাজ করতে বাধ্য থাকতেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীক নৌকায় যাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাদের বিপক্ষে স্থানীয় প্রভাশালী নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছে। এতে যার যার সমর্থক কর্মীদের মধ্যে সহিংসতার রূপ নিতে পারে।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা মনে করেন, উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তা, দলের জন্য ত্যাগ ও গ্রহণযোগ্যতা, বিতর্কহীন নেতাদেরই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে প্রথম ও দ্বিতীয় দফায়। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম দফায়ও এভাবে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। বিএনপি হেরে যাওয়ার ভয়ে উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। এ কারণে আওয়ামী লীগও চায় প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচন হোক। সঙ্গত কারণে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্থানীয়ভাবে অনেকেই প্রভাবশালী থাকেন। তাই কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাদের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হতেই পারে, তবে দলের স্বার্থে হয়তো এমন কোনো ঘটনার অবতারণা হবে না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, উপজেলা নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে সংগঠনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যরা যাতে মনোনয়ন পান এ বিষয়েও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ আসতে পারে। একক প্রার্থী দেওয়ায় কারো নাম না এলে কেউ অসন্তুষ্টও থাকতে পারেন। অনেকে রাস্তায় পুলিশের মার খেয়েছেন ও নির্যাতন সহ্য করেছেন। কাজেই আশা-আকাঙ্খা সবারই থাকতে পারে। তবে দলের স্বার্থে সবাইকে কাজ করতে হবে। এখানে সহিংসতার আশঙ্কা বলে কিছু নেই।

সর্বাধিক পঠিত