প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, অভাব না, লোভের আগুনে পুড়ে মরলো ১১০ জন

নূর মাজিদ : যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস চুরীহাট্টা মসজিদের অগ্নিকান্ড নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদন স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করেছে মার্কিন দৈনিকটি। যার অনুরূপ নিচে তুলে ধরা হলো।

বুধবার রাতে প্রাণচাঞ্চলে ভরপুর ছিলো পুরানো ঢাকার চুরীহাট্টা মসজিদ এলাকা। সড়ক জুড়ে ছিলো পথচারী ও যানবাহনের গতানুগতিক ভীড়। ঠিক তখনই ঘটে সেরাতের মর্মান্তিক ঘটনা। এই সময় একটি সিএনজি চালিত গাড়ির সিলিন্ডার ফেটে গেলে তার বিস্ফোরণের ধাক্কায় পার্শ্ববর্তী একটি খাবার হোটেলের গ্যাসের সিলিন্ডারগুলো বিস্ফোরিত হয়। এই বিস্ফোরণ এতই শক্তিশালী ছিলো যে এর ধাক্কায় কারটি উল্টে যায় । তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে দোযখের সূত্রপাত হয় এই ঘটনার কয়েক সেকেন্ড পরেই। মুহূর্তের মাঝেই বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট আগুনের হল্কায় পার্শ্ববর্তী একটি প্লাস্টিক কারখানার গুদাম এবং একটি আবাসিক ভবনের নিচতলায় আগুন ধরে যায়। সেখানে একটি ছোট্ট দোকানে অবৈধভাবে দাহ্য রাসায়নিক মজুদ করা হয়েছিলো। ফলে মুহূর্তেই আগুনের শিখা নরকাগ্নির আকার ধারণ করে।

এই প্রচন্ড উত্তপ্ত শিখা গ্রাস করেছে পথচারী, সাইকেল, রিক্সা, কারচালক সহ সবাইকে। এই আগুনের সামনে যে পড়েছে সে বাঁচার কোন সুযোগ পায়নি। ফলে ঐতিহাসিক পুরোনো ঢাকায় নেমে আসে এক মহাদুর্যোগ। এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১১০ জনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। যা আরো বাড়ার শঙ্কা করা হচ্ছে। তবে একদিনে বা একটি ঘটনা এই পরিস্থিতি জন্ম দেয়নি। বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশে একের পর এক প্রাণঘাতী অগ্নিকান্ডে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। পুরানো ঢাকার আবাসিক এলাকার অবৈধ রাসায়নিক কারখানা, পুরানো ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও স্থাপনা আগুনের ধব্বংসযজ্ঞের ভয়াবহতা বৃদ্ধির পেছনে মূল অবদান রাখে। এই সকল স্থাপনা সরাতে বা ভাঙ্গতে সরকারের কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার ব্যর্থতা এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁর ম্যানেজার মোহাম্মদ রাকিব জানান, আগুনের হল্কা থেকে বাচার চেষ্টা করেছিলেন এক রিক্সাচালক। কিন্তু তার শেষরক্ষা হয়নি। মুহূর্তেই আগুন তাকে গ্রাস করে। জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যান ওই রিক্সাচালক। রাকিব বলেন, আমার জীবনে আমি কোনদিন এতো ভয় পাইনি। আতঙ্কে আমি ক্যাশবক্সের টাকা রেখেই দৌড়ে পালিয়ে যাই।

এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে প্রকৌশলী নাজিমুদ্দিন আহমেদের সাক্ষাৎকার নেয় নিউইয়র্ক টাইমস। সেখানে নাজিমুদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের সমান আয়তনের এই দেশে ১৭ কোটি মানুষ বসবাস করে। তাদের অনেকেই হতদরিদ্র। তবে গত বুধবারের ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে দারিদ্রের হাত নেই। মানুষের সীমাহীন লোভ এই ট্রাজেডির জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন,(পুরোনো ঢাকায়) যারা এই সব রাসায়নিকের ব্যবসা করেন তারা সকলেই ধনী ব্যক্তি। তাদের গাড়ি আছে, বাড়ি আছে আছে বিপুল বিত্ত। তাদের সন্তানেরাও দেশের বাহিরে পড়াশোনা করেন। কিন্তু এতকিছুর থাকা সত্ত্বেও তারা লোভ সম্বরণ করতে পারেন নি।

অন্যদিকে সরকারের উচিৎ ছিলো এই লোভী ব্যবসায়িদের নিয়ন্ত্রণ করা। ২০১০ সালের নিমতলী ট্রাজেডির পর এই বিষয়ে অনেক আলোচনাও হয়েছিলো। কিন্তু বিগত দশ বছরে কোন রাসায়নিক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নেন নি। উচ্ছেদ করেন নি রাসায়নিকের গুদাম বা ব্যবসায়। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। আগুনের ভয়াবহতার পরে এখন সমগ্র চকবাজার এলাকা যেন যুদ্ধক্ষেত্রের ধ্বংসযজ্ঞ ফুটিয়ে তুলেছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত