প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নৌবাহিনীর সদস্য মেহরাবের জানাজা সম্পন্ন,পারিবারিক কবরস্থানে দাফন

মাহফুজ নান্টু: সম্প্রতি খুলনা থেকে নৌবাহিনীর ট্রেনিং শেষে চট্টগ্রামে যোগদানের উদ্দেশ্য যাওয়ার আগে কুমিল্লায় মা-বাবার সাথে দেখা করতে এসে নিজ বাড়ীর অদূরে দূর্বৃত্তের হাতে খুন হয় নৌবাহিনীর নবীন সদস্য মেহরাব। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টায় জানাযার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মেহরাবের লাশ সমাহিত করা হয়। তার আগে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের একটি দল মেহরাবের লাশের উপর জাতীয় পতাকা দিয়ে আচ্ছাদিত করে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় বেজে উঠে বিগইলের করুন সুর।

এদিকে মেহরাবের খুনের ঘটনায় নৌবাহিনীর ৯ টি ইউনিট আসে কুমিলায়। নাম না প্রকাশ করার শর্তে নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেন, খুনি কিংবা খুনিদের আটক করতে যদি পুলিশকে সহযোগিতা করার দরকার মনে হয় আমরা সর্বদা পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি।

এদিকে দূর্বৃত্তের হাতে খুন হওয়া মেহরাবের খুনিদের আটক করতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট মাঠে কাজ করছে এবং খুব শীঘ্রই খুনিদের আটক করা হবে বলে মন্তব্য করেন পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম।

তিনি জানান, ঘটনাস্থল ঘুরে তথ্য উপাত্তের জন্য ডিবি পুলিশ তিনজনকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ইউপি সদস্য কামাল হোসেন, সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক মনির ও যেখানে মেহরাবের মরদেহটি পাওয়া যায় ওই স্থানে নদী থেকে পানি উত্তোলনের জন্য যে রয়েছে ওই মেশিন চালক হারুন।

খুন হওয়া মেহরাবের ফুফাতো ভাই ইভান জানান, খুন হওয়া মেহরাবের সাথে স্থানীয়ভাবে কারো কোন রকম দ্বন্ধ ছিলো না। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অন্তত কুড়িজন জানান, মেহরাবের মত ভালো ছেলে এ অঞ্চলে খুব বেশী নেই। স্থানীয়ভাবে মেহরাব একজন ভালো ক্রিকেট খেলোয়াড় হিসেবে বেশ পরিচিত ছিলো।

ইভান আরো জানান, জানাযার নামাজে উপস্থিত নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা মেহরাবের খুনিদের আটক ও যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী বদ্ধ পরিকর।

পরে নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা মেহরাবের মায়ের সাথে দেখা করতে গেলে মেহরাবের মা সন্তান হত্যার বিচার চেয়ে আত্মচিৎকার করতে থাকেন। কোন সান্তনাই সন্তানহারা মায়ের মনকে প্রবোধ দিতে পারছিলো না। মেহরাবের মায়ের কান্নায় কেঁদে উঠেন নৌবাহিনীর সদস্যরা।

বুড়িচং থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকুল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, নিজ গ্রামেই দুবৃর্ত্তরা তাকে হত্যা করেছে। ময়নাতদন্ত শেষে আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটায় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মেহরাবকে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের আটক করেই মূল রহস্য উদঘাটন করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত