প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর মতে, ‘পুঁজিবাদের কবলে পড়ে বুদ্ধিজীবীরা’ জ্ঞান বিতরণ করেন না

মঈন মেশাররফ : শিক্ষাবিদ ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, বর্তমানে আমরা ভয়ংকর সংকটে পৌঁছে গেছি। আমাদের তিন ধারার শিক্ষা ব্যবস্থা । তার পরিণতি আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি। মাদ্রাসা শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে না , সৃষ্টি হচ্ছে বেকারত্ব এবং জঙ্গিবাদ। আবার ইংরেজী মাধ্যম থেকেউ জঙ্গি তৈরি হচ্ছে। তাদের অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ আছে কিন্তু সৃষ্টিশীল কাজ পাচ্ছে না। এগুলো পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার কারণ।

সম্প্রতি দীপ্ত টেলিভিশনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেন, পন্ডিত এবং বুদ্ধিজীবীর মধ্যে পার্থক্য আছে। পন্ডিত শুধু নিজে পড়েন। অন্যের মাঝে জ্ঞানের বিকাশ ঘটান না। আর বুদ্ধিজীবী হচ্ছেন সেই মানুষ যে নিজের জ্ঞানকে বিতরণ করেন অন্যের মাঝে। তা নাহলে সে আর বুদ্ধিজীবী থাকে না। কিন্তু বর্তমানে সবাই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে গেছেন। একজন তরুণ যদি কারো কাছে একটা লিখা নিয়ে আসে তাহলে তিনি ভাবে লিখাটা ঠিক করে দিলে তার লাভ কী? এটাও পুঁজিবাদের প্রভাব। পুঁজিবাদের প্রভাবে নিজের জ্ঞানের আলো অন্যের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার প্রবণতা কমেগেছে। স্বার্থপরাতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা পুঁজিবাদের দোষ।

তিনি বলেন, পুঁজিবাদের বিকাশের যুগ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে এটা সহিংস রুপ নিয়েছে, নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য। সর্বত্র টাকার শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা বদলাতে হবে। পুজিবাদ কিন্তু পুঁজিবাদের বিকল্প নয়। এর থেকে উন্নত ব্যবস্থায় যেতে হবে। সেটা হচ্ছে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা। এই বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারেন বুদ্ধিজীবীরা। চিন্তার উৎপাদন ও বিতরণ বুদ্ধিজীবীদের করতে হয়। কিন্তু আমরা দেখতে পাই বুদ্ধিজীবীদের চিন্তার উৎপাদন ও বিতরণকে পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থা প্রভাবিত করছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ