প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পরিবেশবান্ধব ও নারীবান্ধব ইমেজ মুক্তা উৎপাদনের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশে

মতিনুজ্জামান মিটু: নারীরা সহজেই এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বি হতে পারে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের(বামগই) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহসেনা বেগম তনু জানালেন, ইমেজ মুক্তা আমাদের দেশে একটি নতুন সংযোজন। চমৎকার অলংকার, সৌখিন দ্রব্য ও প্রসাধনসামগ্রী তৈরি এবং ওষুধের দামি কাঁচামাল হিসেবে ও গৃহসজ্জাসহ নানাবিধভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এই মুক্তা। এছাড়া ভ্যালু অ্যাডেড প্রোডাক্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অত্যন্ত সহজ কৌশলে এই মুক্তা চাষে সময় কম লাগে এবং উৎপাদন ব্যয়ও কম। বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী ইমেজ মুক্তা প্রযুক্তিটি পরিবেশবান্ধব ও নারীবান্ধব।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ‘মুক্তা চাষ প্রযুক্তি উন্ননয়ন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন উপাদানে তৈরী ইমেজ মুক্তার ওপর গবেষণা চালিয়ে ব্যাপক সফলতা অর্জন করে। মুক্তা হচ্ছে জীবন্ত ঝিনুকের দেহের ভিতর জৈবিক প্রক্রিয়ায় তৈরী এক ধরণের রত্ন। এই রত্নটি যখন ছবি বা ইমেজ আকারে তৈরী হয় তখন তাকে ইমেজ মুক্তা বলে। বিভিন্ন ধরনের ছাঁচ বা ইমেজকে ঝিনুকের ম্যান্টল টিস্যুর নীচেয় প্রতিস্থাপন করা হয়। প্রতিস্থাপিত ইমেজটির চারদিকে ঝিনুকের শরীর থেকে এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ (নেকার) নি:সৃত হয়ে ধীরে ধীরে ইমেজ মুক্তা তৈরী করে।

স্বল্প সময়ে, স্বল্প পুঁজিতে এবং ক্ষুদ্রাকৃতির জলাশয়ে এ ধরনের মুক্তা চাষ সম্ভব। মাছের সঙ্গে একত্রে চাষ করে মাছ চাষি বাড়তি আয় করতে পারে। বেকারত্ব দূরীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইমেজ মুক্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মোম, ঝিনুকের খোলস, প্লাস্টিক, স্টিলসহ বিভিন্ন ধরনের উপাদান ইমেজ মুক্তার ইমেজ বা ছাঁচ তৈরীতে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুক্তা গবেষণাগারে মোম এবং ঝিনুকের খোলসের তৈরী ইমেজ বা ছাঁচ দিয়ে আকর্ষণীয় ইমেজ মুক্তা উৎপাদন করা হয়েছে।

সব ঝিনুক মুক্তা উৎপাদন করতে পারে না। বিশেষ কিছু ঝিনুক আছে যেগুলো মুক্তা উৎপাদনে সক্ষম। বামগই এর জরিপে বাংলাদেশের স্বাদুপানিতে এধরণের ৪ প্রজাতির ঝিনুক পাওয়া গেছে যেগুলো মুক্তা উৎপাদনে সক্ষম। সব ধরণের ঝিনুক ইমেজ মুক্তা উৎপাদনের জন্য উপযোগী নয়। সাধারনত বড় আকৃতির সুস্থ্য সবল হলুদাভ ঝিনুক ইমেজ মুক্তা উৎপাদনের জন্য বিশেষ উপযোগী। হেমন্তের শেষে বা শীতের শুরুতে ইমেজ মুক্তা আহরণের উপযুক্ত সময়। আহরণের এক মাস আগে ঝিনুকগুলোকে পানির উপরিতলের কাছাকাছি ঝুলিয়ে দিতে হয়।

২০১২ সালে দেশে ইমেজ মুক্তা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে এ যাবত অনেককেই প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে ইমেজ মুক্তা চাষ করছেন। লালমনিরহাট, সিলেট, নেত্রকোণা ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইমেজ মুক্তা চাষ হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত